১:৪৭ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




চট্টগ্রামের অন্যতম আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট গু‌লিয়াখা‌লি বিচ

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৫:৩০ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : চারদিকের সবুজ শ্যামলিম রূপ দেখে কাশ্মীর ফেরৎরা গুলিয়াখালি সৈকত এলাকাকে মেলাচ্ছেন কাশ্মীরের প্যাহেলগাম-এর সাথে।  এখানে বেড়াতে আসা প্রকৃতি প্রেমিদের কথা, চারদিকের সবুজ ম্যানগ্রোভ যেন সুন্দরবনের রূপ।  কারো কারো মত, দেশে এমন সবুজ সৈকত আর দ্বিতীয়টি নেই। 

সবুজ গালিচার ন্যায় বিস্তৃত ঘাস।  বিচের পাশ ঘেষে প্রাকৃতিকভাবে তৈরী অসংখ্য আঁকাবাঁকা নালা।  যেগুলোকে মনে হয় সবুজের মাঝে ছোট ছোট দ্বীপ।  যা বিচকে দিয়েছে ভিন্নতা।  যা মোহিত করে ভ্রমণ পিয়াসুদের।  সব মিলিয়ে প্রকৃতির হাতে গড়া নতুন বিস্ময় বলা চলে সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী বিচকে।  প্রতিদিন এখানে বাড়ছে সারাদেশ থেকে আসা ভ্রমণপিয়াসু মানুষের ঢল।  তারাই এই বিচকে নানা বিশেষনে বিশেষায়িত করছে।  করছে গুণকীর্তণ। 

সীতাকুণ্ড এমনিতেই প্রাকৃতিকভাবে সৌন্দর্যমণ্ডিত।  পূর্বে সুউচ্চ চন্দ্রণাথ পাহাড়।  পশ্চিমে সন্দ্বীপ চ্যানেল।  মাঝখানে যেন প্রকৃতির হাতে গড়া সবুজের চাদরে মোড়া গুলিয়াখালি সৈকত।  যেখানে জোয়ারের সময় দেখা মেলে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আর গর্জন, পাশের কেওড়া বন যেন সুন্দরবনের প্রতিচ্ছবি।  ফলে গত এক বছরে সীতাকুণ্ডের অন্যসব পর্যটন স্পটকে পেছনে ফেলে এখান সবার মুখে এই গুলিয়াখালীর নাম।  শুধু সীতাকুণ্ডের নয়, ভ্রমণ পিয়াসু মানুষদের আকর্ষণে নানাসব উপদান থাকায় দেশের অন্যতম আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট হতে চলেছে এই বিচ। 

বাংলাদেশের প্যাহেলগাম খ্যাতিপাওয়া গুলিয়াখালি সৈকতের ইতিহাস বেশি দিনের নয়।  স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেল, মাত্র তিন বছর আগেও বর্তমান সৈকতের রূপ এমন ছিল না।  এখন যেখানে সবুজের চাদরে ঢাকা, তা ছিল মাটি আর বালির সৈকত পাড়।  ছিল, এখানে সেখানে নানা উচ্চতার কেওড়া বাগান।  যার আশেপাশে ফুটবল খেলায় মেতে উঠতো স্থানীয় যুবক কিশোররা।  ছ’ সাত বছর আগ থেকে এখানকার কেওড়া বাগানের গাছ রাতের আধারে কাটা পড়তে থাকে।  কমতে থাকে গাছ।  তিন-চার বছরের মধ্যে হ্রাস পায় কেওড়া গাছের সংখ্যা। 


