৫:৫২ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে চীন, উদ্বিগ্ন ভারত

১০ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৪৫ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম :  বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সহায়তা করতে চীন।  দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে চীন। 

তবে চীনের এই বিনিয়োগে উদ্বিগ্ন প্রতিবেশী ভারত।  ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এখবর দিয়েছে। 

পদ্মসেতুর চীনের বিনিয়োগের উদ্বৃত্ত দিয়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পাশপাশি পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল এবং মালদ্বীপেও চীনের বিনিয়োগ দৃশ্যমান।  তবে ভৌগলিকভাবে তিন দিক দিয়ে বাংলাদেশকে ঘিরে রাখা ভারতের জন্য এটি একটি সতর্ক সংকেত। 

দিল্লীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম মিত্র ঢাকা।  উপমহাদেশে চীনের বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সহায়তা ছাড়াও দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংয়ের বৈশ্বিক বাণিজ্যিক পথ ‘সিল্ক রোড’ প্রকল্প নিয়ে উদ্বিগ্ন দিল্লী। 

এছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বাড়াতে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর, মালদ্বীপে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ এবং শ্রীলংকার কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য হাম্বানটোটা বন্দর ইজারা নেয়াটাও উল্লেখ্যযোগ্য। 

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব গ্লোবাল রিলেশন ‘গেটওয়ে হাউস’ এর মতে, বাংলাদেশের কাঠামোগত প্রকল্পে ৩১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে চীন।  যা পাকিস্তানের পরই দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। 

এর মধ্যে রয়েছে, সড়ক, রেলওয়ে, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পানি পরিশোধনাগার নির্মাণ।  বাংলাদেশ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর বলেন, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ সরকারি এবং বেসরকারি খাতে মোট ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

এছাড়া কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের যৌথ কনসোর্টিয়ামের কাছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। 

ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রদেয় দর প্রস্তাবে এগিয়ে ছিল চীনের জোটটি।  দর প্রস্তাবে পিছিয়ে থাকার পর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চাপ প্রয়োগ করার পরও শেয়ার কিনতে ব্যর্থ হয় ভারত। 

ডিএসই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ সময় ধরে সমঝোতা এবং আলোচনা চালিয়ে আসছি।  দর এবং সক্ষমতায় চীনা একচেঞ্জ মালিকানা পেয়েছে।  আমাদের শেয়ার বাজার খুবই ছোট।  তারা নতুন প্রযুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। ’

এছাড়া এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চীনা বিনিয়োগও বৃদ্ধি পাবে।  ইতোমধ্যেই চীনের একটি কোম্পানি জেজিয়াং জিনদুন প্রেসার ভেসেল লিমিটেড চট্টগ্রামে শিল্প স্থাপনে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। 

এর মধ্যে রয়েছে ২.৬ গিগাওয়াটের একটি বৈদ্যুতিক কেন্দ্র।  যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ একক বিনিয়োগ প্রস্তাবে বলেও জানান বাংলাদেশ ইকনোমিক জোন অথরিটির চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। 

তবে চীনা বিনিয়োগ নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক চাপে রয়েছে দিল্লী।  এর আগে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা চীনের সঙ্গে সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ চুক্তির পরিকল্পনা বাতিল করে। 

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দামান নিকোপর দ্বীপপুঞ্জের কাছে চীনের অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল দিল্লী, এই বিষয়ে ঢাকাকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। 

এদিকে বাংলাদেশে পশ্চিমাঞ্চলে পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীন, জাপান এবং ভারতের যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। 

মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ সম্পর্কে সচেষ্ট।  আমরা নিরাপত্তা নিয়ে আগ্রহী নয়-আমরা অর্থনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা পেতে চাই। ’