৪:৪৮ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, রোববার | | ১২ মুহররম ১৪৪০


সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করার ইচ্ছা নেই সরকারের : ফখরুল

০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৭:১৩ পিএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম : জনগণের রায় নেয়ার কোনো ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন যে পথে এগোচ্ছেন, সে পথ একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করার পথ।  এখানে জনগণের রায় দেয়ার কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না।  জনগণের রায় নেয়ার কোনো ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর নেই। 

সোমবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট মিলনায়তনে ‘ইয়ুথ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের আয়োজনে বাংলাদেশ ইয়ুথ পার্লামেন্ট ২০১৮ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন করার ইচ্ছা বর্তমান সরকারের নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন করার ইচ্ছা বর্তমান সরকারের নেই।  সামনে নির্বাচন অথচ আজ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করেছে সরকার। 

রোববার প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনিপর এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গোটা জাতিকে হতাশ করেছে।  কারণ দেশের এই ক্রান্তিকালে, বিশেষ করে যখন সামনে নির্বাচন, সেই সময় জনগণের যে অধিকারগুলো নিয়ে প্রশ্ন, সেই অধিকারগুলো আর নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জাতি হতাশ হয়েছে। 

তিনি বলেন, আজ জাতি আশা করেছিল, জনগণের, দেশের এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী একটি ইতিবাচক কথা বলবেন।  সব দলের সমান সুযোগ সৃষ্টি করে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।  কিন্তু সেটি তিনি করতে পারেননি।  এটির সম্পূর্ণ ব্যর্থতা সরকারের, এর দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। 

বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এর আগে ২০১২-১৩ সালেও সরকার সংলাপের দাবি উপেক্ষা করেছিল, পরে বাধ্য হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন, জনগণের রায় প্রদান, এসব তো বিএনপির দাবি নয়, জনগণের দাবি।  জনগণের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে লড়াই করে যাচ্ছে বিএনপি।  বিএনপি সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব চায়, সেটি জনগণেরই দাবি। 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দেশে গণতন্ত্র আছে, এটি কোন গণতন্ত্র? যেখানে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার নির্যাতন করা হবে, আর সরকারি দল নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাবে? এভাবে তো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। ’

তিনি আরও বলেন, দেশে এখন সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে অবাধ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন।  সমগ্র জাতির দাবি, সমগ্র দেশের মানুষের দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন তো সংবিধান অনুযায়ীই হবে।  সংবিধান কে তৈরি করেছে? মানুষের তৈরি এই সংবিধান।  এমন তো নয় যে সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না।  ইতিপূর্বে যে সংবিধান ছিল, সেটিও সরকারের তৈরি।  সেটিকে সরকার অনেকবার পরিবর্তন করে নিজেদের দলের সুবিধামতো করে নিয়েছে। 

মির্জা ফখরুল বলেন, এ দেশ সেই দেশ, যেখানে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখকের বই আদালতের মাধ্যমে বাতিল করা হয়, শহিদুল আলমের মতো লোককে কারাগারে থাকতে হয়, যিনি সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।  নিজের যৌক্তিক দাবি আদায় করতে গিয়ে রিমান্ডে নির্যাতন করা হয়েছে। 

আগামীতে দেশের দায়িত্ব যুবকদের নিতে হবে উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আজ যারা যুবক আছেন, তারা আগামী প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখাবেন।  দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।  আগামীর বাংলাদেশ হবে সত্যিকারের একটি সুখী সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। 


keya