১০:৪৮ এএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | | ১০ মুহররম ১৪৪০


ইন্টারনেট ব্যবহারে টার্কি মুরগী চাষ করে সফল দুই বন্ধু

১২ জুলাই ২০১৮, ০৬:২৯ পিএম | মাসুম


মাতুব্বর শফিক স্বপন,মাদারীপুর: পশ্চিমা দেশগুলোতে বেশ জনপ্রিয় হলেও আমাদের দেশে মাত্র পরিচিতিপেতে শুরু করেছে টার্কি।  জন্মের ৬ মাস বাদেই ডিম দেয়া শুরু করেও ওজন হয় পাঁচ থেকে আট কেজি।  স্থানীয় বাজারের তেমন পাওয়া না গেলেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে টার্কির চাহিদা। 

ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের টার্কি পালন দেখে সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে, স্বল্প পুজি নিয়ে মাদারীপুরের ও কাওছার অন্য পেশায় থাকলেও অনেকটাই সফল ফার্ম টার্কির চাষ করে।  সুস্বাদু এ টার্কির মাংস, ডিম ও বাচ্চা কিনতে তার এ খামারে এখন অনেকের ভিড়। 

শুধু তাই না তার খামারে কয়েকজন বেকার মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে।  সার্বিক সহযোগীতা পেলে এই টার্কি চাষ হয়ে ওঠতে পারে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ন খাত। হাঁস, মুরগীসহ অন্যান্য পাখির চেয়ে টার্কির মাংসে চর্বির পরিমান অনেক কম আর খেতেও সুস্বাদু।  টার্কি লালন পালনে খরচ কম।  কলমি শাক, বিভিন্ন জাতের ঘাস ও লতাপাতাই টার্কির খাবার এসব ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেখে ২০১৭ সালে এপ্রিল মাসে ১৪০টি টার্কি মুরগী নিয়ে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের দুই বন্ধু ফাস্ট ফার্ম নাম দিয়ে শুরু করে এবং ৯মাসের মাথায় প্রায় ২লক্ষ টাকার বাচ্চা ,ডিম ও মুরগী বিক্রি করে।  এখন তাদের খামারে বাচ্চাসহ ডিমপাড়া মুরগী প্রায় হাজারের উপরে। 

এরপর প্রতিমাসে ডিমবিক্রি ছাড়াও ১হাজার মুরগী বিক্রি করতে পারে এই খামার থেকে। টার্কি মুরগির মাংসের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাণিজ্যিক ভাবে টার্কির খামার গড়ে তুলতে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন ফাস্ট ফার্মের দুই বন্ধু।  তাছাড়া টার্কি চাষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠায়, বাড়ছে খামারির সংখ্যা। 

টার্কি মুরগী ও খামার দেখতে আসা ক্রেতা ও দর্শনার্থী বদরপাশা ইউনিয়নের জামাল, ও হৃদয় জানান, এই খামার দেখে আমাদেরও ইচ্ছে হয়েছে টার্কি মুরগীর চাষ করার- তাছাড়া আমরা জানি এই মুরগীর মাংস খেতে খুব সু-স্বাদু। 

টার্কি মুরগীর সফল খামারী দুই বন্ধু সম্রাট শেখ ও কাওছার হাওলাদার জানান, বন্ধুর প্রেরণায় এই খামার করে এক বছরের মাথায়
একটা সফলতার মুখ দেখেছি।  তাছাড়া আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আগামীতে ছাগল ও হাঁস পালন করবো।  এটার মাধ্যমে দেশের উপকার হবে, আমদেরও আত্ম-কর্মসংস্থান হবে

মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মো. আজাহারুল ইসলাম জানান, এরকম একটি সুন্দর উদ্যোগ নিয়ে
সফল হওয়ার কারনে তাদেরকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসানের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি । 

তাছাড়া যদি কোন ধরনে আর্থিক সহযোগীতা প্রয়োজন হয় তাও প্রশাসনে পক্ষ থেকে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। দিনে দিনে টার্কির মুরগীর মাংসের চাহিদা বাড়ছে এবং টার্কি মুরগীর জনপ্রিয় হয়ে উঠায় এর খামারের সংখ্যাও বড়াছে। খামারীরা যদি সরকারি উদ্যোগ বা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে খামার করতে পারতো তাহলে দেশের অর্থনীতিতে অনেক বড় অবদান রাখবে বলে মনে করেন টার্কি মুরগী খামারীরা।