বিপরীতে ক্রমান্বয়ে জেগে উঠতে থাকে নতুন সম্ভাবনা।  সবুজ গালিচার ন্যায় ঘাস বিস্তৃত হয়ে সবুজে আচ্ছাদিত হয়ে ওঠে উপকূলের বর্তমাণরূপ।  প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয় অসংখ্য নালা আর গর্ত, যা দেখতে মিনি সবুজ দ্বীপ মনে হয়।  ফলে তা হয়ে ওঠে মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী উপকূলে দেশের জনপ্রিয় সৈকত।  যাকে প্রকৃতির দান বলছে স্থানীয় মানুষ।  এতসব বিবর্তন মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে। উত্তর-দক্ষিণে বিশাল মাঠ আর কিছুদূর পরপর সারিহীন গাছের বাগান।  মাঝখানে আঁকাবাঁকা গুলিয়াখালী খাল।  খালের উত্তরে ঘণ কেওড়াগাছের সবুজ ম্যানগ্রোভ বন, যেন সুন্দরবনের আরেক রূপ।  যা এই বিচকে করেছে অতুলণীয়।  সবুজ ঘাসের বুকে শুয়ে বা বসে সাগরের ঢেউয়ের গর্জন আর বাতাসের শীতলতা, যে কাউকে দেবে অন্য রকম এক প্রশান্তি।  উন্মুক্ত প্রান্তর জুড়াবে চোখ।  যার আবেশ থাকবে বহুদিন।  সবুজ ঘাসের ওপর দিয়ে জোয়ারের মিতালী।  ঘাসের গালিছা গড়িয়ে ভাটার টানে আবার জোয়ারের পানি সাগরে মিলিয়ে যাওয়ার বিরল দৃশ্যও চোখে পড়বে এখানে।  কেউ কেউ বলছে, যা আছে শুধুমাত্র এই সৈকতেই। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণেই মূলতঃ সারাদেশে পরিচিতি পায় এই বিচ।  বলতে হবে সীতাকুণ্ড তথা চট্টগ্রামের বাইরের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রমণ প্রিয় শিক্ষার্থী আর তরুণদের নিয়ে গড়ে উঠা ট্যুরগ্রুপেরই কৃতিত্ব এই পরিচিতিতে।  যেমন তারা ইতিপূর্বে বাঁশবাড়িয়া বিচসহ সীতাকুণ্ড পাহাড়ের বিভিন্ন ঝর্ণাগুলোও তুলে ধরেছে ফেসবুক বা ভ্রমণ ভিত্তিক ওয়েবসাইটে। 

তবে স্থানীয় যুবকদের দাবী ২০১৫ সাল থেকে তারাই ফেসবুকে এটার প্রচারণা করে যাচ্ছে, ক্রমেই জনপ্রিয় করেছে দেশের মানুষের কাছে।  মূলত: প্রচার-প্রচারণা থেকেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সীতাকুণ্ডের সব পর্যটন স্পট।  ফলে সীতাকুণ্ড সদরে এখন হর হামেশা চোখে পড়ে ভ্রমণকারী ট্যুরিস্ট গ্রুপের দল।  তাদের প্রায় সবাই তরুণ, তারা কোনা কোন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থী।  যা সীতাকুণ্ডের পর্যটন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। 

এখানে আসা প্রকৃতি প্রেমিরা বলছেন, চারদিকের সবুজ ম্যানগ্রোভ যেন সুন্দরবনের দৃশ্য।  কারো কারো মত দেশে এমন সবুজ সৈকত আর দ্বিতীয়টি নেই।  কেউ বলছেন, এমন প্রকৃতি নেই পৃথিবীর আর কোথাও। 

এসব বর্ণনা আর বিশেষণ সীতাকুণ্ডের অনিন্দ্য সুন্দর গুলিয়াখালি বিচের, দেশের বিভিন্ন প্রান্থ থেকে আসা প্রকৃতি প্রেমী আর ভ্রমণ পিয়াসু মানুষের। 

দর্শনার্থী আরিফুল এসেছেন বন্ধুদের নিয়ে।  তার মত, অন্যান্য বিচ থেকে এটা আনকমন।  চারদিকে সবুজ গাছপালা, একই সাইজের ছোট সবুজ ঘাস, সবুজ ঘাষের বুকে ছোট ছোট অসংখ্য গর্ত পুরো এলাকাকে করেছে দারুণ।  তার কণ্ঠে উচ্ছারিত হলো ‘ অসাধারণ একটা জায়গা এটা। ’

ট্যুরিস্ট পুলিশ এর এডিশনাল ডিআইজি মুহাম্মদ মুসলিম।  সস্ত্রীক আসেন বিচ দেখতে।  যেন রথ দেখা আর কলা বেচা।  দায়িত্বের খাতিরে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে বলেন কথা।  তিনি আশ্বাস দেন, আগামী শীত মৌসুমের আগেই গুলিয়াখালী, সীতাকুণ্ড ও আশপাশের পর্যটন স্পটগুলো ট্যুরিস্ট পুলিশের নজরদারীতে আনার। 

সব মিলিয়ে বলা যায়, আগামীতে সীতাকুণ্ড হতে যাচ্ছে পযটনের নতুন গন্তব্য।  গুলিয়াখালি সৈকত এলাকা হবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অন্যতম আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট। 



keya