১১:১৩ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১৪ মুহররম ১৪৪০


বাম গণতান্ত্রিক জোটের গণসমাবেশে নেতৃবৃন্দ

লুটপাট-দুঃশাসন, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস-অপরাজনীতির বিরুদ্ধে বাম বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে হবে

১১ আগস্ট ২০১৮, ০৯:১০ পিএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম :  বাংলাদেশ এখন আকন্ঠ ঘুষ-দুর্নীতি-লুটপাটের অভয়ারন্য।  দীর্ঘকাল থেকে ক্ষমতাসীন লুটেরা শাসকশ্রেনি তাদের কায়েমী শাসনের স্বার্থে এই লুটপাট অব্যাহত রেখেছে।  লুটপাটতন্ত্রকে পাহারা দেয়ার জন্য তৈরি করেছে হুন্ডা-গুন্ডা-মাস্তান-সন্ত্রাসীদের।  সেজন্য দেশের সাধারণ মানুষ দুঃসহ জীবনযাপন করছে।  বিদ্যমান দুবৃত্তায়িত রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে না পারলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে বাধ্য।  ভূমিদস্যু-লুটেরামহল-সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে এখন বাংলাদেশের রাজনীতি। 

দেশের গণতান্ত্রিক কোন বিধি-ব্যবস্থা কার্যকর নেই।  ভোটের নামে চলছে প্রহসন।  অপরাজনীতি-অপশাসন দেশের রাজনীতির প্রধান ধারা।  এসকল অপকর্মের বিরুদ্ধে বাম প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম-সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।  সংগ্রামকে আরো বেগবান করার প্রত্যয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট গঠিত হয়েছে।  জোট-মাহজোটের বাইরে বিকল্প শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনতে হবে।  তাহলেই মুক্তি সম্ভব। 

শনিবার বিকেলে নগরীর পুরাতন রেলস্টেশন চত্বরে বাম গণতান্ত্রিক জোট চট্টগ্রামের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। 

কমিউনিস্ট পার্টি চট্টগ্রামের প্রাক্তণ সভাপতি মৃণাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ নেতা বজলুল রশিদ ফিরোজ, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা ফখরুদ্দিন কবির আতিক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আবু হাসান টিপু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের নজরুল ইসলাম, সিপিবি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, গণসংহতি আন্দোলনের হাসান মারুফ রুমী, বাসদ’র মহিনউদ্দিন প্রমুখ। 

সমাবেশে সঞ্চলনা করেন বাসদ (মাকর্সবাদী) নেতা শফি উদ্দিন আবিদ।  সমাবেশ শেষে জোটের একটি মিছিল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। 

বক্তারা বলেন, চালসহ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়া, বিশাল বেকারত্ব, অব্যাহত সড়ক দুর্ঘটনা, পাহাড় ধ্বসে মানুষের করুন মৃত্যু, জীবন জীবিকাকে চরম অসহায় ও দুর্বিষহ করে তুলেছে।  নারীর উপর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।  পাহাড় ও সমতরের আদিবাসী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছে আতঙ্কেও মধ্যে।  হেফাজতে ইসলাম ও সা¤প্রদায়িক ধর্মান্ধ শক্তিকে খোলাখুলিভাবে মদদ দিচ্ছে সরকার। 

নেতৃবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় শোষণহীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে জোরদার করার আহবান জানান।