২:২২ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




ফেনীবাসী সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে

দুই মাসেই অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক অর্জন

০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০১:১৩ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : বেশি মুনাফা সঞ্চয়পত্রে।  ব্যাংক আমানতে তুলনামূলক কম।  তাই ফেনীবাসী সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে।  এই জেলায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানা যায়। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের এ সংস্থায় কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়াই বিনিয়োগ করছে তারা।  বেশি বিনিয়োগ হচ্ছে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র খাতে। 

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ফেনী জেলা কার্যালয়ের তথ্য মতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) অর্জিত বিনিয়োগের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা।  অর্থবছরের শুরুর মাসেই জুলাইতে বিক্রি হয়েছে ১৯ কোটি টাকা।  এ মাসেই মুনাফা পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।  আগস্টে বিক্রি হয়েছে ১৫ কোটি টাকা।  মুনাফা পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। 

এর মধ্যে জুলাইয়ে পরিবার সঞ্চয়পত্রে ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৪৫ লাখ, ফিক্সড বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ২ কোটি ৮৮ লাখ, ৩ মাস অন্তর ৩ বছরমেয়াদি ৬ কোটি ২৫ লাখ এবং আগস্টে পরিবার সঞ্চয়পত্রে ৯ কোটি ২৮ লাখ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৬৯ লাখ, ফিক্সড বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ২৬ লাখ ও ৩ মাস অন্তর ৩ বছরমেয়াদি ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। 

জানা যায়, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১১.৫২ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ১১.৭৬ শতাংশ, ফিক্সড বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১১.২৮ শতাংশ, ৩ মাস অন্তর ৩ বছরমেয়াদি ১১.৪ শতাংশ মুনাফা প্রদান করা হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, ১৫৬ কোটি ৫১ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ হয়েছে।  এর মধ্যে গ্রাহকদের ৯২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আসল ও মুনাফা পরিশোধের পর নিট দাঁড়িয়েছে ৯৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। 

মাসিক বিবরণীতে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১৬ কোটি ৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। 

এর মধ্যে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা আসল ও ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে।  নিট বিনিয়োগ ছিল ১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। 

ফেব্রুয়ারি মাসে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।  এর মধ্যে ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা আসল ও ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে।  নিট বিনিয়োগ ছিল ৭ কোটি টাকা। 

মার্চ মাসে ১৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।  এর মধ্যে ৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা আসল ও ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে।  নিট বিনিয়োগ ছিল ৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। 

এপ্রিল মাসে ১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।  এর মধ্যে ৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আসল ও ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে।  নিট বিনিয়োগ ছিল ৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। 

মে মাসে ১২ কোটি ৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।  এর মধ্যে ৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা আসল ও ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে।  নিট বিনিয়োগ ছিল ৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। 

জুন মাসে ১৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।  এর মধ্যে ৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা আসল ও ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে।  নিট বিনিয়োগ ছিল ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। 

২০১৭ সালের জুলাই মাসে ১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।  এর মধ্যে ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা আসল ও ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে।  নিট বিনিয়োগ ছিল ৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা। 

আগস্ট মাসে ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।  এর মধ্যে ৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা আসল ও ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে।  নিট বিনিয়োগ ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। 

সেপ্টেম্বর মাসে বিনিয়োগ হয়েছে ১২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।  এর মধ্যে ৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা আসল ও ২ কোটি ১৯ লাখ টাকা মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে।  নিট বিনিয়োগ ছিল ৮ কোটি ১১ লাখ টাকা। 

অক্টোবর মাসে বিনিয়োগ হয়েছে ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা।  এর মধ্যে ৬ কোটি ৯ লাখ টাকা আসল ও ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে।  নিট বিনিয়োগ ছিল ১০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। 

নভেম্বর মাসে বিনিয়োগ হয়েছে ১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা।  এর মধ্যে ৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা আসল ও ৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে।  নিট বিনিয়োগ ছিল ৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। 

ডিসেম্বর মাসে বিনিয়োগ হয়েছে ৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।  এর মধ্যে ৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা আসল ও ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে।  নিট বিনিয়োগ ছিল ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। 

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবরে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়লেও ২০১৭ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মতো নভেম্বরেও সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমে যায়।  কিন্তু ব্যাংক খাতে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে আবারও পুরো দেশেই বাড়তে শুরু করে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি

ফেনীতে সঞ্চয়পত্রের দিকে গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ার কারণ কী? জানতে চাইলে ফেনী জেলা সঞ্চয় ব্যুরোর সহকারী পরিচালক সিরাজুল ইমাম বলেন, ‘ব্যাংকের চেয়ে দ্বিগুণ মুনাফা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকি নেই।  সেবা নিতে এসেও গ্রাহকদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় না।  এসবের ফলে সহজে বাড়তি মুনাফা লাভে গ্রাহকরা সঞ্চয়পত্রমুখী হচ্ছে। ’



keya