৪:৩৩ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৯ মুহররম ১৪৪০


শরণার্থীদের জন্য কাব্য লিখলেন কবি মোকতার হোসেন মন্ডল

০৭ জুলাই ২০১৮, ০৪:৩২ পিএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম : জনপ্রিয় কবি তথা সাংবাদিক মোকতার হোসেন মন্ডলের লেখা 'দুই হাজার একুশ' বই প্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো কলকাতা প্রেসক্লাবে।  পৃথিবীর সকল শরণার্থীদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা শরণার্থী বিষয়ক এই কাব্যটির উদ্বোধন করেন কলকাতার বস্তি মেয়ে তথা বিশ্ব ক্যারাটে চ্যাম্পিয়ন ও তিনবারের সোনা জয়ী আয়েশা নূর।  উপস্থিত ছিলেন বইটির প্রকাশক মতিউর রহমান সহ অনেকে।  এই বই প্রকাশ অনুষ্ঠান উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  এদিন এই বই নিয়ে আলোচনা করেন উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।  পুরো অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন আয়েশা নূরের ক্যারাটে প্রশিক্ষক এম এ আলি। 

এদিন ভাষা ও চেতনা সমিতির সম্পাদক অধ্যাপক এনামুল হক বলেন, 'মোকতার হোসেন মন্ডল একজন লড়াকু সাংবাদিক।  বাবা দিনমজুর।  সেই কবি ও সাংবাদিকের এধরনের লেখনী আমাদের উদ্বুদ্ধ করে।  বাবা দিন মজুর তিনি অক্ষর মজুর।  তাই তিনি বিশ্বের সকল শরণার্থীকে বইটি উৎসর্গ করতে দ্বিধা করেননি। ' সমাজসেবী জায়েদ আনওয়ার মোহাম্মদ বলেন, সারাবিশ্বের শরণার্থী উদ্বাস্তুদের কথা তুলে ধরার জন্য কবি মোকতারকে ধন্যবাদ।  বর্তমান বিশ্বে শুধু রোহিঙ্গা সমস্যা নেই।  আছে সিরিয়া, সোমালিয়া আরও অগুনতি দেশের সমস্যা।  দুই হাজার একুশ সালে এই শরণার্থীদের কী হবে, সেই আশঙ্কা করেই এই বই। '

শিশু সাহিত্যিক মুহাম্মদ নূরুদ্দীন নিজ বক্তব্যে বলেন, 'উদ্বাস্তুদের নিয়ে যে কবির কলম থেকে কবিতা বার হয় সেই কবির মানবদরদী মন আমাদের অনুপ্রাণিত করে।  আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শুভেচ্ছা জানাই।  সে আরও এগিয়ে যাক।  মানবতার জন্য তার কলম গর্জে উঠুক।  এর আগে তার আরও একটি বই পেয়েছি পাশ্চাত্য আমার বন্ধু, সেই বইও আমার মন ছুয়ে গিয়েছে।  আমরা দেখছি সিরিয়া, রোহিঙ্গা শিশুরা নদী পেরিয়ে মরুভূমি পেরিয়ে একা অন্যদেশ পাড়ি দিচ্ছে প্রাণে বাঁচার জন্য।  তারপর সেই শিশুর বিরুদ্ধে মামলা হয়, তাকে প্রমান করতে হবে সে সেই দেশের বাসিন্দা কিনা।  তার পক্ষে কোনও উকিল থাকেনা।  এই পরিস্থিতিতে কবির কলম প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে। '

