১২:৩৯ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


এসএনএন২৪.কম : চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায় জড়িতদের ক্ষমা করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠক এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।  একইসঙ্গে তিনি ঘটনার জন্য ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।  এছাড়া হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া চার যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকেও লিখিতভাবে সাংবাদিকদের ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) সাংবাদিক নেতাদের কাছে পাঠানো এক অনুরোধপত্রে রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত জ্ঞান নেই।   আমি তাদের চিনি না, জানি না।   কারা তাদের পরিচালনা করেছে সে সম্পর্কেও আমি জ্ঞাত নই।   তারপরও বলি, এদেশের সকল ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আমি এইজন্যে আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। 

‘নেহায়েত আবেগের বশবর্তী হয়ে যারা ভুল করেছে তাদের ক্ষমা করার মহত্ত্বতা আপনাদের রয়েছে, এটা বিশ্বাস করি।   তা-ই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে সম্যক বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে জেলহাজতে আটক তরুণদের মুক্তিদানে এবং মামলা থেকে অব্যাহতিদানে মানবিক বিবেচনায় মানবিক বিবেচনায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন-এই প্রত্যাশা করি। ’ বলেন রানা দাশগুপ্ত। 

তিনি বলেন, আন্দোলন মানে উচ্ছৃঙ্খলতা নয়।   আমরা আন্দোলনের নামে যে কোন ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতার বিরোধী।  কেননা তা হঠকারিতারই নামান্তর।  প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় রানা দাশগুপ্ত বেদনাহত, বিচলিত ও ক্ষুব্ধ বলে পত্রে উল্লেখ করেছেন। 

গত ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঐক্যবদ্ধ সনাতন সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন থেকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক প্রেসক্লাবে হামলা, ভাংচুর এবং সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করে।   এসময় তারা একুশে টেলিভিশনের গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চার যুবককে আটক করে।    

এই ঘটনায় ৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ এবং আক্রান্ত সাংবাদিকদের পক্ষে বাংলানিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রমেন দাশগুপ্ত বাদি হয়ে কোতয়ালি থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। 

গ্রেফতার হওয়া আসামি অজয় দত্তের মা ফুলু দত্ত, পিয়াল শর্মার মা চম্পা শর্মা, নয়ন সরকারের মা রীনা সরকার এবং অনুভব মজুমদারের মা রুপসী সরকার লিখিতভাবে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠি দিয়েছেন। 

তারাও জানিয়েছেন, সন্তানের ঔদ্ধর্ত্যপূর্ণ আচরণ তারা কোনভাবেই সমর্থন করেন না।   কিন্তু তারা চারজনই সাংবাদিকদের সন্তানতুল্য।  

মানবিক দিক বিবেচনায় গ্রেফতার হওয়া চারজনকে সন্তান মনে করে তাদের ক্ষমা করে দেয়ার অনুরোধ করেছেন। 

এদিকে সম্মিলিতভাবে প্রেসক্লাব ও সিইউজের কাছে চিঠি দিয়েছেন সনাতন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।   তারাও ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করে কারাগারে থাকা চার যুবককে ক্ষমা করে দেয়ার অনুরোধ করেছেন।  

এতে স্বাক্ষর করেছেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি দেবাশীষ পালিত ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, মহানগর কমিটির সভাপতি কাজল কান্তি দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক রত্নাকর দাশ টুনু, উত্তর জেলা কমিটির নির্মল কান্তি দাস ও সাধারণ সম্পাদক গৌতম পালিত, দক্ষিণ জেলা কমিটির বাবুল ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক ঝুন্টু চৌধুরী এবং পূজা উদযাপন পরিষদের মহানগর শাখার সভাপতি অরবিন্দ পাল ও সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাশ, দক্ষিণ জেলার সভাপতি বাবুল ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার দে, উত্তর জেলার সভাপতি অমৃত লাল দে ও নির্মল কান্তি দাশ। 

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী বলেন, ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করে তিনটি পৃথক চিঠি আমরা পেয়েছি।  সম্মিলিতভাবে বৈঠকে বসে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 

সম্পাদনা : চৌধুরী-৩/এসএনএন-১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