৪:৫১ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, রোববার | | ১২ মুহররম ১৪৪০


আগামী জাতীয় নির্বাচন ও চুড়ান্ত মনোনয়ন

০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৩১ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : আজকাল জাতীয় নির্বাচন কে নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বিভিন্ন সমীকরণ ও আলোচনা।  ঠিক তেমনি চলছে তথ্য উপাত্ত ছাড়া মনগড়া কিছু সংবাদ প্রচার। 

বিশেষ করে পত্রিকায় ব্যবসায়ীক ফায়দা লাভে মনোনয়ন বিষয়ে প্রচারিত হচ্ছে সম্পুর্ণ ভিত্তিহীন কিছু সংবাদ।  দলীয় মনোনয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ এর প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল কোন না কোন জোট, মহাজোটে থাকায় জোটের মনোনয়ন বিষয়ে জানার আগ্রহ সব শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে রয়েছে।  এই সু্যোগ কাজে লাগিয়ে কিছু কিছু পত্রিকা বাণিজ্যিক সুবিধা নিতে মনগড়া সংবাদ প্রচারে দ্বিধাবোধ করছে না। 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন জোটে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন বিষয়ে গুজব প্রচারে অধিক মজা পাচ্ছে কিছু গণমাধ্যম।  মহাজোটের প্রধান শরিক দল জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গত ২৮ আগষ্ট বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় আগামী নির্বাচনে মহাজোটের শরিক হিসেবে তার দলের চাওয়া-পাওয়ার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, (১) জাতীয় পার্টিকে সংসদে ডেপুটি লিডার এর দায়িত্ব দিতে হবে।  (২) মহাজোটের হয়ে নির্বাচনে রংপুরের ২২ টি আসন সহ ১০০টি আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী দিতে হবে।  (৩) কমপক্ষে সরকারের ১০ টি মন্ত্রীত্ব দিতে হবে।  (৪) সরকার যে সমস্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী সরাসরি নিয়োগ দেয় সেইগুলিতে আনুপাতিক হারে জাতীয় পার্টিকে অংশ দিতে হবে। 

এগুলি ছাড়াও আরও কিছু বিষয় মহাজোট এর শরিক হিসেবে দাবী করবেন এবং আদায় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।  ঠিক একইভাবে তিনি ৩০ আগষ্ট সময় টিভির সাক্ষাৎকারে এসব দাবী আদায় বিষয়ে কথা বলেন।  এখন বিষয় হল, শরিক দলের প্রধান হিসেবে পল্লীবন্ধু এরশাদ এর সব দাবী হয়তো বাস্তবায়ন হবেনা।  কিন্তু তার দাবী ও চাওয়া-পাওয়া বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার কেবল মাত্র মহাজোটের প্রধান মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনারই রয়েছে।  অন্য কোন নেতার এখতিয়ার তো দূরের বিষয় যোগ্যতা পর্যন্ত নেই। 

বেশ কিছু পত্রিকায় দেখছি পল্লীবন্ধুর চাওয়া-পাওয়ার জবাবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায়, নেতা-কর্মীদের উৎসাহিত করতে এবং সাধারণ জনগণের কাছে গ্রহনযোগ্যতা ধরে রাখতে আওয়ামীলীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদেরও মনগড়া মন্তব্য প্রকাশ করছে।  বিশেষ করে বৃহত্তর রংপুরের সব কয়টা আসন জাপার জন্য চাওয়াতে উত্তরবঙ্গের বিনা ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী সাংসদদের ঘুম, খাওয়া হারাম করে নিজের অনুসারীদের বিভিন্ন মিথ্যা সান্তনা দিতে কিছু সস্তা গণমাধ্যমের আশ্রয় নিয়েছে।  কিছু পত্রিকা মনোনয়ন চুড়ান্ত হওয়ার সংবাদও প্রচার করছে। 

যদিও মনোনয়ন চুড়ান্ত হওয়ার তো প্রশ্নই উঠেনা, এখনো জোটগুলি আসন ভাগাভাগি বিষয়ে একটি মিটিংও করেনি।  তবে মনে রাখতে হবে, এরশাদের চাওয়াটাই অনেকটা চুড়ান্ত।  কারণ জাতীয় পার্টি পূর্বের অবস্থানে নেই, এখন সাংগঠনিক ভাবে অনেক শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত।  এছাড়া জাতীয় পার্টির হারাবার কিছুই নেই।  কিন্তু আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে বিএনপির সাথে হিসাবের খাতা টা এতো বেশি লম্বা করেছে যে, ক্ষমতা থেকে কোন কারণে ছিটকে পড়লে আর কোনদিন হিসাব মেলানোর সুযোগ পাবেনা। 

তাই এরশাদের দাবী মেনে নিয়ে জোটের বির্বাচনী হিসাব না মেলালে আওয়ামীলীগ কে এর কঠিন খেসারত দিতে হবে।  বৃহত্তর রংপুরের আসনগুলি জাপার ছিল, আবারও জাপারই হবে।  পল্লীবন্ধু স্বেচ্ছায় রংপুর এলাকার একটি আসনও যদি ছেড়ে না দেয় আওয়ামীলীগ নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে দাবি মানতে বাধ্য হবে।  মিথ্যা দিয়ে কারও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যায় না।  তাই আসছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের চাওয়া-পাওয়ার গুরুত্ব আ'লীগ-জাপা নেতৃত্বাধীন মহাজোটে কতবেশি তা সময়েই বলে দিবে। 

লেখক :
শামসুজ্জামান সবুজ
শিক্ষক ও রাজনৈতিক


keya