এদিনের সভায় কবির বই নিয়ে বক্তব্য রাখেন শিক্ষানুরাগী মুহাম্মদ কামরুজ্জামান।  তিনি বলেন, 'কিছু মানুষ নিজ স্বার্থ উদ্ধারের জন্য উদ্বাস্তু, শরণার্থী সমস্যা জিইয়ে রাখছে।  রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উপর মায়ানমার সরকার যে ধরনের অত্যাচার চালাচ্ছে তা লজ্জাজনক।  ধর্মের নিরিখে আজ শরণার্থীদের সঙ্গে ট্রিট করা হচ্ছে।  তাদের পক্ষে এই কাব্য লেখার জন্য কবি মোকতারকে অভিনন্দন এবং সংগ্রামী শুভেচ্ছা। 

'দুই হাজার একুশ' বইটির শুরুতেই বলা হয়েছে - আমরা রেললাইনের ধারে কিংবা প্রত্যন্ত এলাকায় যেসব ঝুপড়ি দেখে 'স্বাভাবিক' বলে এড়িয়ে যাই অথবা দুঃখ পেয়ে অন্যজনকে এক বোতল জল দিয়ে স্নান করার কাহিনী বর্ণনা করি - এই কাব্যে সেই কথা বলা আছে।  খবরের কাগজে বা নেট দুনিয়ায় যে সব শরণার্থীর গল্প শুনে চোখের পাতা বেয়ে জল পড়েছে কিংবা 'মরছে ঠিক হচ্ছে' গোছের বাক্যের ঝুড়ি নিয়ে আত্মতৃপ্ত হয়েছি - সেইসব কাহিনী 'দুই হাজার একুশ' তুলে ধরেছে।  আবার যেসব কথা কেউ কোন দিন বলেনি - কল্পনার সেই ইতিহাস এখানে এসেছে। 

হটাৎ এই ধরণের কাব্য কেন? জবাবে কবি মোকতার হোসেন মন্ডল বলেন, 'একবিংশ শতকে এসেও কোটি কোটি বছরের মানব সভ্যতাকে ত্রিপল টাঙিয়ে বা ঝুপড়িতে থাকতে হয়! একজন মানব সন্তানকে টেনে হিঁচড়ে ছিঁড়ে খায় আরেকজন মানুষ।  আসলে 'দুই হাজার একুশ' কাব্যটির প্রেক্ষাপট আজকের সিরিয়া, মায়ানমার, উপমহাদেশ সহ সারা বিশ্বের উদ্বাস্তু।  শরণার্থীদের কথা বলতে গিয়ে আধুনিক বিশ্বের জ্বলন্ত সমস্যাগুলিও চলে এসেছে কাব্যের ধারাবাহিকতায়।  'পাশ্চাত্য আমার বন্ধু' কাব্যটি উৎসর্গ করেছিলাম প্রকৃতির শ্যাওলাকে।  'দুই হাজার একুশ' প্রদান করলাম পৃথিবীর সকল শরণার্থীদের জন্য।  ইচ্ছে করেই সহজ কথাগুলিকে 'কঠিন' দিয়ে বাঁধিনি।  আলগা শব্দের সরল আবেদন, দুঃখ-যন্ত্রনাগুলি মুক্তির আহবান হয়ে আমাদের বিবেকের দরজায় ধাক্কা দিয়ে যাক, এই কামনা করি। '

মোকতার হোসেন মন্ডলের লেখা 'দুই হাজার একুশ' বইটি প্রকাশ করেছে দেশ প্রকাশন।  বইটি দেশ প্রকাশনীতে পাওয়া যাবে।  মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক শত টাকা।  বইটিতে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ দিনের ইতিহাস, সংগ্রাম, নির্যাতনসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।  এছাড়া সিরিয়ান শরণার্থীদের সমস্যার কথাও জোরালো ভাবে উঠে এসেছে এই কাব্যে।  তবে রোহিঙ্গা ও সিরিয়া শরণার্থীদের বিষয়ে এই কাব্যে জোর দেওয়া হলেও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের শরণার্থীদেরকেও মনে রেখেছেন লেখক।  তাই এই কাব্যটি পৃথিবীর সকল শরণার্থীদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন কবি মোকতার হোসেন মন্ডল।