৬:৩১ এএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, সোমবার | | ১৩ মুহররম ১৪৪০


আ. লীগ সরকারের লোকাল গার্ডিয়ানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে : রিজভী

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০২:৪৭ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম :  বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের লোকাল গার্ডিয়ানের ভূমিকায় পুলিশ অবতীর্ণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। 

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গণবিচ্ছিন্ন হতে হতে জনগণের কাছ থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।  সেজন্য একমাত্র পুলিশই আওয়ামী সরকারের লোকাল গার্ডিয়ানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ’

রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। 

পুলিশি রাষ্ট্র
রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের শাসনভার একচেটিয়াভাবে ধরে রাখার জন্য ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা গুম, নরহত্যা, বিনা বিচারে আটক ও ক্রসফায়ার চালিয়ে যাচ্ছেন। ’

“বাংলাদেশ নামক ‘পুলিশ রাষ্ট্রটি’ এখন শাসিত হচ্ছে এমন এক ব্যক্তির দ্বারা যার ক্রোধানলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে,” মন্তব্য করেন রিজভী। 

গায়েবি মামলা, মৃত মানুষও আসামি
রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়েই দেশের নিয়ন্ত্রণ মজবুত রাখতে চাচ্ছেন।  দেশজুড়ে চলছে এখন গায়েবী মামলার ছড়াছড়ি।  মৃত ব্যক্তিকেও এখন ককটেল ছুঁড়ে মারতে দেখছে পুলিশ।  সরকার কী অদ্ভুত বাহিনীতে পরিণত  করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে। ’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ কর্তৃক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কদমতলী থানা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ১৯৬ জন নেতাকর্মীর নামে গত ৫ সেপ্টেম্বর বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এই যে, কদমতলী থানা বিএনপি নেতা মো. মুনসুর আলী গত ২৭ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মৃত্যবরণ করলেও তাকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। ’

‘অর্থাৎ ক্ষমতার জোরে মিথ্যার বেসাতি করতে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এতটাই পারঙ্গম ও লাগামহীন যে মৃত ব্যক্তিকেও এরা আসামি করেছে, যোগ করেন রিজভী। ’

হজে গিয়েও আসামি
বিএনপির এই নেতা বলেন, এ বছর পবিত্র হজ পালনের জন্য কদমতলী থানা বিএনপি নেতা আসলাম মোল্লা, ফারুক হোসেন এবং আব্দুল হাই মক্কা নগরীতে অবস্থান করলেও রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার অসৎ উদ্দেশ্যে তাদেরকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। 

‘বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে পর্যদুস্ত করতে দেশব্যাপী গ্রেফতার এবং অসত্য ও ভুয়া মামলা দায়েরের অংশ হিসেবেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কদমতলী থানা বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে,’ দাবি করেন রিজভী। 

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান বিএনপির এই নেতা। 

গত কুরবানির ঈদের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় এক লাখের উপর মামলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রিজভী। 

কারাগারে খালেদা জিয়ার হালচাল
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করেন রিজভী। 

তিনি বলেন, ‘গতকালও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও কারাকর্তৃপক্ষ একই সুরে বলেছেন বেগম জিয়া ততটা অসুস্থ নন।  তারা বলেছেন বেগম জিয়া আগে যেসব রোগে ভুগতেন এখন সেসব রোগেই তিনি ভুগছেন। ’

‘আওয়ামী লীগ নেতা ও কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বেগম জিয়ার অসুস্থতাকে তাচ্ছিল্য করে তার জীবনকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, যা চরম অমানবিকতারই এক নিষ্ঠুর বহি:প্রকাশ।  বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে হানিফ ও কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিষ্ঠুর রসিকতা। ’

রিজভী আরও বলেন, ‘বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক এবং সবশেষে আইনজীবীরা তাকে বাঁচানোর জন্য অবিলম্বে ইউনাইটেড হাসপাতাল অথবা বেসরকারী বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।  কিন্তু এখনও সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ’

‘কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার কোনো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।  বেগম জিয়ার জীবন হুমকির মুখে থাকবে, আর দেশবাসী চেয়ে চেয়ে দেখবেন তা হবে না। ’ ‘তাকে ই্উনাইটেড বা অন্য কোনো বেসরকারী বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।  বেগম জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে টালবাহানার পরিণতি ভাল হবে না। ’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়া কিছু খেতে পারছেন না।  তিনি অভুক্ত থেকেছেন দিনের পর দিনে।  বিনা চিকিৎসায় ভোগানোর জন্য তাকে কারাবন্দী রেখেছেন শেখ হাসিনা।  কারাবন্দী বেগম জিয়ার ভাগ্য আদালতের ওপর নির্ভরশীল নয়, তা নির্ভর করে শেখ হাসিনার মর্জির ওপর। ’

 সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরে আরা সাফা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মনির হোসেন, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসার প্রমুখ।