৯:০২ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪০




চ.বি.তে উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

০৭ অক্টোবর ২০১৮, ০৩:১৮ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ উদ্যোগে “Rethinking Development in South Asia-2018” শীর্ষক দু’দিন ব্যাপি (৭-৮ অক্টোবর ২০১৮) একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন চ.বি. ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে সকাল ১০ টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভাষণ দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। 

এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।  অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন চ.বি. উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার এবং ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এর নির্বাহী পরিচালক জনাব শাহীন আনাম। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন চ.বি. সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সমাজ বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ। 

অর্থনৈতিক উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করায় আয়োজকবৃন্দকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।  তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনার দিকসমূহ এবং স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশ ও স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার তুলনামূলক চিত্র আলোকপাতসহ বর্তমান আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনায় অভূতপূর্ব সাফল্য- উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, এ অঞ্চলের রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সুসম্পর্ক, বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবেলা তথা নিরাপত্তা, সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়ন ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা-উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা বিনিময়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্য-প্রযুক্তির অভাবনীয় সাফল্য, সামাজিক-সাংস্কৃতিক মেল বন্ধন সৃষ্টি, শিল্প-কারখানা স্থাপন, নারী-শিশু উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য সেবা, কৃষি খাতের সাফল্য, পাশ্ববর্তী দেশসমূহের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অধিকতর সুদৃঢ়করণসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন চুক্তি সম্পাদন ও তা কার্যকরে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদি সাফল্যের মাধ্যমে এ অঞ্চলের উন্নয়ন হবে বিশ^বাসীর কাছে একটি দিক নির্দেশনামূলক মডেল। 

ইউজিসি চেয়ারম্যান তাঁর ভাষণে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের একটি তথ্যচিত্র তুলে ধরে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল।  বর্তমান সরকারের সুযোগ্য-গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন আমাদের জন্য গৌরবজনক অধ্যায়। 

ইউজিসির চেয়ারম্যান এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তরুণ প্রজন্মের মেধা শক্তির বিকাশ এবং আধুনিক চিন্তা-চেতনার উন্মেষ ঘটানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, বৈশ্বিক সকলপ্রকার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক অধিকতর জোরদার করতে হবে। 

একইসাথে সকল চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন এবং ইতিবাচক ব্যবহার এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।  তিনি আরও বলেন,  এখন সময় এসেছে উন্নয়ন সহযোগী এবং আমাদের তরুণ শিক্ষক-গবেষকদের সমন্বয় করে একটি সুনির্দিষ্ট পথ খুঁজে বের করার।  আজকের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক সুপারিশমালা সে পথের ঠিকানা পাবে। 

উপাচার্য তাঁর ভাষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অর্থনৈতিক উপদেষ্ট ড. মসিউর রহমান এবং ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়কে গৌরবান্বিত করায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে স্বাগত ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।  একইসাথে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন সম্পর্কিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করায় আয়োজকবৃন্দকে এবং এ সম্মেলনে উপস্থিত দেশ-বিদেশের শিক্ষক-গবেষক ও অর্থনীতিবিদদের স্বাগত ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। 

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে।  এ উন্নয়ন-অগ্রগতি টেকসই ও জনবান্ধব করার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করার সময় এসেছে। 

এ প্রেক্ষাপটে উপাচার্য বলেন, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখা সর্বোপরি এতদঅঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিরাজমান সুসম্পর্ক নিশ্চিতের মাধ্যমে এ উন্নয়ন-অগ্রগতিকে টেকসই করা সম্ভব।  উপাচার্য আজকের এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশ থেকে আগত শিক্ষক-গবেষক ও অর্থনীতিবিদদের উপস্থাপিত প্রবন্ধের ওপর আলোচনা-পর্যালোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।  উপাচার্য সম্মানিত অতিথিবৃন্দকে ক্রেস্ট প্রদান করেন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চ.বি. লোক প্রশাসন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. আমীর মুহাম্মদ নসরুল্লাহ।  জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সূচিত হয়।  অনুষ্ঠানে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়।  আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের ১৫০ জন শিক্ষক-গবেষক অংশগ্রহণ করেন যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও নেপালের ২০ জন গবেষক অংশ নিবেন।  সম্মেলনে দেশ-বিদেশের শিক্ষক-গবেষকবৃন্দ ৯০টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। 

টেকনিক্যাল সেসনে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারতের দিল্লির আমবেতকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ডেভেলাপমেন্ট প্র্যাকটিস-এর পরিচালক ড. অনুপ কুমার ধর।  এতে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এ এইচ এম জাহেদুল করিম।  নির্ধারিত আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ এশিয়ান উইম্যান ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. উইল তুলাধর ডগলাস। 

দু’দিন ব্যাপি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চ.বি. বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 



keya