৬:৫৬ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ১৫ মুহররম ১৪৪০


২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরের পূর্বে ইস্যূকৃত

পুরোনো পাসপোর্ট নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে অামিরাতের অসংখ্যা প্রবাসী

০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:১৮ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরের পূর্বে ইস্যূকৃত হাতে লেখা পাসপোর্ট নিয়ে বিপাকে পড়েছে অামিরাতে অবস্থানরত অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশীরা।  সাম্প্রতিক সময়ে  অামিরাতে সাধারণ ক্ষমায় অভিযুক্ত  পাসপোর্টের উপর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দিলে এ পাসপোর্ট গুলো নবায়ন করার জন্য প্রবাসীরা প্রতিদিন ভীড় করছে অামিরাতের বাংলাদেশ দূতাবাস ও দূবাই কন্স্যূলেটে।  কিন্তু এসব পাসপোর্টে নবায়ন করার  জন্য কোন পদকক্ষেপ নিচ্ছেনা বাংলাদেশ মিশনগুলু। 

কেন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা এ বিষয়ে সুদত্তরও পাওয়া যায়নি দুবাইস্থ বাংলাদেশ কন্সূলেট কর্মকর্তাদের কাছে।  তবে নাম না জানিয়ে  কিছু কর্মচারী বলেন পাসপোর্ট ইস্যূর ১২ বছর পূর্ন হওয়ায় তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।  তাদের মতে পাসপোর্টের বয়স ১২ বছর পূর্ন হলে তা পূনরায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো হয়।  তাই এ জটিলতা এরাতে এ পাসপোর্ট গুলি নবায়নে অনুৎসাহিত করছে বাংলাদেশ মিশনগুলো। 

সংযুক্ত অারব অামিরাতের দুবাইস্থ বাংলাদেশ কন্স্যূলেটে গিয়ে দেখাযায় ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের পূর্বে যারা পাসপোর্ট নিয়েছে এসব লোকজনের সংখ্যা প্রচুর।  পাসপোর্টের  নানা ঝামেলা শেষ করে শুধু একটি নতুন পাসপোর্ট নিয়ে বৈধ হওয়ার প্রত্যাশায় এক বুক অাশা নিয়ে ঘুরছে প্রতিদিন।  কিন্তু কোন ফলাফল তারা পাচ্ছেনা। 

সিলেটের মোসলেম উদ্দিন নামক এক ব্যক্তি গত একমাস ধরে ২০০৬ সালে ইস্যূকৃত একটি পাসপোর্ট নিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ কনস্যূলেট চত্বরে।  তার অাসা যাওয়া একটি ডিজিটাল নতুন পাসপোর্টের প্রত্যাশায়।  মোসলেম উদ্দিন  একজন স্পন্সরও ঠিক করে রেখেছেন নতুন ডিজিটাল পাসপোর্টে নতুন ভিসা লাগানোর জন্য।  অামিরাত সরকারের সাধারণ ক্ষমার অাওতায় তার চোখে মূখে বৈধ  হওয়ার বিভোর স্বপ্ন।  কিন্তু নিশ্চয়তা দিতে পারছেনা বাংলাদেশ কন্সূলেট।  মোসলেম উদ্দিন বলেন পাসপোর্ট কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাত করেছিলাম, কিন্তু বাংলাদেশ কন্সূলেটের পাসপোর্ট কর্মকর্তা নূরে মাহবুবা জয়ার রুক্ষ্ জবাব পাসপোর্ট নবায়ন করে কি করবা, অাউট  পাস নিয়ে দেশে চলে যাও। 

মোসলেমের মত এ অবস্থা অারো অনেকের।  দুবাই ইন্টারন্যাশ সিটিতে কর্মরত মোহাম্মদ ইলিয়াস, সারজায় কর্মরত মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, মোহাম্মদ নাইম সহ অসংখ্য প্রবাসীর অভিযোগ একি।  তাদের মতে অামিরাত সরকার সাধারন ক্ষমার মধ্যদিয়ে নানাভাবে প্রবাসীদের বৈধ্য করার উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু এ ব্যাপারে দুবাইস্থ বাংলাদেশ কন্সূলেট থেকে কেন অনুৎসাহিত করা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়।  প্রবাসীদের মতে দীর্ঘদিন অামিরাতে ভিসা বন্ধ থাকায় প্রবাসীরা নানাভাবে জর্জরিত হয়েছে।  এতোদিন পর যাদের ভিসার মেয়াদ উর্ত্তীন হয়ে অবৈধ হয়ে গেছে তাদের ভিসা লাগানোর একটা সূবর্ন সূযোগ এসেছে।  কিন্তু পাসপোর্ট নবায়নের জটিলতায় প্রবাসীদের সে স্বপ্ন ধূলিস্যাত হতে চলেছে। 

