৫:০০ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রোববার | | ৭ রবিউস সানি ১৪৪০




গণমাধ্যমকে 'অপপ্রচার' থেকে বিরত থাকার আহ্বান বিএনপির

১২ অক্টোবর ২০১৮, ০২:৪১ পিএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম : ক্ষমতায় থাকায় যদি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায় তখনকার সরকারকে নিতে হয়, তা হলে বিডিআর হত্যাকাণ্ডসহ গুম-খুনের দায় বর্তমান সরকারকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে সংঘটিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের হয়, তা হলে বর্তমান সরকারের শাসনামলে পিলখানা বিডিআর সদর দফতরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, হলি আর্টিজানে হত্যাকাণ্ড এবং জঙ্গি হামলায় নিহত বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, এনজিও কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ইমাম-মোয়াজ্জিন, যাজক, পুরোহিত, ব্লগারসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ডের দায় ক্ষমতাসীনদের ওপরই বর্তায়। 

‘কিন্তু গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে এসব বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। ’

রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণে বিস্ময় প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় হামলা বলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ের যে পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে, তা ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বক্তব্যের হুবহু প্রতিফলন। 

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, জেলখানায় চার জাতীয় নেতার বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ঘৃণ্য অপরাধকে একই সূত্রে গাঁথার যুক্তি সঠিক হলে বিএনপি কিংবা বিএনপি পরিচালিত রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপরাধী বলা হল কোন যুক্তিতে?

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৪ সালে বিএনপির জন্মও হয়নি এবং ১৫ আগস্ট কিংবা ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচারে কোনো আদালতই বিএনপি কিংবা বিএনপির কোনো নেতাকে অভিযুক্ত, এমনকি সম্পৃক্তও করেনি। 

তা হলে ২১ আগস্টের ঘটনার বিচারের পর্যবেক্ষণে আগের দুটি ঘটনার উল্লেখ কতটা প্রাসঙ্গিক বলে প্রশ্ন তুলেন বিএনপি মহাসচিব। 

মির্জা ফখরুল বলেন, দল বিশেষের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ মিলে যাওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয় বলেই জনগণ মনে করে। 

তিনি আরও বলেন, হুজি নেতা মুফতি হান্নান দৈহিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখে যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন, তা তিনি প্রকাশ্য আদালতে লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নেয়ার পরও তারই জবানবন্দিকে ভিত্তি করে তারেক রহমান এবং অন্যান্য বিএনপি নেতাকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়াটা কতটা মানবিক ও যুক্তিযুক্ত কিংবা আইন সঙ্গত হয়েছে, তা উচ্চ আদালত বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি। 

‘আদালতের পর্যবেক্ষণে বিরোধী দলের প্রতি সরকার ও সরকারি দলের প্রত্যাশিত আচরণ সম্পর্কে যেসব বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, তা বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকারি দলের আচরণের ঠিক বিপরীত।  আমরা আশা করব সরকার আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ মান্য করবে। ’

তিনি ফখরুল বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এসএমএ কিবরিয়া ও আহসানউল্লাহ মাস্টারের হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ থাকলেও বিচারকের বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি সরকারি দলের আচরণ কেমন হওয়া উচিত, সে সম্পর্কে দেয়া পর্যবেক্ষণে বর্তমান সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী ও সাইফুল ইসলাম হিরু, কাউন্সিলর চৌধুরী আলম, ছাত্রনেতা জাকিরসহ গুম হওয়া রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কোনো কথা নেই কেন জনগণ তা জানতে চাইতেই পারে। 

‘রায়ের পর্যবেক্ষণে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে গত ১০ বছরে হাজারো গুম, খুন, গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে পঙ্গু করা, হাজার হাজার গায়েবি মামলা দিয়ে লাখ লাখ বিএনপি নেতাকর্মীকে বছরের পর বছর ঘরছাড়া করে রাখা, গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন করার বিষয়ে কোনো কথা না থাকা রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই পারে। ’

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকেও দোষারোপ করেন ফখরুল।  তিনি বলেন, মিডিয়ার একাংশ এ রায় প্রকাশের পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে মনগড়া কিছু তত্ত্ব ও তথ্য প্রকাশ করে তার সম্পর্কে জনমনে বিরূপ ধারণা দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। 

‘২১ আগস্টের নৃশংস ঘটনার সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য তৎকালীন সরকারই মামলা করেছে।  নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য এফবিআই ও ইন্টারপোলকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে; বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করেছে এবং সর্বোপরি এ মামলার মূল আসামি মুফতি হান্নানকে গ্রেফতার করেছে। ’

তিনি বলেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে- তৎকালীন সরকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না।  কাজেই রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় হামলা হয়েছে বলে আদালতের যে পর্যবেক্ষণ, তা যুক্তিগ্রাহ্য কিংবা গ্রহণযোগ্য নয়। 



keya