২:১৩ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪০




বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে ৪ দিন আমদানি-রফতানি বন্ধ

১৭ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:৫৯ এএম | জাহিদ


মো.রাসেল ইসলাম, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি : বাংলাদেশ এবং ভারতের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে চারদিন ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সঙ্গে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। 

পুজার লম্বা ছুটির কারনে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাঁচামালের সংকট দেখা দিতে পারে।  তবে এ ছুটিতে বেনাপোল কাস্টম হাউজ ও বন্দরে পণ্য খালাস এবং বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। 

ভারতের পেট্রাপোল বন্দর সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) থেকে শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত চার দিন ছুটি থাকায় এ সময় পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে বেনাপোল বন্দরের সঙ্গে সব ধরনের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে।  ২০ অক্টোবর শনিবার সকাল থেকে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে। 

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক এমদাদুল হক লতা জানান, পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে টানা চার দিন আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও কাস্টম ও বন্দরে কাজকর্ম স্বাভাবিক থাকবে। 

বেনাপোল কাস্টমস চেকপোষ্ট কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) থেকে শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) পর্যন্ত  টানা চার দিন বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে কোন আমদানি-রফতানি হবে না বলে ভারতীয় কাস্টমস ও সিএন্ডএফ এজেন্ট আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন।  তবে বেনাপোল বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় খালি ট্রাক ফিরে যেতে পারবে।  

বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব ছুটিতে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক থাকবে পাসপোর্টধারীযাত্রীদের যাতায়াত। 

বেনাপোল বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার রামেশর মিনা পূজায় চারদিন ছুটির বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন।  তবে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দর এসময় খোলা থাকবে। 

প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ পণ্য বোঝাই ট্রাক আসে ভারত থেকে।  এ ছাড়াও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাচাঁ মালামালের পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য আসে এই বন্দর দিয়ে।  ভারতের বঁনগা কালিতলাসহ তিনটি পার্কিংয়ে প্রায় তিন হাজার ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে এরই মধ্যে বেনাপোল প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।  তার ওপর একটানা চার দিন বন্ধ থাকার পর ১৯ অক্টোবর সকাল থেকে আমদানি-রফতানি চালু হলে সৃষ্টি হবে পণ্য জটের পাশাপাশি ট্রাকজটের বলে জানান তিনি। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম।  ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ৯০ ভাগই আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে।  মাত্র সাত দিনের এলসিতে পণ্য আনা যায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে।  বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮১ কিলোমিটার।  আড়াই ঘন্টায় চলে আসা যায় চেকপোস্টে।  সে কারণে আমদানিকারকরা পণ্য আমদানির জন্য বেনাপোল বন্দর ব্যবহার থাকেন।  বন্দর বন্ধ থাকায় আমদানি-রফতানিতে প্রভাব পড়বে বলে আশংকা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।