১১:২৫ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১৪ মুহররম ১৪৪০


জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায়

বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবন একটি মহাগ্রন্থ : চবি উপাচার্য

১৫ আগস্ট ২০১৮, ০৫:৫৩ পিএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম :  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবন একটি মহাগ্রন্থ। 

যিনি বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে দিয়েছেন বাংলাদেশ নামক একটি জাতি-রাষ্ট্র, যাঁর জন্ম না হলে বাঙালি জাতি কোনদিনও অর্জন করতে পারতো না একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।  তিনিই বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ৪৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সকাল ৯ টায় অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কীর্তির উপর এবং ‘শোকাবহ ১৫ আগস্ট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে উপাচার্য এসব কথা বলেন। 

উপাচার্য তাঁর ভাষণের শুরুতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, রাজনীতির মহাকবি, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু এবং ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট হায়েনাদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।  তিনি বলেন, জাতির জনকের হত্যার রক্তক্ষরণ বাঙালি জাতিকে যুগ যুগ ধরে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। 

এ বিশ্ব নেতা মানবতার প্রতীক, মানব মুক্তির অগ্রদূত, নিপীড়িত-নির্যাতিত মুক্তিকামী মানুষের আলোক বর্তিকা।  ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট হায়েনার দল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে চেয়েছিল একটি জাতি-রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে।  কিন্তু তাদের সে অভিলাষ পূরণ হয়নি।  বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধু তনয়া আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্ব দরবারে আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। 

বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়ন-অগ্রগতির সকল সূচকে বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 

উপাচার্য বাংলাদেশকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ছিল তা বাস্তবায়নে  সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার আহবান জানান। 

আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির সদস্য-সচিব ও প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী। 

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চ.বি. উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার,  কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. আহমদ সালাউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. অলক পাল, সিনেট সদস্য প্রফেসর ড. সুলতান আহমদ, সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ,

রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব কে এম নুর আহমদ, আলাওল হলের প্রভোস্ট প্রফেসর আবদুল হক, সংগীত বিভাগের সভাপতি জনাব সুকান্ত ভট্টাচার্য, অফিসার সমিতির সভাপতি জনাব এ কে এম মাহফুজুল হক, চ.বি. ক্লাব (ক্যাম্পাস)-এর সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. রাশেদ-উন-নবী, কর্মচারী সমিতির সভাপতি জনাব মো. আনোয়ার হোসেন ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি জনাব আবদুল হাই। 

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য) জনাব মো. ফরহাদ হোসেন খান।  অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয় এবং দাঁড়িয়ে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে শহীদদের স্মরণে এবং দেশের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব হাফেজ আবু দাউদ মুহাম্মদ মামুন।  

কালো ব্যাজ ধারণ করে সকাল ৮.৩০ টায় চ.বি. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে চবি উপাচার্যের নেতৃত্বে শোকর‌্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে চ.বি. বঙ্গবন্ধু চত্বরে এসে শেষ হয়।  এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চবি মাননীয় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য। 

অতঃপর পুস্পমাল্য অর্পণ করেন চবি শিক্ষক সমিতি, ডিনবৃন্দ, প্রভোস্টবৃন্দ, সভাপতি ও পরিচালকবৃন্দ, মহিলা সংসদ, অফিসার সমিতি, কর্মচারী সমিতি, কর্মচারী ইউনিয়ন, চবি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ, উস প্রাইমারী এন্ড হাই স্কুল, সাংবাদিক সমিতি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।  জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। 

বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট শাহাদাৎ বরণকারী অন্যান্য শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফজরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত, দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের স্ব স্ব উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।