১০:৪৪ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৮, শনিবার | | ৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


গোবিন্দগঞ্জে আদিবাসী দিবসে সাঁওতালদের মিছিল ও সমাবেশ

০৯ আগস্ট ২০১৮, ০৬:৫০ পিএম | মাসুম


তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আদিবাসী পল্লী মাদারপুর থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও লাল পতাকায় সজ্জিত সহ¯্রাধিক আদিবাসী সাঁওতালদের একটি বিক্ষোভ মিছিল মাদারপুর-জয়পুর থেকে শুরু হয়। 

বৃহস্পতিবার মিছিলটি কাটা মোড় হয়ে দীর্ঘ ৮ কিঃ মিঃ রাস্তা অতিক্রম করে গোবিন্দগঞ্জ শহীদ মিনার সমাবেশস্থলে পৌঁছার আগেই গোবিন্দগঞ্জ গার্লস মোড়ের মাথায় পুলিশ মিছিলের গতি রোধ করে।  পরে মিছিলকারীরা গার্লস মোড়েই বসে পরে এবং সেখানেই সমাবেশ করে। 

সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও জনউদ্যোগ যৌথভাবে এ কর্মসুচীর আয়োজন করে। 

সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ওয়াজিউর রহমান রাফেল,আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহবায়ক এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, সিপিবি জেলা কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য প্রতিভা সরকার ববি, সিপিবি উপজেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান, মানবাধিকার কাজী আব্দুল খালেক,অঞ্জলি রানী, আদিবাসী নেতা গণেশ মুর্মু, সুফল হ্রেমব্রম, থমাস হেমব্রম, বার্নাবাস টুডু, রেজাউল করিম, স্বপন শেখ, প্রিসিলা মুর্মু, অলিভিয়া মার্ডি প্রমুখ। 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাধারণত কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অণুপ্রবেশকারী বা দখলদার জনগোষ্ঠীর আগমনের পূর্বে যারা বসবাস করত এবং এখনও করে; যাদের নিজস্ব আলাদা সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ রয়েছে; যারা নিজেদের আলাদা সামষ্টিক সমাজ-সংস্কৃতির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা সমাজে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিগণিত, তারাই আদিবাসী। 

আদিবাসীদের উপজাতি হিসেবে সম্বোধন করা একেবারেই অনুচিত, কারণ তারা কোন জাতির অংশ নয় যে তাদের উপজাতি বলা যাবে।  বরং তারা নিজেরাই এক একটি আলাদা জাতি।  এসময় বক্তারা বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ায় যুগে যুগে এদের অনেকে প্রান্তিকায়িত, শোষিত।  যখন এসব অন্যায্য, অবিচারের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকারের স্বপক্ষে তারা কথা বলেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা দমন নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে।  গোবিন্দগঞ্জের আদিবাসীরাও তার ব্যতিক্রম নয়। 

এ প্রসংগে বক্তারা বলেন, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর রংপুর সুগার মিল কর্তৃপক্ষ বেআইনীভাবে (কোর্টের আদেশ ব্যতীত) আদিবাসীদের নির্মিত বসতবাড়ি, ফসলাদি ও মৎস্যখামারে পুলিশ, প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের দ্বারা উচ্ছেদের নামে নিরীহ আদিবাসীদের উপর হামলা বসতবাড়ি ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং বর্বরোচিতভাবে গুলিবর্ষণ করে।  গুলিতে ও নির্যাতনে শ্যামল হেমব্রম, মঙ্গল মারডি ও রমেশ টুডু নিহত এবং অনেকেই গুরুতর আহত হয়। 

গুরুতর আহতদের মধ্যে অনেককে গ্রেফতার করে।  এমনকি পুলিশ আদিবাসী-বাঙালিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে অনেককে গ্রেফতার ও নির্যাতন করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।  আদিবাসী সাঁওতালদের স্কুল তছনছ করে আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। 

বক্তারা আরও বলেন,প্রায় ২ বছর হলো বাগদাফার্মের আদিবাসীরা বাড়ি-ঘর হারিয়ে মানববেতর জীবন যাপন করছে।  স্কুল ঘর পুড়িয়ে দেয়ার কারণে তাদের সন্তানেরা ২ বছর হলো পড়াশুনা করতে পারছে না।  স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয় অবহিত করা হলেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।  সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্মের নিরীহ আদিবাসী-বাঙালিদের উপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত এবং আখ চাষের নামে রিক্যুজিশনকৃত ১৮৪২.৩০ একর বাপ-দাদার জমিতে আদিবাসী ও প্রান্তিক বাঙালি কৃষকদের আইনগতভাবে জমি ফেরত দেয়ার দাবিসহ সাত দফা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবী জানান। 

সমাবেশে স্থলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাফিউল আলম বলেন, আদিবাসীদের দাবিগুলো পুরনের বিষয়টি সম্পূর্নই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারনী বিষয় তাই এখানে তাদের কিছুই করার নেই।  তবে তিনি আদিবাসীদের দাবিগুলো উচ্চ পর্যায়ে জানাবেন আশ্বাস দেন।