২:১৭ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ সফর ১৪৪০


শ্রীপুরে ডিবিএল-কে জমি দিয়েও বন মামলার আসামী নুরু!

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৫৩ পিএম | সাদি


আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : যে টুকু জমি আছিল সম্বল, সবখানিই তাগরে লেইখ্যা দিছে পোলাটা।  হের পরও আমার পোলার নামে ফরেষ্টার মামলা দিছে।  শেষ আমরা বুড়া-বুড়ি বয়সে না খাইয়া মরমু নাহি। 

ডিবিএলরে কইন ফরেষ্টারের এনতে মামলা তুইলা দিতো।  নাইলে আল্লাহ বিচার করবো।  আংগরে দেহার মতো কেও নাই।  হাউ মাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন ১০০ বছর বয়সী বৃদ্ধা আইয়ুব আলী।  ছন্নছাড়া জীবনের আলো খোঁজা ছেলে-মেয়ে নিয়ে মোটামোটি ভালোই কাটছিল শতবছরের বৃদ্ধা আইয়ুব আলী সংসার।  মাথা গুজার ঠাই হিসাবে বনের জায়গায় ঘর বেঁধেছিল। 

নানা প্রলোভনে একটি চক্র তার সেই আবাস্থলটুকু কেড়ে নিতে উঠে পড়ে লাগে।  বন মামলার ভয় ও চারদিকের চাপে ছেড়ে দেয় সেই বাড়ী আর জমি।  তবুও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের।  তারপরও তার ছেলে নুরু ইসলামের নামে বনের মামলা দেয়া হয়।  নুরুর মতো আরো অনেক নিরীহ লোকের নামেও বন মামলা দিয়ে জায়গা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ। 

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপির বাড়ী ছাতিরবাজার এলাকায় ডিবিএল কর্তৃৃক জায়গা দখলের কবলে পড়ে শেষ বয়সেও বাঁচার আকুতি ওই বৃদ্ধার। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, ডিবিএল প্রথমে তাদের ঘর ছাড়তে বলে।  না ছাড়লে সামন্য টাকার লোভ দেখায়।  এতে রাজী না হলেই বনসহ নানা মামলার ভয় দেখানো হয়।  এলাকার নেতারা তাতের সাথে মিলে এ দখল কাজ পরিচালনা করে বলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায়না। 

জানা যায়, ৯নং টেপিরবাড়ী মৌজার সিএস-৫৩ দাগের পুরোটাই গেজেট।  এখানে মোট ২২৮.১৭ একর বনের জায়গা রয়েছে।  তার মধ্যে বেশির ভাগই দখল হয়ে গেছে।  বিভিন্ন সময় বন বিভাগ দখলে থাকা বনের জমি উদ্ধার করে বনায়ন করলেও পূণরায় সেগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে।  সাতখামাইর বিট অফিসের তথ্য মতে ২০১৫-১৬ সালে ডিবিএল-এর বিরুদ্ধে বন আইনের ধারা ২৬((ক) ও (ঞ) অনুসারে মামলা নং- ২৪/২৯/৩০ ও ৩১ দায়ের করা হয়। 

এতে যদিও ৩০ নং মামলায় ডিবিএল এর মালিক ওয়াহিদুজ্জামান বাবুল কে ১নং আসামী করা হয়। 

এ ব্যাপারে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অপারকতা জানিয়ে ডিবিএল-এর স্টেট অফিসার আমিনুল ইসলাম প্রিন্স জানান, আমার জানা মতে ডিবিএল জোর করে কারো সম্পদ নেইনি। 

বনবিভাগের সাথে আমাদের মামলা রয়েছে।  আমাদের কাগজপত্র নিয়ে আদালতে সে মামলা গুলোর আইনী মোকাবেলা করা হচ্ছে।  কিসের আবার বক্তব্য,আমার জমি আমি ভোগ করি একথা ডিবিএল- এর মালিক ওয়াহিদুজ্জামান বাবুল বলেন, আমাদের কাগজ আমরা আদালতে দাখিল করবো।  আপনাকেও তো আমি চিনিনা।  শ্রীপুরের সব সাংবাদিকই আমাকে চিনে এবং আমি তাদেরকে চিনি।  ঢাকায় শ্রীপুরের অনেক সাংবাদিক আসে। 

সাতখামাইর বিট কর্মকর্তা সিদ্দিকুল ইসলাম জানান,আমি এখানে নতুন।  পূর্বে কে কি করেছে আমি জানিনা।  বনের জমি দখলকারীদের বিরোদ্ধে অভিযান চালানো আমার দায়িত্ব। 

শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, আমাদের অভিযানে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ২.২৫একর জমি উদ্ধার করে বনায়ণ করা হয়েছে । বনের জমি দখল করার কারনে ইতপূর্বেই ডিবিএল-এর মালিকসহ একাধিক ব্যক্তির নামে বনের ৫টি মামলা দেয়া হয়েছে।  আগামীতে সরকারী জমি উদ্ধারের সকল প্রচেষ্ঠা অব্যহত থাকবে। 


keya