৯:৩২ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৯ মুহররম ১৪৪০


সুনামগঞ্জর তাহিরপুরের ঘুষ দুর্নীতির অভিযুক্ত শিক্ষা অফিসার বদলি

০৭ জুলাই ২০১৮, ০৬:২১ পিএম | মাসুম


সিলেট প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ঘুষ-দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ও বিতর্কিত সেই শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফেরদৌসকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে।  তাহিরপুর থেকে জগন্নাথপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসে তাকে বদলি করা হয়। 

১১ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল তাহিরপুর শিক্ষা অফিসের দায়িত্বভার হস্তান্তর না করলে পরদিন ১২ জুলাই থেকে ওই আদেশ অবমুক্তি বা ষ্ট্যান্ড রিলিজ হিসাবে গণ্য করা হবে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরেরে ওই বদলির আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক স্বাক্ষরিত এক আদেশে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ফেরদৌসকে ওই বদলীর আদেশ প্রদান করা হয়। 

সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, ঘুষ, শিক্ষকদের হয়রানি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগে তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সিলেট বিভাগীয় উপ পরিচালক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের মহা পরিচালক বরাবর স¤প্রতি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। 

অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. বাহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে ৪ জুলাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ফেরদৌসকে বদলীর আদেশ প্রদান করা হয়। 

একই আদেশে জেলার জগন্নাথপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জয়নাল আবেদীনকে তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসাবে দ্রত যোগদান করারও নির্দেশনা দেয়া হয়। 

লিখিত অভিযোগ ও ভোক্তভোগী শিক্ষকদের সুত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসাবে মো. ফেরদৌস যোগদান করার পর থেকেই সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিপ্লব চন্দ্র সরকারের সহযোগীতায় গোটা শিক্ষা অফিসকে ঘুষ-দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে দু’হাতে টাকা কামানোর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা দোকানে পরিণত করেছেন। 

উপজেলার শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকা  মঞ্জুরীকৃত ৫ জন শিক্ষকের স্থলে  ২ শিক্ষক কর্মরত থাকা অবস্থায় সহকারি উপজেলার শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার পরস্পরের যোগসাজসে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে তার পছন্দ অনুযায়ী  প্রতিস্থাপন ছাড়াই অন্য একটি বিদ্যালয়ে ১৫মে তড়িগড়ি বদলি করেন। 

অভিযোগ রয়েছে, সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার পরস্পরের  যোগসাজসে ইতিপুর্বে উপজেলার  কমপক্ষে ১৫ শিক্ষককে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে প্রতিস্থাপন ছাড়াই লিখিত-অলিখিত ভাবে ওই শিক্ষকদেরকে নিজেদের পছন্দমত অন্যত্র বদলি করেছেন। 

শুধু মাত্র বদলির সুপারিশ আর বদলিতেই ঘুষ নয়, শিক্ষকদের ছাড়পত্র প্রদান, এরিয়া বিল, কনজ্যুমার  ঋণের প্রতি স্বাক্ষরে প্রত্যেক শিক্ষককের নিকট থেকে ১ হাজার টাকা করে, বিনোদন, পেনশন, পেনশনের ছুটি অনুমোদন, ভাতা, চিকিৎসা ছুঁটি, দ্বীর্ঘ দিন অনুপস্থিত থাকা শিক্ষকদের বেতন ছাড়f সহ শিক্ষা অফিসের এহেন কোন খাত অবশিষ্ট নেই নেই যে খাত থেকে ওই গুনধর দু’শিক্ষা অফিসার ঘুষ আদায় করেননি। ’

তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ফেরদৌসের বক্তব্য জানতে শনিবার ফের কয়েক দফা ওনার ব্যাক্তিগত মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় উনার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।