৮:১৭ পিএম, ২৪ জুন ২০১৮, রোববার | | ১০ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

পণ্য ও যাত্রীবাহী সহ হাজারো যানবাহন কবলে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট

১৩ জুন ২০১৮, ০৬:২৩ পিএম | সাদি


শুভ ঘোষ, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :  মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় ঈদে ঘরমুখো মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে শিমুলিয়া ফেরি ঘাটকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে ঘাট এলাকা।  এ লক্ষে ঘাট এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত ৫ শতাধিক পুলিশ সদস্য। 

ঈদযাত্রার অংশ হিসেবে জেলার লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ বেড়েছে।  আজ বুধবার ভোর থেকেই ফেরিঘাট অভিমুখী রাস্তায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ দেখা গেছে।  এ রিপোর্ট লেখার শেষ পর্যন্ত প্রায় শিমুলিয়া ঘাটে হাজারো যানবাহনকে ফেরি পারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, বুধবার ভোর থেকেই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে।  ঘাট এলাকায় ছোট বড় ও পণ্যবাহী যানবাহন মিলিয়ে প্রায় হাজারো যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।  এর মধ্যে মোটরসাইকেল ও ছোট গাড়ির সংখ্যাই বেশি।  ২০টি ফেরি যানবাহন পারাপার করছে।  তাই কোনও সমস্যা হবে না।  মাওয়া চৌরাস্তায় একটি লেন থাকায় সেখানে একটু যানজটের সৃষ্টি হতে পারে।  তবে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ২০টি ফেরি চলাচল করছে ৪টি ঘাট দিয়ে। 

তিনি আরও বলেন, ‘রুটের লৌহজং চ্যানেলে কিছুটা নাব্যতা সংকট ছিল।  তবে বিআইডাব্লিউটিএ ড্রেজিং করায় এখন সমস্যা কিছুটা কম হচ্ছে। 

এদিকে, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক।  কোনও ট্রাক চলছে না।  ছোট গাড়ি ও যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যাই বেশি।  ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ট্রাফিক ইনচার্জ এস আই গোলাম মোরশেদ তালুকদার জানান, ‘মাওয়া চৌরাস্তায় রাস্তার কাজ ও পদ্মা সেতুর পাইলিং এর কাজ চলার কারণে সেখানে রাস্তা সরু।  যদিও এখন কাজ বন্ধ আছে, কিন্তু অসমাপ্ত কাজের কারণে রাস্তার জায়গা দখল হয়ে আছে।  এছাড়া ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের বেশ কয়েকটি জায়গায় ডাইভারশন আছে।  সেখানে গাড়ি ধীরে চলে।  আশা করছি যাত্রীদের তেমন সমস্যা হবে না। ’

ঘাট এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব, আনসার সহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাঁচ শতাধিক সদস্য ১১ জুন থেকে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগরের ছনবাড়ি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছে।  মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরজিৎ কুমার ঘোষ জানান, ‘যদি ফেরি ঠিকমতো চলে আর আবহাওয়া ভালো থাকে তাহলে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের তেমন অসুবিধা হবে না বলে আসা করা যাচ্ছে। 

অপর দিকে ৫-৬ দিন ধরে পণ্যবাহী যানজটের কবলে পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন নৌ-রুটের যাত্রীরা।  বুধবার সকাল থেকে ঘাট এলাকায় পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ আরো বেড়ে যাওয়াতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্যবাহী  যানবাহন গুলো পৌঁছাতে না পারায় বিপাকে পড়েছে ঘাট এলাকায় আটকে পড়া প্রায় ৪ শতাধিক পন্যবাহী যানবাহন চালক সহ অসংখ্য মানুষ। 

পরে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ আরো বেড়ে গিয়ে দীর্ঘ সারি বাড়তে শুরু করেছে। 

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি এর ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আব্দুল আলিম জনান,ইতিমধ্যে ঈদকে সামনে রেখে নতুন দুইটি ফেরিসহ ১৯টি ফেরি চলাচল করছে।  আগে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগলেও এখন এক থেকে দেড় ঘণ্টা পারাপারে সময় নিচ্ছে ফেরি গুলো। 

এ সময় ৪ থেকে ৫ শতাধিক যানবাহন ঘাটে অবস্থান করতে দেখা গেছে।  যাত্রীবাহী যানবাহন গুলোকে আগে প্রাধান্য দেওয়া হয়।  যার কারণে পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা বেশি বলে জানান তিনি।  এছাড়া ঘাট এলাকায় সিসি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার বাসানো হয়েছে।  পুলিশের পাশাপাশি র্যাব,আনসার সদস্য, স্কাউট অবস্থান করবে।  সিবোর্ট, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যাতায়াত না করে সেদিকে লক্ষ রাখা হয়েছে। 

তবে এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা আরো জানান, ঈদের ৩দিন আগে থেকে ঘাট এলাকায় ম্যাজিস্টেট থাকবে।  ঘাট এলাকায় কোন প্রকার অনিয়ম ঘটলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে আর সাধারণ মানুষের যেনো কোন দুর্ভোগে না পরেন তাই পন্যবাহী সকল যানবাহন পারাপার বন্ধ করে রাখা হয়েছে। 

তবে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সভা করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যাত্রীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।  এ ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ করতে মোবাইল কোর্টের সার্বক্ষণিক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।  অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাড়া যাতে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা হচ্ছে। 

এ ছাড়াও শিমুলিয়া ঘাটে সিসিটিভি ক্যামেরা সহ তিন স্তরের পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।  এ ছাড়া ওয়াচ টাওয়ার ও পুলিশ কন্ট্রোল রুম রয়েছে।  যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো প্রকার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  ধারণ ক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

এবারের ঈদে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো রকম দুর্নীতি কিংবা অবহেলা ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। 

নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম পিপি এম জানান, ঈদের সময় নৌ ডাকাতি ও দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পায়।  এসব ঘটনা মোকাবেলা করতে সর্বদা তৎপর থাকতে হবে পুলিশকে।  শিমুলিয়া ঘাট থেকে ৮৭টি লঞ্চ চলাচল করবে।  প্রত্যেকটি লঞ্চের ফিটনেস সার্টিফিকেট, সার্ভে, রুট পারমিট ঠিক থাকবে। 

বর্তমানে নদীতে চলাচলে কোনো সমস্যা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নাব্যতা সংকট সমস্যা হয় নাই।  ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।  এ ছাড়া দেশের দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দিতে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা নানা বিপত্তির মুখে পড়ে।  তারা যাতে নির্বিঘ্নে পারাপার করতে পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। 

লঞ্চ মালিক সমিতির ও মেদিনী মন্ডল আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহিন বলেন, ‘জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করব, অনিয়ম কিংবা অসতর্কতা থেকে দূরে থাকব।  গত বছরের তুলনায় ঘাটে এবার জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে দিগুণ হারে। ’

বিআইডব্লিউটিসি শিমুলয়া ঘাট এজিএম (বাণিজ্য) মো. খালিদ নেওয়াজ আরো জানান, ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও বিআইডব্লিউটিসি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।  ১৬ টি ফেরি দিয়ে পারাপার চলছিল।  ঈদকে সামনে রেখে এই বহরে চারটি ফেরি যযুক্ত হচ্ছে।  এবার মোট ২০টি ফেরি দিয়ে পারাপার চলছে।