৮:২৮ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় আনতে কাজ করছে সরকার

১৩ জুলাই ২০১৮, ১২:০০ পিএম | জাহিদ


সুমন্ত চাকমা, জুরাছড়ি প্রতিনিধি : বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে-সেই সাথে সাথে পার্বত্য অঞ্চলও আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছে।  তবে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের গতি আর সমতলে উন্নয়নের গতির মধ্যে একটু পার্থক্য রয়েছে। 

এই পার্থক্য যাতে না তাকে সমতলের পাশাপাশি সরকার পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যেকটি জনগণ ও জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার জুরাছড়ি উপজেলায় সম্মেলন কক্ষে জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, হেডম্যান-কার্ব্বারী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আইন-শৃংখলা, মানসম্মত শিক্ষা, দুনীতি দমনসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম ও উন্নয়ন মূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা ও মতবিনীময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ একথা বলেন। 

জেলা প্রশাসক আরো বলেন ইতি মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উটক্ষেপণ করা হয়েছে।  সমুদ্র বিজয়ের মত মহাশূণ্য বিজয় করেছে এই সোনার দেশ।  আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এর ফলে যখন সুফল পাওয়ার আশা রয়েছে।  বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সুফল এই দেশের মধ্যে সব চেয়ে বেশী পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত মানুষ উপকৃত হবে।  যে সব দুর্গম এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, টেলিভিশন দেখা যায়না -সেখানে মোবাইল নেটওয়াক পাওয়া যাবে এবং  খুবই সহজে টেলিভিশন দেখতে পারবে। 

এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান উদয় জয় চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালী দেওয়ান, থানা অফিসার ইনর্চাজ মোঃআব্দল বাছেদ, জুরাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ক্যানন চাকমা, বনযোগীছড়া সন্তোষ বিকাশ চাকমা, মৈদং সাধাসা নন্দ চাকমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিপাশ খীসা, শিক্ষা কর্মকর্তা কৌশিক চাকমা, রিসোস সেন্টারের ইন্সেট্রাক্টর মোঃ মরশেদুল আলম,ছাত্র লীগের সভাপতি জ্ঞন মিত্র চাকমা, বিভিন্ন মৌজার হেডম্যান, কার্ব্বারী ও গন্যব্যাক্তিবর্গসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। 

এ সময় স্থানীয় সাংবাদিক সুমন্ত চাকমা জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আর্কষন করে বলেন, বিগত ২০০৯ সালে পার্বত্য এলাকায় সিএইচটিডিএফ-ইউএনডিপি মৌলিক শিক্ষা কর্মসূচীর আওয়াতায় তিন পার্বত্য জেলায় ২১০টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়।  তার মধ্যে জুরাছড়ি উপজেলায় ২৫টি বিদ্যালয় রয়েছে। 

এসব বিদ্যালয়ে ১শ জন শিক্ষক খেয়ে না খেয়ে বিনা বেতনে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।  সরকার বিগত ২০১৬ সালে এসব বিদ্যালয় জাতীয় করনের আওয়াতায় আনলেও শিক্ষকদের ভবিষ্যত (অথাৎ জাতীয়করণ) এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। 

এদিকে ঘিলাতরী গ্রামের স্থানীয় কার্ব্বারী অনিল কুমার চাকমা বলেন, গ্রামের আইন শৃংখলা রক্ষার কাজে কার্ব্বারীরা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।  অথচ তাদের সম্মিলিত ভাবে উপজেলায় বসার মত একটি জায়গা নেই। 

এছাড়া চাকমা রাজা উপজেলা নতুন ভাবে ৫০ জন কার্ব্বারী নিয়োগ দিলেও সরকারী ভাবে এখনো তারা ভাতা পাচ্ছেনা।  সুতরাং কার্ব্বারীদের সম্মানি ভাতা কার্যকর ও রাস্ব কার্ব্বারীদের ভাতা বৃদ্ধি ও উপজেলায় অফিস নির্মানের জন্য জেলা প্রশাসকে অনুরোধ জানান।  এছাড়া এ সময় সভায় বিভিন্ন দপ্তরে পদ শূন্য ও সমস্যার কথা তুলে ধরের স্ব-স্ব দপ্তরের কর্মকর্তাগণ। 

এ সবের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, শিক্ষার প্রসারে শিক্ষকের প্রয়োজন।  অথচ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বছর বছর ধরে শিক্ষকের পদ শূণ্য পরে তাকে খুবই দুঃখজনক। 

এছাড়া উপজেলা হিসাব রক্ষক, যুব উন্নয়ন, পরিসংখ্যানসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে জনবল শূন্যতা খুবই উদ্বেগ জনক।  উপস্থাপতি সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে উদ্ধোধন কর্তৃপক্ষের আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানান। 

আলোচনা ও মত বিনীময় সভা শেষে উপজেলা প্রশাসন জুরাছড়ি কর্তৃক নির্মিত ”জুরাছড়ি” অ্যাপস উদ্ভোধন করেন।  এছাড়া একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের ১লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ১০ জন সুবিধাভোগীদের মাঝে ঋন বিতরণ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর উদ্বৃত্ত বরাদ্দে তিনটি প্রাথমিক ও ১টি উচ্চ বিদ্যালয়ে ড্রাম সেট, পানছড়ি ভুবন জয় সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রদের স্কুল ড্রেস এবং বহেরা ছড়ি বাদ্য দলকে ড্রেস ও বাদ্য যন্ত্র বিতরণ করা হয়। 

উল্লেখ্য এর আগে জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ চকপতিঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরির্দশন ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর উদ্বৃত্ত বরাদ্দে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্কুল ড্রেস বিতরণ, চকপতিঘাট কমিনিউটি ক্লিনিক, জুরাছড়ি থানা, ভুবন জয় সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।  পরে রাঙামাটি জেলা পরিষদের নব নির্মিত শহীদ মিনার উদ্ভোধন ও শহীদদের স্মরণে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন। 



keya