৫:৪৫ এএম, ১৯ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৬ জ্বিলকদ ১৪৩৯


মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে:সংসদে প্রধানমন্ত্রী

১২ জুলাই ২০১৮, ০৯:০৪ পিএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম : কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির বাসভবনে যারা হামলা চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তাদের কাউকে ছাড়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে।  

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।  

কোটা ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় রয়ে গেছে।  যে রায়ে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষিত থাকবে।  আমরা কি হাইকোর্টের ওই রায় ভায়োলেট করব? সেটা তো আমরা করতে পারছি না।  অতএব মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে। 

যদিও সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ১১ এপ্রিল সংসদে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘বারবার এই আন্দোলন.. ঝামেলা মিটাবার জন্য কোটা পদ্ধতি বাতিল; পরিষ্কার কথা; আমি এটাই মনে করি, সেটা হল কোটা পদ্ধতি বাতিল। ’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ওই বক্তব্যের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি তো বলেছিলাম টোটাল কোটা পদ্ধতি বাদ দিতে।  কিন্তু হাইকোর্টের রায় রয়েছে।  এই রায় অবমাননা করলে তো আমি কনটেম্পট অব কোর্টে পড়ে যাব।  আমি তো সেটি করতে পারি না। ’ 

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে কোটা পদ্ধতি ‘বাতিলে’ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর যে কমিটি গঠিত হয়েছিল সে কথা তুলে ধরে আজ সংসদে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তো কেবিনেট সেক্রেটারি দিয়ে একটি কমিটিও করে দিয়েছি।  তারা সেটা দেখছে।  তাহলে আর অসুবিধাটা কোথায়?’

ঢাবি ভিসির বাসভবনে হামলাকারী মধ্যে যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যত আন্দোলনই হোক না কেন এদের ছাড়া হবে না।  তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে।  কারণ এরা লেখাপড়া শিখতে আসেনি। ’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা কি কোনো শিক্ষার্থীর কাজ? এটা কি কোনো শিক্ষার্থী করতে পারে? কথায় কথায় বলে ক্লাস করবে না।  ক্লাসে তালা দেয়।  ক্ষতিগ্রস্ত কারা হবে? আমরা সেশনজট দূর করেছি।  এদের কারণে এখন আবার সেই সেশনজট। ’

উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।  ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ সরকারি চাকরিতে এ কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে গত কয়েক মাস ধরে সারা দেশে বিশেষত ঢাকায় দফায় দফায় আন্দোলন চালিয়ে আসছে।  এর মধ্যে একাধিক আন্দোলনকারীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।  রিমান্ডে আছেন কেউ কেউ।