৭:২১ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১৪ মুহররম ১৪৪০


একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরীর পাশে মহিউদ্দিন বাচ্চু

০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:০৮ পিএম | সাদি


নিজস্ব প্রতিবেদক : হজ থেকে এসে জানতে পারলে একাত্তরের বীরঙ্গনা রমা চৌধুরীর গুরুতর অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন।  তাই ছুঁটে গেলেন তাঁর কাছে।  বলছিলাম চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ এর আহব্বায়ক ও সমাজসেবক আলহাজ্ব মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু।  অবাক হয়ে দেখলেন বীরঙ্গনাকে, কাছে থেকে চেষ্টা করলেন কষ্টগুলো অনূভব করার।  জানতে চাইলে বাচ্চু বলেন, হজে গিয়েছিলাম।  এসেছি মাত্র একদিন হল।  কালই শুনি মুক্তিযোদ্ধে বীরঙ্গনা ভালো নেই।  তিনি যুদ্ধের সময় কষ্ট করেছেন, কষ্ট করেছেন রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশও। 

আমি জানি, আমি আসাতে ওনার কষ্ট কমবে না, হয়ত ওনার বিশেষ কোনো লাভও হবে না।  তবে নিজের মনকে সান্তনা দেয়ার জন্য ওনার পাশে আসা।  আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আরও অনেকদিন বেঁচে  থেকে আমাদের অনুপ্রাণিত করতে পারেন।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর যুবলীগ এর সদস্য আকরাম হোসেন, শাখাওয়াত হোসেন স্বপন, আবু সাইদ জন, সালেহ আহমদ ডিগল, মইনুল ইসলাম রাজু, সনত বড়ুয়া, কাজল প্রিয়ো বড়ুয়া, যুবনেতা সৈয়দ রবিউল হোসেন, রেজাউল করিম রিটন, সাইফুল করিম, সামাদ প্রমুখ। 

মহিউদ্দিন বাচ্চু তখন ডাক্তারের সাথে কথা বলেন।  ডাক্তার জানান, একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরীর শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।  গলব্লাডার স্টোনসহ নানা জটিল রোগে গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন তিনি।  তবে তিনি এখন অনেকটা ‘শঙ্কা’ মুক্ত বলে। 

প্রসঙ্গত, ১৯৩৬ সালের ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন রমা চৌধুরী।  প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।  চার ছেলে সাগর, টগর, জহর এবং দীপংকরকে নিয়ে ছিল তার সংসার। 

কিন্তু একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী কেড়ে নেয় তার সেই সুখ।  তাদের হাতে দুই ছেলেকে হারানোর পাশাপাশি নিজের সম্ভ্রমও হারান তিনি।  পুড়িয়ে দেওয়া হয় তার ঘর-বাড়ি।  তবুও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি এ বীরাঙ্গনা।  শুরু করেন নতুনভাবে পথচলা।  লিখে ফেলেন একে একে ১৮টি বই।  এসব বই বিক্রি করেই চলত তার সংসার।  কিন্তু কোমরের আঘাত, গলব্লাডার স্টোন, ডায়াবেটিস, অ্যাজমাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি রমা চৌধুরী ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।  এরপর থেকে সেখানেই কাটছে তার জীবন। 


keya