৪:৪৬ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




শীর্ষ সন্ত্রাসী মুচি জসিমের বাস ভবন গুড়িয়ে দিল প্রশাসন

বনের জমিতে গড়ে উঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:৪৭ এএম | জাহিদ


তুহিন মোল্লা, গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চান্দরা পল্লীবিদ্যুৎ জোড়াপাম্প এলাকায় শনিবার দিনব্যাপী বনবিভাগের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

এ সময় বনবিভাগের জমিতে গড়ে উঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দেওয়া হয়।  এছাড়া অভিযানে বনের উপর গড়ে উঠা বন্দুক যুদ্ধে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী জসিম উদ্দিন ইকবাল ওরফে মুচি জসিমের বিলাস বহুল বহুতল ভবন ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।  অভিযানে জবর দখল হওয়া প্রায় ১০ একর জমি উদ্ধার করা হয়।  যার আনুমানিক মূল্য একশত কোটি টাকা হবে বলে বনবিভাগ দাবী করেছে। 

বনবিভাগ, পুলিশ, উপজলা প্রশাসন ও স্থানীয় সুত্র‌ে জানা যায়, উপজেলার চান্দরা পল্লীবিদ্যুৎ জোড়াপাম্প এলাকায় প্রায় তিনশত বিঘা জমি জবর দখল কর ঘর বাড়ী দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মান করে জসিম ও অবৈধভাবে ওইসব ব্যক্তিদের নিকট থেকে ২-৩ লাখ টাকার বিনিময়ে শাল গজারী গাছ কেটে বনের জমি দখল করে দেয়। 

জবরদখল করা 'নতুনপাড়া' নামে একটি গ্রাম গড়ে তোলা হয়েছে।  অথচ বছর তিন-চার আগেও ওই এলাকা শাল-গজারির গভীর অরণ্য ঘেরা ছিল।  রাতারাতি পুরা বনাঞ্চল বিরান ভূমিতে পরিণত হয়।  বনবিভাগ বার বার চেষ্টা করেও ওই জমি জবর দখলমুক্ত ও জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে ব্যর্থ হয়।  দূর্দন্ড প্রতাপর অধিকারী মুচি জসিমের ভয়ে ওই এলাকায় কোন বন রক্ষী ও গনমাধ্যাম কর্মীরা প্রবেশ করতে পারেনি।  এসময় অনেকেই হয়েছেন লাঞ্ছিত।  তার অপকর্মের কারনে তার নামে ২টি মামলায় সাজাসহ ১৮টি বন মামলা থাকা স্বত্তের দিব্যি ঘুরে বেরিয়েছে। 


গাজীপুর পুলিশ সুপার এসপি হিসেবে শামছুননাহার যোগদানের পরই পরিবর্তন হয়ে যায় দৃশ্যপট।  গত শুক্রবার সকালে কাপাসিয়ার একটি বন থেকে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।  মুচি জসিম নিহত হওয়ার পরই জেলা প্রশাসন ওই বনের জমি উদ্ধারের পদক্ষেপ নেয়।  এ প্র‌েক্ষিতে শনিবার দুপুরে ওই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন গাজীপুর জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্র‌েট জান্নাতুল ফেরদৌস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মশিউর রহমান, জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সনজিব কুমার দেবনাথ, গাজীপুর এডিশনাল এসপি রাসেল শেখ, এডিশনাল এসপি গোলাম সবুর, ঢাকা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাঃ ইউসুফ, এসপি সার্কেল শাহিদুল ইসলাম, সহকারী বন সংরক্ষক এনামুল হক, এএসপি শোভন চন্দ্র, এএসপি শরীফ আল রাজীব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার(ভুমি) নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শাহ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা, কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাঃ রফিকুল ইসলাম, কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আজাহারুল ইসলাম, কাচিঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মহসিন, শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক, কালিয়াকৈর ফরেষ্ট চেকষ্টেশন কর্মকর্তা মমিনুল হক, চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা খদকার মাহমুদুল হক মুরাদ, মৌচাক বিট কর্মকর্তা সজিব কুমার মজুমদার, সালনা বিট কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, জাথালিয়া বিট কর্মকর্তা আহাদ আলী,রঘুনাথপুর বিট কর্মকর্তা দিলিপ কুমার মজুমদার, বোয়ালী বিট কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলাম,শিমলাপাড়া বিট কর্মকর্তা রুমেল প্রমুখ। 

সহকারী বন সংরক্ষক(এসিএফ) মো: এনামূল হক জানান, গত কয়েক বছরে বনদস্যু জসিম ও তার সহযোগীরা ওই এলাকার প্রায় ১০ একর মূল্যবান জমি জবরদখল করে নেয়।  আজ জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায়  উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।