৪:০৭ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | | ১০ মুহররম ১৪৪০


নেত্রকোনা কেন্দুয়ায় স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর না করায় প্রধান শিক্ষককে মারধর

০৭ জুলাই ২০১৮, ১০:১২ পিএম | নকিব


জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোনা প্রতিনিধি : স্বাক্ষর না করায় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার জয়কা সাতাশি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র সরকারকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

শনিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বাঙ্গালী, এবং তার লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক, এ ঘটনায় আহত প্রধান শিক্ষক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। 

প্রধান তপন চন্দ্র সরকার জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলে আসছিল।  সম্প্রতি তা নিষ্পত্তি হওয়ায় বোর্ড পুনরায় এড্হক কমিটি গঠনের অনুমতি দেয়।  এরইপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন এড্হক কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বাঙ্গালী আমার কাছে এমপি মহোদয়ের ডিও লেটার জমা দেন। 

পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল হক ফকির বাচ্চুও সভাপতি প্রার্থী হিসাবে গত ২৬ জুন এমপি মহোদয়ের ডিও লেটার জমা দেন।  কিন্তু আব্দুস সালাম বাঙ্গালী ডিও লেটার দেওয়ার পর থেকেই আমার উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। 

ইতোমধ্যে আমি জেলা শিক্ষা অফিস থেকে একজন শিক্ষক প্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের কাছ থেকে একজন অভিভাবক প্রতিনিধির মনোনয়নপত্র নিয়েছি।  ৮ জুলাই রবিবার এড্হক কমিটির প্রস্তাব জমা দিতে কাগজপত্র নিয়ে বোর্ডে যাওয়ার কথা। 

শনিবার বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে আব্দুস সালাম বাঙ্গালী ও তার লোকজন নিয়ে ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে আমার উপর চাপ সৃষ্টি করে।  আমি ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপর হামলা করে মারধর শুরু করে এবং জোর করে আমার স্বাক্ষর নেয়।  বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। 

অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বাঙ্গালীর সাথে কথা হলে তিনি প্রধান শিক্ষককে মারধর করা ও জোর করে ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, গত তিন বছর ধরে বিদ্যালয়ে কমিটি নেই।  কমিটির প্রস্তাব বোর্ডে পাঠানোর জন্য তিন মাস আগে এমপি মহোদয় ডিও লেটার দেন।  কিন্তু প্রধান শিক্ষক এমপির ডিও লেটারকে কোনো রেসপন্স না করায় আমরা তাকে দ্রুত বোর্ডে প্রস্তাব পাঠানোর জন্য বলতে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম।  তখন তিনি আমাদের দেখে দৌড়ে স্কুল থেকে চলে যান। 

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমারত হোসেন গাজী জানান, বিষয়টি শুনেছি।  এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক যদি থানায় লিখিত অভিযোগ দেই তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।