৮:৫৬ এএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০


ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে ফিনল্যান্ড বিএনপির কর্মী সমাবেশ

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:২৪ এএম | নকিব


এমরান খান, ফিনল্যান্ড থেকে : দেশের বাইরে ভিন্নরকম আয়োজনে শতাধিক অনুসারীর অংশগ্রহণে কর্মী সমাবেশ করেছে ফিনল্যান্ড বিএনপির নেতাকর্মীরা। 

হেলসিংকির এস্পোতে সোমবার দিনব্যাপী এই আয়োজন শুরু হয় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং বিএনপির দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। 

জামান সরকার পরিচালনায় ও মবিন মোহাম্মদের আয়োজনে অনুষ্ঠানটি সমন্বয়ে ছিল ফিনল্যান্ড বিএনপি মিডিয়া উইং। 

কর্মী সমাবেশে হেলসিংকি, ভান্তা, এস্পো ছাড়াও ইভাসকুলা, ভাসা, তাম্পেরে, তুর্কুসহ বেশ কয়েকটি শহর থেকে দলের কর্মীরা পরিজন নিয়ে অংশ নেন। 

নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে এম এ ওয়াকিব বলেন, “দলের টানে, দেশের টানে প্রায় তিনশ কিলোমিটার দূর থেকে পরিবারের সবাইকে নিয়ে চলে এসেছি।  এখানে এসে অনেকের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।  এক প্রকার মিলনমেলাই হয়ে গেল। ”

অবশ্য অনেকেই ফিনল্যান্ডে বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

চার বছর ধরে ফিনল্যান্ডে বিএনপির কার্যক্রমে যুক্ত সবুজ খান বলেন, “ফিনল্যান্ড বিএনপির এত এত নেতাকর্মী রয়েছে, অথচ শক্ত প্লাটফর্মের অভাবে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।  বছরের পর বছর এভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে সংগঠন চলতে পারে না। ”

শিগগির যোগ্যদের মূল্যায়ন করে কমিটি ঘোষণার দাবিও জানান তিনি। 

কর্মী সমাবেশে অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, সংগঠনের নেতাকর্মীদের সন্তানদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

এছাড়া বাঙালি স্বাদের নানা ধরনের পিঠাপুলির পাশাপাশি মধ্যাহ্নভোজ ও সান্ধ্যভোজেরও আয়োজন ছিল অনুষ্ঠানে।    

আলোচনা সভায় কর্মীরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।  সংগঠনকে কীভাবে গতিশীল করা যায়, দেশের বাইরে কীভাবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা উচিত- সেসব বিষয়েও কেউ কেউ তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন। 

ফিনল্যান্ড বিএনপির একজন কর্মী শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমরা জানি দেশে চরম অরাজকতা চলছে।  আমরা জানি দেশে গণতন্ত্র নেই।  আমরা জানি স্বৈরশাসনে দমবন্ধ অবস্থা বিরাজ করছে আমাদের দেশে।  আমরা এসব বিষয়ের প্রতিবাদ যেমন করবো, তেমনি এখানে দেশের বদনাম যেন না হয় সে বিষয়েও সচেতন থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। ” অচিরেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন তিনি। 

অনুষ্ঠানে সমবেতকণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।  আয়োজনের প্রতি ধাপে ঝরেছে দেশের প্রতি আবেগ। 

রীতিমতো চমকের মধ্য দিয়ে ঘোষণা করা হয় সমাবেশের সমাপ্তি।  নবীন একজন কর্মীকে দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়।  


keya