৭:১৯ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১৪ মুহররম ১৪৪০


ধনবাড়ীতে অনলাইন ব্যবসায়ী ফরিদ ৩৬ কোটি টাকা নিয়ে পালাতক

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:০২ এএম | জাহিদ


হাফিজুর রহমান, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে অনলাইন ব্যবসায়ী ফরিদ ৩৬ কোটি টাকা  নিয়ে পালাতক হওয়ায় ভোক্তভোগীদের মাথায় হাত পড়েছে। 

ধনবাড়ী উপজেলার ১নং বীরতারা ইউনিয়নের কাঠালিয়াবাড়ী গ্রামের মৃত নজর দেওয়ানীর ছোট ছেলে ফরিদুল ইসলাম ফরিদ কিউমার্ট অনলাইন মেগাসপ ব্যবসার নামে জেলার বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে অনলাইন ব্যবসায়ী ফরিদ ৩৬ কেটি টাকা নিয়ে পালাতক হওয়ায় ভোক্তভোগীদের মাথায় হাত পড়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছু দিন যাবৎ ধনবাড়ীতে কিউমার্ট অনলাইন মেগাসপ ব্যবসার নামে ধনবাড়ী নিউ মার্কেটের পূর্ব পাশে হাকিম ম্যানশন এর নিচ তালায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে নামধারী এজেন্ট প্যাসিফিক গ্রুপ নাম বসিয়ে এই প্রতারক চক্রেরা জমজমাট বানিজ্য করে আসছিল। 

এই চক্রটি ধনবাড়ী পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স না নিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে এ ব্যবসা করে সকলের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা।  ভোক্তভোগীরা তাদের পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। 

ভোক্তভোগী সরিষাবাড়ী উপজেলার আনোয়ার হোসেন, বেলাল হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, হাফিজুর রহমান,ও ঘাটাইল উপজেলার সবুজ, কাঠালিয়াবাড়ী গ্রামের ছোবাহানের ছেলে শিহাব, বাজিতপুর গ্রামের রশিদ মন্ডলের ছেলে বাবু সহ আরো সকলেই জানান, ফরিদ, বনগ্রাম(হোসনাবাদ) গ্রামের স্বপন,রিপন সহ ঐ গ্রুপের সকল প্রতারক সদস্যরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। 

টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা সহ অন্যান্য জেলার কয়েক হাজার পুরুষ-মহিলাদের কাছ থেকে অনলাইন ব্যবসার নামে আইডি প্রতি ৯হাজার ৬শ থেকে শুরু করে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।  বিভিন্ন মূল্যেও প্যাকেজ বিক্রয় করে তারা। 

ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের কাঠালিয়াবাড়ী গ্রামের  মৃত নজর দেওয়ানীর ছেলে ফরিদ ও তার চাচাতো বোন জামাই পাশর্^বর্তী বনগ্রাম হোসনাবাদ গ্রামের রিপন কাজী,পাশ্ববর্তী বনগ্রাম এলাকার স্বপন, জিহাদ এরা সহ আরো কয়েকজন লিডার হয়ে কাজ করেছেন ।  এখন তারা সবাই পলাতক রয়েছে বলে ভোক্তভোগীরা জানায়। 

ভোক্তভোগীরা আরো জানায়, ভোক্তভোগী আমরা এক এককেক জন  ব্যাংক ও এনজিও থেকে চওড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসার জন্য ফরিদের কাছে টাকা দেওয়া হয়েছিলো।  ফরিদ টাকা ফেরত না দিয়ে একই উপজেলার বানিয়াজান দক্ষিণপাড়া গ্রামের ফরিদের শুশুর মতিয়ার রহমান মতি’র বাড়ীতে আত্মগোপনে রয়েছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরিদের বাড়ীর কয়েক মহিলা জানায়, ফরিদ প্রথমে গোপনে কুষ্টিয়ায় চাকরি করত।   সেখান থেকে ফরিদ শিবির এর সদস্য হয়ে কাজ করত।  ফরিদ বর্তমানে বীরতারা ইউনিয়ন ইউনিয়ন শিবিরের সেক্রেটারী বলে পরিচয় দেয়।  আর বলে কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে কোন থানা পুলিশ করে তাহলে শিবির দিয়ে পায়ের রগ কেটে দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে। 

এলাকাবাসী জানায়, ফরিদ ও তার শশুর মতি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীর দিন বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী কে কুটাক্ষ করে বানিয়াজান দক্ষিন পাড়া গ্রামে খালেদা জিয়ার ভূয়া জম্ম দিন পালন করেছিলো।  এ নিয়ে ও অনলাইন ব্যবসার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে টাঙ্গাইলের স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক সহ একাধিক অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরেও প্রশাসনের কোন ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।  তাই এখনন প্রশাসনের উর্দ্বতন কর্মকর্তা সহ মাননীয় জেলা পুলিশ সুপার ও মাননীয় স্বরাস্ট্র মন্ত্রীর সহ মাননীয প্রধান মন্ত্রীর নিকট জরুরী হস্থক্ষেপ কামনা করছি। 

এ ব্যাপারে ফরিদের বাড়ীতে গেলে না পাওয়ায় ফরিদের শশুর বাড়ীতে গেলে ফরিদের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মালা জানায়, আমার স্বামী ফরিদ অনলাইন ব্যবসা করত।  ঐ সময় অনেকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন করেছে।  এখন আমার বাবা আমার সুখের কথা চিন্তা করে অনেকের টাকা দিয়ে দিচ্ছে।  তবে সকলের টাকাই ফেরত দিয়ে দিবে বলে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। 

উল্লেখ্য ধনবাড়ীতে অনলাইন ব্যবসায়ীদের  জিহাদ নামের একজন লিডার প্রতারক প্রায় ১৮ কোটি টাকা নিয়ে পালানোর সময় ২৭ মে ২০১৮ইং তারিখে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছিলো। 

এ ব্যাপারে ধনবাড়ী পৌরসভার মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন সাংবাদিকদের জানান, তার কাছে পৌরসভায় সালিশ বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন লিডার সকলেও গ্রাহকদের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে যান।  তবে তারা আমার অজান্তে গোপনে ট্রেড লাইসেন্স না নিয়ে কিউমার্ট অনলাইন মেগাসপ ব্যবসাও তারা করেছিলো। 

এব্যাপারে ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক আরশেদ আলী বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য মুচলেকা দিয়ে জিহাদ নামের ঐ প্রতারক চক্রের সদস্যকে ধনবাড়ী পৌর সভায় নিয়ে যান। 

বিষয় টি নিয়ে (২৭ মে) রবিবার ধনবাড়ী পৌরসভায় ভূক্তভোগী সকলের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বীরতারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম (শফি) ও আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক আরশেদ আলী সহ স্থানীয় আওয়ামীলীগের কিছু নেতা চেষ্ঠা করেছিলেন।  সালিশ বৈঠকে সকল গ্রাহকদের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে যান।  তবে কেউ অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনঅনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


keya