২:১৪ এএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার | | ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




চট্টগ্রামে ভুল চিকিৎসায় সাংবাদিক কন্যাকে হত্যার অভিযোগ

৩০ জুন ২০১৮, ০৩:৫৯ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : গলা-ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় এবার প্রাণ হারিয়েছে সমকাল পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরোর ক্রাইম রিপোর্টার রুবেল খানের আড়াই বছরের মেয়ে রাইফা।  শুক্রবার দিনগত রাত ১২টার দিকে নগরের মেহেদিবাগে অবস্থিত ‘ম্যাক্স হাসপাতাল’-এ এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা.দেবাশীষকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। 

কিন্তু অভিযুক্ত চিকিৎসককে আটকের পর চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ‘র নেতারা নগরের সকল হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। 

একই সঙ্গে সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা না করার হুমকি দিয়েছেন তারা। 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের- সিএমপি চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, রাতে নগরের ম্যাক্স হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় সাংবাদিকের শিশু কন্যার মৃত্যুর অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্তদের আটক করি।  পর পরই চিকিৎসক সংগঠনের নেতারা থানায় এসে হুমকি দেয় এই মুহূর্তে আটকদের ছাড়া না হলে চট্টগ্রামের সকল হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়া হবে। 

তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে আটকদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।  তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে। 

ওসি আরো বলেন, ভুল ইনজেকশনের পুশ করার কারণে শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্স।  তারপরেও চিকিৎসকদের ঊর্ধ্বতন আচরণ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। 

সাংবাদিক রুবেল খান জানান, গলা ব্যথার কারণে মেয়েটি খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল।  খুবই কষ্ট পাচ্ছিল।  রাতের দিকে ব্যথা আরও বেড়ে গেলে পার্শ্ববর্তী বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে নিয়ে যাই।  সেখানে ভুল চিকিৎসায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমার রাইফা মারা গেছে।  অভিযুক্তদের আমি বিচার চাই।  যাতে আর কারো বুক এভাবে ভুল চিকিৎসায় খালি না হয়। 

এই বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।  চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মারা যাবে।  এটা মেনে নেয়া যায় না।  রাতে তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।  তদন্ত রিপোর্ট পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 



keya