৪:২৪ এএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০


সুচিকিৎসা ও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত খালেদা জিয়া : ডাঃ শাহাদাত

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:৩২ পিএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম : চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেছেন, কারাগারে বেগম খালেদার জিয়া বাম হাত ও পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে।  বর্তমানে তিনি খুবই অসুস্থ।  সরকারী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করানোর সুপারিশ করলেও সরকার তা অগ্রাহ্য করছে।   একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে সুচিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে সরকার।  জেল কোড অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া সুচিকিৎসা ও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত। 

তিনি বলেন, সরকারের ঘনিষ্ট ব্যক্তিরা অবৈধভাবে লুটপাট করে আজকে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় স্থান পেয়েছে।  বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে।  তাই বিশ্বের বৃহত্তম দেশকে ডিঙ্গিয়ে বাংলাদেশ আজ শীর্ষ ধনীর তালিকায়। 

তিনি বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে কারাগারে আদালত বসানো এবং কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে নাসিমনভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে কেন্দ্রঘোষিত প্রতীকি অনশন কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন। 

সকাল ১০ টা দুপুর ১২ টা পর্যন্ত অনশন কর্মসূচিতে বিভিন্ন পেশাজীবি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দুর্যোগপূর্ণ আবহওয়া উপেক্ষা করে যোগ দেন। 

অনশন শেষে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী নেতৃবৃন্দকে জুস পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান। 

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর বলেছেন, অবৈধ আওয়ামীলীগ সরকারের হানাদার বাহিনীরা দেশজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর চালাচ্ছে অন্যায় আগ্রাসন।  বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার সম্পূর্ণ গণবিরোধী।  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভোটাবিহীন একতরফা করতে নানা ধরনের প্রতিহিংসায় মেতে উঠেছে।  নানাভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পুলিশী শক্তি ব্যবহার করে রাজনৈতিক পরিবেশ সংঘাতময় করার চেষ্টা করছে।  তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে সরকারের আক্রোশের শিকার হয়ে বেগম খালেদা জিয়া আজ কারাবন্দি।  তাকে কারাগারে রেখে কোন নির্বাচন হবে না।  নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে।  শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।  নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে। 

তিনি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতাকৃত চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা ইয়াকুব চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর আবদুস সাত্তার সেলিম, আবু মুসা, বেলায়েত হোসেন ভুলু, কবি সিরাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, গোলাম কিবরিয়া গোলাপ, জোনাব আলীসহ নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবী করেন। 

সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেছেন, সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার শুরু করেছে সরকার।  চট্টগ্রামসহ সারাদেশে কোন ঘটনা না ঘটলেও বিভিন্ন থানায় থানায় অগ্রীম মামলা করে রেখেছে পুলিশ।  এসব মামলায় হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামী করে রাখা হয়েছে।  সারাদেশে চলছে মামলার ছড়াছড়ি, গ্রেফতার ও আসামী করার হিড়িক।  সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিনা কারণে দমননীতির অংশ হিসেবে মামলা দায়ের করে সে মামলায় গ্রেফতার করছে।  সরকার অজানা আশংকায় নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে কারাগার ভরে ফেলেছে।  দমন পীড়ন চালিয়ে বেআইনীভাবে চিরকাল ক্ষমতায় থাকাটা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। 

এ প্রতিকী অনশন কর্মসূচীতে বিএনপির বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 


keya