৯:০৫ এএম, ১৮ জুলাই ২০১৮, বুধবার | | ৫ জ্বিলকদ ১৪৩৯


পাবনার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২য় ইউনিটের নির্মাণ কাজ শুরু

০৯ জুলাই ২০১৮, ১০:৪০ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : পাবনার রূপপুরে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে ১৪ জুলাই শনিবার।  এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। 

এরই মধ্যে বাংলাদেশ এটমিক এনার্জি রেগুলেটরি অথরিটি (বিএইআরএ) আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় ইউনিটের নকশা এবং নির্মাণ কাজের লাইসেন্স বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের (বিএইসি) কাছে হস্তান্তর করেছে। 

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের দেশগুলোর ক্লাবের (বিশ্ব পরমাণু ক্লাব) সদস্য হয়েছে।  আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুযায়ী মূল নির্মাণকাজ শুরুর আগে এই লাইসেন্স গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। 

গত বছরের ২১ জুন বিএইআরএ রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের লাইসেন্স দেয় এবং ৪ নভেম্বর প্রথম ইউনিটের নকশা এবং নির্মাণ কাজের লাইসেন্স দেয়।  ৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম ইউনিটের মূল নির্মাণ কাজের (এফসিপি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি অনুসারে এটি নির্মাণের জন্য সাড়ে পাঁচ বছর সময় পাবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান।  সে অনুযায়ী ২০২৩ সালের জুনে কেন্দ্রটির এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট এবং ২০২৪ সালের এপ্রিলে একই ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট চালু হওয়ার কথা। 

এ প্রকল্পে রাশিয়ার উদ্ভাবিত সর্বাধুনিক (থ্রি প্লাস জেনারেশন) 'ভিভিইআর-১২০০' প্রযুক্তির পরমাণু চুল্লি ব্যবহার করা হবে। 

প্রকল্প ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া।  দেশটির ঠিকাদার ইতিমধ্যে প্রকল্প সাইটে কাজ করছে।  এছাড়া ভারতের গ্লোবাল সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার এনার্জি পার্টনারশিপ (জিসিএনইপি) কে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ এবং তদারকির জন্য পরামর্শক সংস্থা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিএইসি। 

রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে মোট ব্যায় ধরা হয়েছে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার।  যার মধ্যে রাশিয়া ঋণ হিসেবে দেবে ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার।  আর ভারত ঋণ দেবে এক বিলিয়ন ডলার।  বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে। 

২০১০ সালের ২১ মে পারমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ও রাশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে চুক্তি হয় মস্কোতে।  আর ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দুই হাজার চারশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার দুটি চুল্লি নির্মাণে রাশিয়ার এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। 

২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে সরকার বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদী যেসব প্রকল্প হাতে নেয়, তার একটি রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র।  এই কেন্দ্রটি থেধকে ষাট বছর ধরে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। 

রূপপুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পটুয়াখালীর পায়রাতেও আরও একটি বড় আকারের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা আছে সরকারের। 



keya