৮:৪২ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪০




ডায়াবেটিস রোগীদের মধু খাওয়া কতটা এবং কিভাবে স্বাস্থ্যকর

০৪ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:৪৬ এএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম : মধু একটি উত্তম খাদ্য ও পানীয়।  বহু শতাব্দী ধরেই বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশে সাধারণ খাদ্য ও ঔষুধি খাদ্য হিসেবে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে।  মধু একটি ভালো বলকারক ও উত্তেজক খাদ্য।  অনেকে দীর্ঘ সর্দি-কাশিতে বা যাদের ঘন ঘন ঠাণ্ডা লাগে, তাদের জন্য উপকারী বলে দাবি করে আসছেন।  যে কারণেই খাওয়া হোক না কেন, ডায়াবেটিস রোগীদের বেলায় মধু খাওয়া কতটা এবং কিভাবে স্বাস্থ্যকর তা নিয়ে মৃদু বিতর্ক চলছে।  এ আলোচনার মাধ্যমে সে বিতর্ক কিছুটা হলেও অবসান হবে বলে আশা করছি।  মধুতে যথেষ্ট পরিমাণে শর্করা আছে। 

মধুতে ২৫-৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪-৪৩ শতাংশ ফ্রুকটোজ, ০.৫-৩ শতাংশ সুক্রোজ ও ৫-১২ ম্যালটোজ থাকে।  গ্লুকোজ তো আছেই, বাকি শর্করাটুকুও রেচন প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়।  অর্থাৎ গৃহীত মধুর প্রায় ৭৫ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ গ্লুকোজে পরিণত হচ্ছে।  প্রতি গ্রাম মধু থেকে ১.৮৮ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।  এতে সামান্য পরিমাণে প্রোটিনও পাওয়া যায়।  মধু একটি ঘন শর্করা জাতীয় খাদ্য।  কেউ কেউ বলে থাকেন মধু মিষ্টি জাতীয় খাদ্য হলেও ডায়াবেটিস রোগীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ইচ্ছামাফিক মধু খেতে পারেন। 

কোনো ডায়াবেটিস রোগী যদি সত্যি সত্যিই তা করে থাকেন তবে তিনি নিজের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনবেন।  আর তা বাজারের অন্য কোনো মিষ্টিদ্রব্য যেমন- রসগোল্লা, চমচম বা সন্দেশ খাওয়ার চেয়ে বড় মাত্রায় হবে।  কেন হবে এমন তা আমরা উপরে দেখানো মধুর উপাদানের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি।  ডায়াবেটিস রোগীরা মধু একেবারেই খেতে পারবেন না, তা নয়। 

তবে যতটুকু মধু খাবেন, তার সমতুল্য পরিমাণ শর্করা জাতীয় খাদ্য ওই বেলা কম খেতে হয়।  আর একসাথে বেশি পরিমাণ মধু কোনোভাবেই খাওয়া উচিত হবে না।  এক চামচ মধু খাওয়ার জন্য প্রায় দেড় কাপ ভাত, ছোট একটি রুটি খাওয়া বাদ দিতে হবে।  কেউ যদি এরূপ হিসাব মেনে নিয়ে মধু খেতে পারেন তবে তার জন্য খুব ক্ষতিকর হবে না।  তবে এটা করা বেশির ভাগ ডায়াবেটিস রোগীর পক্ষেই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।  আর তাই ডায়াবেটিস রোগীর জন্য মধু বর্জন করাই ভালো।