১০:১৮ এএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউস সানি ১৪৪০




ধুনটে পাকা সড়কে ধান মাড়াই যন্ত্রে দূর্ঘটনার শঙ্কা!

০৯ আগস্ট ২০১৮, ০৬:১৮ পিএম | মাসুম


রফিকুল আলম, বগুড়া প্রতিনিধি: কেউ করছে ধান মাড়াই।  কেউ শুকাচ্ছে ধান ও খড়।  কেউ বা আবার ধানের ধুলাকণা পরিস্কারে ব্যস্ত।  কৃষান-কৃষানিরা ধাপে ধাপে এসব কাজ করছে পাকা সড়কের উপর।  এতে বেড়েছে পথচারীদের দূর্ভোগ।  স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে যাত্রীরা।  দূর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে যানবাহন।  এমন জনদূর্ভোর চিত্র বগুড়ার ধুনট উপজেলার গ্রামীন পাকা সড়কে।  

সরেজমিনে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, এসব সড়কপথে বাস, ট্রাক, মিনিবাস, মোটরসাইকেল ছাড়াও রিক্সা-ভ্যান এবং ইজিবাইক চালকরা সর্বক্ষণ দুর্ঘটনার আতঙ্কের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে।  শুধু তাই নয়, কোনো কোন পাকা সড়কে ধান মাড়াইয়ের কাজ পর্যন্ত করার অভিযোগ রয়েছে। 

রাস্তায় চলমান সকল যানবাহন দূর্ঘটনার সম্মুখীন হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে প্রতিনিয়ত।  এছাড়া সড়কের ওপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কৃষক-কৃষাণী সহ কৃষক পরিবারের শিশুরা।  আবার রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ার কারণে অনেক স্থানে যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। 

কৃষান-কৃষানিরা জানান, আউশ মৌসুমে বাড়িতে কাঁচা মাটিতে ধান-খড় শুকাতে বেশি সময় লাগে।  তা ছাড়া বৃষ্টি বাদলে ধানের ক্ষতি হয়।  কিন্তু পাকা রাস্তায় ফসল শুকাতে সুবিধা হয়।  তাই বাড়ির উঠানে না শুকিয়ে সড়কে ফসল মাড়াই করেন।  রাস্তায় ফসল শুকানোর ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয় না।  গাড়ির চাকার চাপে ফসল দ্রæত মাড়াই হয়ে যায়।  এ সুবিধার জন্য সড়কে ফসল শুকিয়ে থাকেন তারা। 

নছরতপুর গ্রামের আব্দুল আলীম বলেন, সড়কগুলোতে ফসল শুকানোর কারণে মোটরসাইকেল চালাতে বেশি সমস্যা হচ্ছে।  হঠাৎ গতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হলে ফসলের ওপর চাকা দাঁড়াতে পারে না।  সড়কে ফসল মাড়াইয়ের কারণে গাড়ি গুলো যেমন এলোমেলো চলছে, তেমনি ধূলো ও ময়লা-আবর্জনায় শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। 

বিভিন্ন যানবাহনের চালক জানান, চাকায় এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ফসল জড়িয়ে যানবাহনগুলোর যেমন ধীরগতি হচ্ছে, তেমনি দুর্ঘটনাও ঘটছে।  বিশেষ করে বাইসাইকেল, ভ্যান, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অটোরিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে বেশি সমস্যা হচ্ছে।  পাশাপাশি সময়ের অপচয় হচ্ছে। 

উপজেলা সুজনের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল হক মিন্টু বলেন, সড়কগুলোতে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।  ফসল শুকানো, মাড়াই, অবশিষ্ট অংশ ফেলা, বস্তায় প্রক্রিয়াজাতকরণসহ সবকিছুই সড়কের ওপর করা হচ্ছে।  এমনকি ফসলের অবশিষ্ট অংশ সড়কের ওপর এবং পাশে ফেলে রাখায় হেঁটে চলাচলও দায় হয়ে পড়েছে।  হঠাৎ বৃষ্টি হলে ফসলের অবশিষ্ট অংশ পচে সড়কগুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। 

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, সড়কে ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর বিষয়ে কেউ কখনও অভিযোগ করেনি।  তারপরও এ বিষয়ে কৃষান-কৃষানিদের সচেতন করা হবে।  এতে সমাধান না হলে জনস্বার্থে অভিযান চালিয়ে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।