১২:১২ এএম, ২১ জুলাই ২০১৮, শনিবার | | ৮ জ্বিলকদ ১৪৩৯


চিটাগাং চেম্বারে বাণিজ্য প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে আগ্রহী সিঙ্গাপুর

১৩ জুলাই ২০১৮, ০৯:৩৮ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : সিঙ্গাপুরের ২৫ সদস্যবিশিষ্ট বাণিজ্য প্রতিনিধিদল ১২ জুলাই সকালে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র বোর্ড অব ডাইরেক্টর্স, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও স্টেকহোল্ডারদের সাথে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। 

চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম’র সভাপতিত্বে এ সময় সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশন (এসবিএফ)’র চেয়ারম্যান টিও সিয়ং সেং (Mr. Teo Siong Seng), বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলাপমেন্ট অথরিটি (বিডা)’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম. আমিনুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ইকনোমিক জোনস্ অথরিটি (বেজা)’র নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী, চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, তুর্কির অনারারী কনসাল সালাহ্উদ্দীন কাসেম খান, ইতালীর অনারারী কনস্যুল মীর্জা সালমান ইস্পাহানী ও উইম্যান চেম্বারের সহ-সভাপতি মুনাল মাহবুব বক্তব্য রাখেন।  চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ’র চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ বন্দর সম্প্রসারণ বিষয়ে তথ্য চিত্র উপস্থাপন করেন। 

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম চট্টগ্রামকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম, মংলা, পায়রা বন্দরের উন্নয়ন এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন।  তিনি চিকিৎসা প্রার্থী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের জন্য চট্টগ্রামে সিঙ্গাপুরের ভিসা সেন্টার ও বিভিন্ন হাসপাতালের বুথ স্থাপনের অনুরোধ জানান। 

যোগাযোগের সুবিধার্থে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর বিমান চলাচল চালু করা, সরকারি পর্যায়ে জনশক্তি রপ্তানিতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন এবং এক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।  তিনি বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে অন্যান্য দেশে বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানি করতে প্রতিনিধিদলের প্রতি আহবান জানান। 

সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশন (এসবিএফ)’র চেয়ারম্যান টিও সিয়ং সেং বলেন-বাংলাদেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইটি খাতে সিঙ্গাপুর বিনিয়োগে আগ্রহী।  উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণসহ সার্বিক সহযোগিতা করবে সিঙ্গাপুর।  এছাড়া ব্লু ইকনোমি, পাওয়ার, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সিঙ্গাপুর কাজ করতে বদ্ধ পরিকর। 

তিনি আরো বলেন-সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের বেসরকারী খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনে আগামীতে সহযোগিতা প্রদান করবে।  আর্থিক খাতে দক্ষিণ এশিয়ায় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে সিঙ্গাপুরের।  বন্দরের কারণে চট্টগ্রাম বিনিয়োগের উপযুক্ত স্থান বলেও উল্লেখ করেন টিও সিয়ং সেং। 

বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলাপমেন্ট অথরিটি (বিডা)’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম. আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার উল্লেখ করে বলেন-সকলের অবদানের কারণে এদেশের প্রতিনিয়তঃ প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।  তিনি আগামী দিনের ব্যবসা-বাণিজ্য নলেজ বেইজড্ এর মাধ্যমেই সম্পাদিত হবে বলে মন্তব্য করে এক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তাদের সাথে ব্যবসায়ীদের কাজ করার উপর গুরত্বারোপ করেন। 

বাংলাদেশ ইকনোমিক জোনস্ অথরিটি (বেজা)’র নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন-দেশের অর্থনীতির অব্যাহত অগ্রযাত্রায় চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।  তিনি বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের ব্যবসাবান্ধব আইন পরিবর্তনের প্রসংগ উল্লেখ করে ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রদানসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা, বাংলাদেশ তথা চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের চলমান এবং ভবিষ্যত বিভিন্ন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন।  চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ ধন্যবাদজ্ঞাপন সূচক বক্তব্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। 

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিটাগাং চেম্বার পরিচালকবৃন্দ কামাল মোস্তফা চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), মোঃ জহুরুল আলম, মোঃ রকিবুর রহমান (টুটুল), অঞ্জন শেখর দাশ, মোঃ আবদুল মান্নান সোহেল, বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুর’র সভাপতি মোঃ শহীদুজ্জামান ও প্রাক্তন সভাপতি মির্জা গোলাম সবুর, জাপানের অনারারী কনস্যুল জেনারেল মোঃ নুরুল ইসলাম, ইপিবি’র পরিচালক কংকন চাকমা, চিটাগাং ক্লাব লিঃ’র চেয়ারম্যান মিয়া মোঃ আব্দুর রহিম, চেম্বার প্রাক্তন পরিচালকবৃন্দ মাহফুজুল হক শাহ, ওয়াসিউর রহমান চৌধুরী ও মোহাম্মদ মহসিন, বিকেএমইএ’র সাবেক পরিচালক শওকত ওসমান, উইম্যান চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবিদা মোস্তফা,

লুব-রেফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ইউসুফ, ব্যবসায়ী নেতা তাহের সোবহান, বিডা’র উপ-পরিচালক সুমন চৌধুরী, সরকারী উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, পিএইচপি, কেএসআরএম, বিএসআরএম প্রতিনিধিসহ অবকাঠামো, পোর্ট এন্ড লজিস্টিকস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী, শিপিং, আইটি, রিয়েল এস্টেট, আর্থিক খাত, কন্সালটেন্সি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন খাতের সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশী সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

সভাশেষে প্রতিনিধিদলের সাথে বর্ণিত সেক্টরের সিঙ্গাপুর প্রতিনিধিদলের সাথে বিজনেস ম্যাচিং সেশন অনুষ্ঠিত হয় এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এক্সিবিশন হল, লুব-রেফ ও পিএইচপি  গ্রুপ পরিদর্শন করেন। 



keya