২:৪৫ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮, সোমবার | | ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


ঋণের চাপ থেকে মুক্তি পেতে ভ্যান চালকের আত্মহত্যা

১৩ জুন ২০১৮, ০৩:৪০ পিএম | সাদি


প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে দাদন ব্যবসায়ীসহ এনজিও’র ঋণের দায় থেকে মুক্তি পেতে আইনুল সরকার (৪০) নামের এক  চার্জার রিকশা-ভ্যান চালকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মাহুতি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

ঘটনাটি ঘটেছে, মঙ্গলবার (১২জুন) উপজেলার ২নং আলাদিপুর ইউনিয়নের মেলাবাড়ি নামক গ্রামে।  আইনুল ইসলাম ওই গ্রামের আলীম উদ্দিন সরকারের ছেলে। 

আইনুল সরকারের স্ত্রী মোছা. মোমেনা বেগম বলেন, সংসারের অভাব মেটাতে চারটি এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করেন।  এনজিওদের কিস্তির টাকা  পরিশোধের জন্য স্থানীয় এক দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নেন।  রিকশা-ভ্যানের ব্যাটারি নষ্ট হওয়ায় বেশ কিছুদিন থেকে বেকার হয়ে পড়ায় এনজিও এবং দাদন ব্যবসায়ীর সুদের টাকা পরিশোধ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। 

রিকশা-ভ্যানের অচল ব্যাটারি ঠিক করার কথা বলে গত সোমবার (১১জুন) সকালে বাড়ি থেকে আইনুল বের হয়ে আর ফিরে আসেননি।  পরদিন মঙ্গলবার (১২জুন) সকালে পার্শ্ববর্তী গোয়ালডাঙ্গা দীঘির পাড়ের গাছের সাথে গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ পাওয়া যায়। 

নিহতের বড়ভাই আলমাজ সরকার ও ভাতিজা মঞ্জুরুল আলম বলেন, পাওনাদার টাকা পেলে টাকার জন্য তো দু’চার কথা বলবেই।  এগুলো মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। 

আইনুলের বৃদ্ধ মা আমিনা বেগম বলেন, গত সোমবার (১১জুন) সকালে আইনুল বাড়ি থেকে বের গেলেও রাতে ফিরেনি।  দাদন ব্যবসায়ী একই ইউনিয়নের শ্রীহরিপুর ডগড়ার পাড় গ্রামের সাবেক পুলিশ কনস্টেবল আইয়ুব আলীর ছেলে মো. বাবু দাদনের টাকা তুলতে ওইদিন রাত ৯টায় আইনুলের বাড়িতে আসে।  আইনুল বাড়িতে নেই বলার পরও সে বাড়ির বাইরের দরজার ধাক্কাধাক্কি করে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে টাকার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে চলে যায়।  অভাবে পড়ে আইনুল দাদন ব্যবসায়ী বাবু’র কাছে সুদের ওপর পাঁচ হাজার টাকা ঋণ করে। 

ওই পাঁচ হাজার টাকা এখন ১৫হাজার হয়ে গেছে।  সেই টাকা তুলতেই বাবু বিভিন্ন সময় আইনুলকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।  আইনুল আত্মহত্যা করেছে নাকী? তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এনিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। 

কথিত দাদন ব্যবসায়ী মো. বাবুকে ফোন দেওয়া হলে ফোন রিসিভ করার পর সংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরপরই অপর প্রান্ত থেকে বাবু নেই বলেই ফোনের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। 

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাসিম হাবিব বলেন, দাদন ব্যবসায়ীর হুমকি ও চাপের কারণে আইনুল আত্মহত্যা করেছে কী না সেটি তদন্ত করা হচ্ছে।  চাপ ও হুমকির বিষয়টি প্রমাণিত হলে ওই দাদন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।