১১:০১ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১২ সফর ১৪৪০


ঝালকাঠি সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ড্রয়িং শেখার জন্য চাপ

২৯ জুলাই ২০১৮, ০৪:৩১ পিএম | জাহিদ


মো.রাজু খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি হরচন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীদের গত মঙ্গলবারে শ্রেণি কক্ষেই ড্রয়িং শিক্ষক অর্পনা দাস শিক্ষার্থীদের বলেন, “শুক্রবার আমার বাসায় ড্রয়িং শিখতে যেতে হবে।  যে না যাবে তার খবর আছে। ”

এ কথাটি ছাত্রীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছে পৌছে যায়।  এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তোলপাড় হতে শুরু করে।  এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বাইরের ড্রয়িং কোচিং সেন্টারের একটি সিন্ডিকেট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেয়াসহ অপপ্রচার শুরু করে। 

বিদ্যালয়ে হিন্দু শিক্ষক স্বল্পতার কারণে ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হিন্দুধর্ম পরীক্ষার খাতা ওই ড্রইং শিক্ষিকা (হিন্দু) দেখায়ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।  জানা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী তার কাছে ড্রইং করেছে তারাই ড্রইং ও হিন্দুধর্ম বিষয়ে যথাক্রমে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়েছে। 

ফেসবুকে বিষয়টি ভাইরাল হলে, আসিফ ইকবাল নামের একজন অভিভাবক মন্তব্য করেন, আমরা চুড়ি পড়া অভিভাবক,তাই এ অবস্থা।  ডিসি স্যারকে অনুরোধ করেছিলাম অভিভাবক এসোসিয়েশন, করাপটেড শিক্ষক ২/১ জন বদলি করার।  তিনি জানিয়েছেন, বদলি সহজ কিন্তু নতুন কাউকে পাওয়া কঠিন।  আচ্ছা ২ স্কুল থেকে ৪/৫ জন শিক্ষক বদলি হয় তাতে পোলাপান কি পানিতে পড়বে? বুঝিনা আসলেই।  সবার একটা সমিতি আছে শুধু অভিভাবকদের ই নাই। 

এই এসোসিয়েশন টা থাকলে শিক্ষক, ছাত্র, অভিভাবক সবাই একটা টাচ (সংস্পর্শ) এ থাকতো ব্যস।  শিক্ষক অভিভাবকের হাতে মাইর খাবে,এটা কারো জন্য ভাল হবে? আমার ছেলে বালক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।  আগে ভেবে রেখেছি এবার পরীক্ষা যত ভাল করেই দিক ফেল করানো হবে।  ঠিক তাই, ৫ বিষয়ই ফেল।  আরে মিয়া এগুলো চিন্তা করেই তো মাঠে নামছি।  ধরে নিব ছেলে প্রাকৃতিক ভাবে বড় হচ্ছে বাট সামাজিকভাবে বড় হতে দিচ্ছে না।  তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বাচ্চা তো খেলার ছলে পড়া লেখা করার বয়স।  ওরা কি বোঝে কোচিং এর? সবচেয়ে বড় কথাটা হলো এসব করাপটেড শিক্ষকদের মধ্যে সুন্দর একটি মিল হলো দু একজনের সন্তান থাকতে পারে কিন্তু সবার নাই। 

সন্তান না থাকলে কিভাবে বুঝবে তার মায়া।  কোন অভিভাবক কি বিনে পয়সায় সন্তান বড় করতে পারেন? তাহলে শিক্ষকদের এত হাহাকার কেন? জোর করানো হয় আমার কাছেই পড়তে হবে এমন কেনো? কি এমন মলম দিবেন লেখাপড়ার যে আপনার কাছেই দিতে হবে? সরকার যা দেয় তাতে হচ্ছে না? টাকা দিয়ে কি করবেন যদি ইজ্জতই আপনার রাস্তায় গড়াগড়ি খায়? নামগুলো লিখে রাখলাম আপনাদের, চলার পথে সামনে পইরেন না।  বারোচলায় সবার সামনে বসে পেদানিটা কিন্তু মোটেও সুখকর হবে না। 

এব্যাপারে বৃহস্পতিবার সরকারী হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে জানতে গেলে বিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি জরুরী এবং দীর্ঘ সময়ের সভায় থাকার কারণে প্রতিবেদকের সাথে কেউই কথা বলতে পারেন নি।  শনিবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ সাহার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমাদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে। 

বৃহস্পতিবারে আমাদের সভায় এসংক্রান্ত বিষয় এবং নিজেদের বিভিন্ন পারস্পারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।  অভিযোগ সত্য / মিথ্যা যাই হোক সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।  কারো বিরুদ্ধে যেন কোন অভিযোগ না আসে।  শিক্ষিকা অর্পনা দাস জানান, কোন ক্লাসেই আমি এ ধরনের কোন কথা বলি নাই।  চারুকলার স্টুডেন্ট হওয়ায় অংকন শেখার প্রয়োজনেই ক্লাসের বাইরেও আমার কাছে শিক্ষার্থীদের চাপ থাকে। 

তাই বাইরের একটি সিন্ডিকেট আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করে অভিযোগ দিচ্ছে। 


keya