৯:২৭ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪০




সব ধরনের এনার্জি ড্রিংকসের উৎপাদন,আমদানি ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করেছে সরকার

০৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:০৩ এএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম :  সব ধরনের এনার্জি ড্রিংকসের উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করেছে সরকার।  মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ক্যাফেইনের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ও খাবারের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই। 

আমদানি বন্ধে ৪ অক্টোবর দেশের সব কাস্টম হাউসকে চিঠি দিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।  আর স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসটিআই। 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন লিভারে চর্বি জমায়।  হৃদপিণ্ডের রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে রক্ত চলাচল ধীর করে দেয়।  বুক ধড়ফড়ানি, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, উচ্চরক্তচাপ, ঘুমের ব্যাঘাত, শরীরে অ্যাড্রেনালিন নামক হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি করে টানটান উত্তেজনা বৃদ্ধি ও কর্মক্ষমতা হ্রাস করে।  দিনের পর দিন অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধও কাজ করে না। 

কাস্টম হাউসে বৃহস্পতিবার পাঠানো নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চিঠিতে বলা হয়েছে, বিএসটিআই নির্ধারিত মানবহির্ভূত কার্বোনেটেড বেভারেজ বিশেষত যেসব কার্বোনেটেড বেভারেজে ক্যাফেইনের মাত্রা প্রতি লিটারে ১৪৫ মিলিগ্রামের বেশি, সেগুলো আমদানি ও বিক্রি করা যাবে না।  এ ধরনের কার্বোনেটেড বেভারেজ/ড্রিংকস আমদানি ও বন্দর থেকে খালাস বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কাস্টমসকে বলা হল। 

একই সঙ্গে কার্বোনেটেড বেভারেজের মোড়কে এনার্জি ড্রিংকস ঘোষণা দেয়া বিভ্রান্তিকর বিধায় লেবেলে এনার্জি ড্রিংকস মুদ্রিত কার্বোনেটেড বেভারেজ আমদানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।  কার্বোনেটেড বেভারেজ খালাসের ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া দেশে প্রবেশ করতে না দেয়ার জন্যও বলা হয়। 

এ চিঠির অনুলিপি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে দেয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, নামসর্বস্ব অনেক দেশীয় কোম্পানি এনার্জি ড্রিংকসের নামে নেশাজাতীয় পানীয় দেশের বাজারে বিক্রি করছে।  আবার বিদেশ থেকে আমদানিও হচ্ছে।  এ ধরনের একটি পানীয় রেড বুল, যা রাজধানীর উঠতি তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।  এই এনার্জি ড্রিংকসের মোড়কে ঘোষিত তথ্যমতে, এতে প্রতি লিটারে ৩২০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন আছে। 

অন্যদিকে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে দেশীয় কিছু কোম্পানি এনার্জি ড্রিংকস বানাচ্ছে।  গ্রামের ছোট টং দোকান ও হাটবাজারে যা বিক্রি করা হয়।  সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে এসব ড্রিংকস সেবনে জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। 



keya