২:১৯ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রোববার | | ৭ রবিউস সানি ১৪৪০




ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করণে ব্যস্ত নওগাঁর খামারিরা

০৯ আগস্ট ২০১৮, ০২:৫৭ পিএম | জাহিদ


আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি :  ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর খামারিরা।  বাজারে গরুর দাম তুলনামুলক কম হলেও খাবারের দাম কিছুটা বেশি। 

তবে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু না আসলে লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন খামারিরা।  আর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলছেন, জেলার পশুর চাহিদা মিটিয়ে বাহিরের জেলাগুলোতে পশু সরবরাহ করা হবে। 

আর ক’দিন বাদেই কোরবানির ঈদ।  প্রতি বছরের মতো এবারো ঈদ উল আযহা উপলক্ষে জেলার ১১টি উপজেলায় দেশী, ক্রস ও ব্রাহ্মা জাতের গবাদি পশু মোটাতাজা করেছেন খামারিরা।  প্রান্তিক এলাকা থেকে কয়েক মাস আগে কিনে এনে তা বেশী দামে বিক্রির জন্য মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে।  গরু মোটাতাজা করতে ঘাসের পাশাপাশি দেয়া হচ্ছে প্রাকৃতিক খাবার খৈল, ভূষি, ব্যান্ড গুড়া, চাউলের খুদ ও খড়।  তাই এখন গরু পরিচর্যায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। 

আর বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি গরু পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন খামারিরাও।  তবে বাজারে গরুর দাম কম।  সে তুলনায় গো খাদ্যের দাম কিছুটা বেশি।  গত বছর বন্যার কারণে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছিল।  যার কারণে কুরবানির বাজারে খামারি ও কৃষকরা অনেকটা লোকসান করেই গরু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। 

এবছরও যদি খামারি ও কৃষকরা গরুর ন্যায্য দাম না পান তাহলে আগামীতে গরু পালনে আগ্রহী কমে যাবে।  এতে গরু সংকটে পড়ার সম্ভবনা রয়েছে।  তবে এবছর ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু না আসলে খামারিরা লাভবান হবেন।  অন্যথায় ক্ষতির মুখে পড়ার আশংকা করেছেন খামারিরা। 

জেলার বদলগাছী উপজেলার ভান্ডারপুর গ্রামের খামারি আসলাম হোসেন বলেন, গত দুই বছর থেকে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন।  গত বছর ঈদে ৩০ টি গরু বিক্রি করেছেন।  বাজার দর কিছুটা কম থাকায় গাঁয়ে গাঁয়ে শোধ গেছে।  এবছর কোরবানি উপলক্ষে দেশীয় জাতের ২৫ টি গরু মোটাতাজাকরণ করেছেন।  গরু পালনে খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি।  সে তুলনায় গরুর দাম কম।  গরু খামার থেকে বিক্রি হলেও এখনও বড় ক্রেতারা আসেনি। 

অপর এক খামারি রাজু আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন।  দেশে ফিরে এসে প্রশিক্ষণ নিয়ে গরুর খামার শুরু করেন।  গত বছর ১৪টি গরু মোটাতাজা করে ৫০ হাজার টাকার মতো লাভ করেছিলেন।  এবছর কুরবানি উপলক্ষে গত ৫-৬ মাস থেকে ১২টি গরু মোটাতাজা করছেন।  বাজারে গরুর দাম কম।  যদি ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু না আসে তাহলে লাভ থাকবে।  অন্যথায় লোকসান হওয়া আশংকা করছি। 

বদলগাছী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জিয়াউর রহমান বলেন, খামারিদের প্রাকৃতিক ভাবে মোটাতাজাকরণ করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।  কোন খামারি যেন স্টেরয়েড বা ক্ষতিকারক ইনজেকশনের মাধ্যমে পশু হৃষ্টপুষ্ট করতে না পারে সে ব্যাপারে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।  তবে খামারিরা প্রাকৃতিক ভাবে গরু মোটাতাজাকরণ করছে যা আমাদের জন্য নিরাপদ।  এতে কোন সন্দেহ নেই। 

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. উত্তম কুমার সরকার বলেন, ঈদ উল আযহা উপলক্ষে জেলার ১১টি উপজেলায় কুরবানি পশুর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজারটি।  এরমধ্যে ৯০ হাজার গরু ও মহিষ এবং ৭০ হাজার ছাগল, ভেড়া ও গারল।  এবছর কুরবানির পশুর চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হবে। 

যেহেতু কুরবানির বাজার পুরোপুরি জমে উঠেনি।  বাজার জমে উঠলে কৃষক বা খামারিরা ন্যায্য দাম পাবেন।  তবে দেশের বাহির থেকে কোন পশু আমদানি হওয়ার সম্ভবনা নেই।  যদি আসে সেক্ষেত্রে দাম কমার সম্ভবনা আছে এবং কৃষকরা লোকসানে পড়বেন।