২:৩৬ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ সফর ১৪৪০


শ্রীপুরে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কোরআন শিখাচ্ছেন আছিয়া

১২ অক্টোবর ২০১৮, ০৬:০৭ পিএম | জাহিদ


আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : এ পাড়া থেকে ওপাড়া, এ বাড়ী থেকে ওবাড়ী সবই যেন তার মাদ্রাসা।  শিশু, যুবতী এমনকি বৃদ্ধ সবাই যেন তার শিক্ষার্থী। 

দুনিয়াতে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত এবং পরকালে শান্তির আশায় স্বেচ্ছায় ৫০ বছর ধরে  ছহি ভাবে পবিত্র আল কোরআন শিক্ষা দিয়ে আসছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়া গ্রামের ৮০ বছর বয়সী মোছাঃ আছিয়া বেগম। 

শুধু তা-ই নয় ওই এলাকার কোন মহিলা মারা গেলে তার গোশলের জন্য আছিয়ার বিকল্প নাই।  কেননা মৃত ব্যক্তির গোশল থেকে কাফনের কাপড় পড়ানো পর্যন্ত সকল অভিজ্ঞতাই তার আছে।  স্বামী আবুল হোসেন তোতা মিয়া মারা যাওয়ার পর থেকে তাঁর এক ছেলে হাফিজ উদ্দিন (৬০) এর সাথে থাকতেন তিনি।  তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়ে নিজেকে পুরোপুরি ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত করেন আছিয়া।  মানুষের কল্যানে নিজেকে বিলিয়ে দিতে সকলের মাঝে কোরআনের আলো ছড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি।  আশ্চার্য হলেও সত্য এখনো তার দৃষ্টিশক্তি প্রখর। 

স্থানীয় আঃ বারি মাস্টার জানান, আছিয়া আমাদের গ্রামের আলো।  গ্রামের মেয়েদের ধর্মীয় জ্ঞান দানে তার বিকল্প নাই।  কোন মহিলার মৃত্যুর সংবাদ শুনার পর সবার আগে আছিয়াকে পাওয়া যায়।   আমরা তার দীর্ঘায়ু কামনা করি। 

আল্লাহর প্রিয় রাসুলের পবিত্র ভূমি কাবা শরীফ গমন অর্থাৎ হজ্ব পালনই তার একমাত্র স্বপ্ন জানিয়ে আছিয়া বেগম বলেন, আমার নবীজির রওয়াজা শরীফ দেখার খুব ইচ্ছে জাগে।  অনেক দিন ধরে এ ইচ্ছে আমার মনের ভিতর।  “নাই কোন অভিমানে, যাইতে হবে গোরস্তানে”- একথা কারো অস্বীকার করার কোন সুযোগ নাই এবং কোরআন পড়ানো ব্যতিত তার বাড়ীতে ছটফট লাগে বলেও জানান তিনি।   

আছিয়ার এমন মহৎ কাজের সংবাদ পেয়ে শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম মোল্লা তার বাড়ীতে ছুটে যান।  ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র আল কোরআনের আলো ছড়ানোর কাজে খুশী হয়ে তাকে উপহার স্বরুপ কাপর দেন। এব্যাপারে তিনি জানান, আমি গিয়ে দেখি বাড়ীর উঠানে বসে কোরআন শিক্ষাচ্ছে সবার নানী আছিয়া।  এতা বয়সে এখনো চোখে স্পষ্ট দেখতে পান তিনি। 

এ ব্যাপারে শ্রীপুর রেলওয়ে জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোঃ মাহমাদুল হাসান জানান, গ্রামের বয়স্ক ও শিশুদের মাঝে পবিত্র আল কোরআনের বানী পৌছে দিতে আছিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করি।  কেননা আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তি প্রিয় যিনি তার একটি মাত্র হরফ হলেও অন্যকে শিক্ষা দেন। 


keya