১০:০৪ এএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউস সানি ১৪৪০




পিরোজপুরে মন্দির ভাঙ্গার ঘটনায় মামলা গ্রেফতার-৪

০৮ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:৩৫ পিএম | জাহিদ


মো.দেলোয়ার হোসাইন, পিরোজপুর প্রতিনিধি :  পিরোজপুরে হিন্দু ধর্মের একটি কালি মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শিকদার মল্লিক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোঃ শহিদুল ইসলামকে ১ নম্বর আসামি করে পিরোজপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

সদর থানার ওসি এসএম জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান মন্দির কমিটির সভাপতি সুবাষ চন্দ্র মিস্ত্রী বাদি হয়ে রোববার রাতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। 

এ ঘটনায় পুলিশ মহিদুল ইসলাম (৫০), ওয়াহিদ হাওলাদার (৪৫), আরিফ (৩২), ফেরদৌস (৩২) নামে চার জনকে গ্রেফতার করেছে। 

অর্ধশত বছরেরও বেশী সময় ধরে সনাতন ধর্মের লোকেরা এখানে ষাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পূজা-আর্চনা করে আসছিলেন ।  গত শনিবার দিন গত গভীর রাতে একদল লোক সদর উপজেলার পাঁচ পাড়া বাজারের মন্দিরটি ভাংচুর করে। 

এ সময় তাদের বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তদের হামলায়  বাজারের ৫/৬ জন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন।  এরা হলেন-গৌরাঙ্গ লাল মজুমদার (৬০), সুখ রঞ্জন মন্ডল (৪০) ও দিলীপ মৃধা (৩৮)। 

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির সদস্যরা জানান, সদর উপজেলার সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের পাঁচপাড়া বাজারে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত দল শাবল, হাতুড়ি, পিলার কাটার যন্ত্র ও লাঠি-সোটা নিয়ে ওই রাতে মন্দিরে হামলা চালায়।  দুর্বৃত্তরা এসময় মন্দিরে থাকা একটি কালী মুর্তি ভেঙ্গে ফেলে এবং মন্দিরের জায়গায় থাকা টিনের চালাঘর ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়। 

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা: সুধির রঞ্জন মজুমদার অভিযোগ করে বলেন, সিকদারমল্লিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সহিদ মন্দিরের জায়গাটি জবর দখল করে নেয়ার জন্যই তার লোকজন দিয়ে মন্দির ভাংচুর করেছে।  তিনি আরও জানান, মন্দিরের জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে, তারপরও রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তদের দিয়ে মন্দির গুঁড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চালান হয়। 

 মন্দির ভাংচুরে জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক জড়িত থাকার বিষয়ে জেলা কমিটির সভাপতি পিরোজপুর-১ আসনের এমপি একেএমএ আউয়াল বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়।  যে রাতে এ ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটেছে সে সময় অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম এলাকায় ছিলেননা।  বিষয়টি রহস্য জনক।  তদন্ত করে যদি পাওয়া যায় আমার দলের কেউ জড়িত তা হলে কঠোর বিচার হবে।  তিনি বলেন আওয়ামীলীগ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিশ্বাস করেনা।  মন্দির ভাঙ্গার জন্য স্থানীয় নোংড়া পলিটিক্স জড়িত। 

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম  সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন, একটি কুচক্রী মহল তাকে ফাঁসানোর জন্য এ ধরনের অপকৌশলের পথ বেঁছে নিয়েছেন।