তাহলে কি এসব প্রবাসী দেশে ফিরে গিয়ে পাসপোর্ট তৈরী করে নিয়ে অাসবে? শ্রমিক ভিসা খুলা নেই বলে তাই অাবার ফিরে অাসারতো কোন সুযোগ নেই।  পরিবারে অভাব মুছনের জন্য, অার দেশের সমৃদ্ধির জন্য, যেসব প্রবাসীরা  বাংলাদেশ মিশনের দুয়ারে তীব্র গরমের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে একটি ডিজিটাল পাসপোর্টের প্রত্যাশায় ঘুরছেন এটাকি তাদের অপরাধ? এসব প্রবাসীদের পরিবারের চাকা ঘুরাতে এবং দেশের সমৃদ্ধি অানতে সরকারের জন্যকি একটি পাসপোর্ট দেয়া এতই কঠিন? যেখানে অামিরাত সরকার এসব অবৈধ প্রবাসীদের হাজার দিরহাম জরিমানা মওকুপ করে, পূনরায় ৬ মাসের ভিসা দিয়ে কাজের সন্ধ্যান করার সুযোগ করে দিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ মিশনের পক্ষে সহজভাবে একটি পাসপোর্ট প্রদান কেন করা যাচ্ছেনা তা নিয়ে প্রবাসীদের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।  অপর দিকে বাড়ছে ক্ষুভ। 

তাছারা দুবাইস্থ পাসপোর্ট বিভাগে দ্বায়িত্বরত কর্মকর্তাদের দূর্ব্যবহার সেবা নিতে অাসা প্রবাসীদের প্রচন্ডভাবে অাহত করে চলেছে  মানসিক ভাবে।   সেবা নিতে অাসা প্রবাসীরা বলেন সারাটাদিন গরমের মধ্যে লাইনে থেকে যখন পাসপোর্ট কর্মকর্তার রুমে যায় তখন দেখাযায় ওনার দূর্ব্যবহার অসহনীয় পর্য়ায়ে।  এমনকি কোন প্রবাসী মুখ খুলে কথা বলতে চায়লে তাদেরকে সিকিউরিটি দিয়ে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়।  পাসপোর্ট সেবা নিতে এসে প্রবাসীদের এতো লাঞ্চনা পেতে হয় যা কখনো শুভনীয় নয়। 

প্রবাসীরা অারো বলেন পাসপোর্ট কর্মকর্তা নূরে মাহবুবা জয়ার অফিস টাইম মেনটেইন না করে বেশীরভাগ সময় বাইরে বাইরে ঘুরে ফিরে কাটান।  ফলে প্রবাসীরা দীর্ঘ লাইনে দাড়ানোর পর যখন ওনাকে অফিসে পান তখন তিনি পাসপোর্ট ডকুমেন্টের উপর সাক্ষর না করে লাইনে দাড়ানো সেবা নিতে অাসা লোকজনকে ৩ দিন ৪ দিন পর অাসার তারিখ দিয়ে দেন।  ফলে সারাদিন অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীদের অাবারো হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়।  অার এদিকে সময় ক্ষেপনের ফলে পাসপোর্ট নবায়নের কাজও বিলম্ব হয়ে যায়।  এ অবস্থায় সাধারণ ক্ষমার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব প্রবাসীরা অাদো পাসপোর্ট পাবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ। 

এদিকে কক্সবাজার জেলার প্রবাসীরা পাসপোর্ট নবায়নের জন্য জন্ম নিবন্ধন ফরম নিতে নানা জটিলতা পরছে বলে জানিয়েছে বেশ কয়েকজন প্রবাসী।  মিজানুর রহমান নামে এক প্রবাসী জানান অামার জন্ম নিবন্ধের জন্য   চেষ্টা করেও নিতে পারিনি।  কেননা কক্সবাজারের কিছু কিছু এলাকায় জন্মনিবন্ধন করতে গেলে অন লাইনে তা গ্রহন করা হচ্ছেনা।  ফলে অনেকে জন্ম নিবন্ধন করতে না পেরে হতাশ হয়ে ঘুরছেন। 

এব্যাপারে বিস্তারিত জানতে দুবাইস্থ বাংলাদেশ কন্সূলেটের কন্সাল জেনারেল বদিরুজ্জামানের কাছে  জানতে চাইলে তিনি কন্স্যূলেটের সিনিয়র কর্মকর্তা  প্রভাস লামারাংয়ের কাছে পাঠান।  প্রভাস লামারাং পাসপোর্ট বিষয়ে কথা বলতে পাসপোর্ট বিভাগের কর্মকর্তা নূরে মাহবুবা জয়ার কাছে পাঠান।  শেষে নূরে মাহবুবা জয়ার কাছে গেলে তিনি একমাত্র কন্সাল জেনারেল ছাড়া অার কারো তথ্যদেয়ার অধিকার রাখেনা বলে জানান।   ভূক্তভোগী প্রবাসীদের দাবী দূর্দশা গোছাতে এবং সাধারণ ক্ষমাকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সরকার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহন করবেন এটাই সকলের প্রত্যাশা।