৮:৫৫ এএম, ১৮ জুলাই ২০১৮, বুধবার | | ৫ জ্বিলকদ ১৪৩৯


গুইমারার প্রত্যন্ত পল্লীতে স্কুলে সৌর বিদ্যুৎ সেবা চালু

২৭ জুন ২০১৮, ০৮:২৫ পিএম | সাদি


এম. সাইফুর রহমান, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ি গুইমারা উপজেলা সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মাইরুং পাড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু করা হয়েছে সৌর বিদ্যুৎ সেবা। 

গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদ ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে টিআর, কাবিখা / কাবিটা প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই বিদ্যালয়ে আলোকরনের এই বরাদ্ধ দেয়া হয়। 

জানা গেছে, ২০১০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর ২০১১ ও ২০১২ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে দুই দুই বার ভেঙ্গে যায়।  ২০১৩ সালে আবার ভেঙ্গে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসীয় পক্ষে জনপ্রতিনিধি মাটিরাঙ্গা জোনে সহযোগীতা জন্য দ্বারস্থ হন। 

বিষয়টি বিবেচনা করে মাটিরাঙ্গা জোনের সেনা সদস্যরা নিজেরাই গায়ে খেটে উপরে টিনসেড ও হাফ ওয়ালসহ ফ্লোর পাকা করে ৩ কক্ষ বিশিষ্ট ভবন পুণ:নির্মাণ করে দেন।  যা ২০১৩ সালে মাটিরাঙ্গা জোনের সার্বিক সহযোগীতায় গুইমারা সেনা রিজিয়ন কমান্ডারের উদ্ভোধনের মধ্যদিয়ে মাইরুংপাড়া বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পুন:রায় আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা করে। 

সে সময় ইউএনও ড. মাহে আলম ও তৎকালিন মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: শামছুল হক ও মাটিরাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিরন জয় ত্রিপুরা সহ জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।  

কিন্তু নতুন ভবনে পাঠদান বছর দুয়েক চললেও পরবর্তীতে বিদ্যালয় পরিচালনায় এলাকাবাসী প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে না পারায় বন্ধ হয়ে যায়।  ফলে মাইরুং পাড়া, কাঠালপাড়া, ছনখোলাপাড়া, নতুনপাড়া, দীগেন্দ্র কার্বারীপাড়া, ধলিয়া পাড়াসহ আশে পাশের প্রায় ৬টি পাড়া সম্বলিত একটি বিদ্যালয় বিহীন গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয় শিক্ষা অর্জনের সুযোগ থেকে। 


সম্প্রতি এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গুইমারা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার হরি পদ্ম ত্রিপুরা ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের ঐকান্তিন প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি পুন:রায় চালু করা হয়।  ফলে আনন্দের সু-বাতাস ফিরে আসতে শুরু করে স্থানীয় এলাকার শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবদের বৃন্দের মধ্যে।  প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে।  শিক্ষা বঞ্চিত ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে বইছে নতুন উদ্যমে শিক্ষা গ্রহনের আনন্দ। 

এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য হরি পদ্ম ত্রিপুরা বলেন, এ এলাকার অভিভাবকরা অত্যান্ত দরিদ্র।  খেয়ে পরে চলতে কষ্ট হয় তাদের।  জীবিকা নির্বাহে জুম চাষ ও কৃষি মজুরী-ই নির্ভরতা তাদের।  যার ফলে শিক্ষকদের বেতনভাতাদি, শিক্ষা উপকরণ ও পাঠদানের

পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারায় বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। 
বছরের পর বছর বিনা বেতনে প্রধান শিক্ষক জ্যোতি ত্রিপুরাসহ ৪ জন শিক্ষক পাঠদানের কাজ কোন মতে অব্যহত রেখেছেন।  বর্তমানে বিদ্যালয় বিহীন এমন গ্রামের বিভিন্ন সমস্যায় জর্জড়িত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে  টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগীতা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।  



keya