৫:৫১ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




তথ্য ফাঁসের দায়ের ৫ লক্ষ পাউন্ড জরিমানা ফেসবুকের

২৫ অক্টোবর ২০১৮, ১১:৫০ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম :ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকা কেসে তথ্য ফাঁসের দায়ে ৫ লক্ষ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে ফেসবুককে।  যুক্তরাজ্যের তথ্য নিরাপত্তা অধিদপ্তর ইনফরমেশন কমিশনার’স অফিস (আইসিও) ফেসবুকের প্রতি জরিমানা ধার্য করে রায় দেয়। 

আজ বৃহস্পতিবার দেওয়া এই রায় প্রসঙ্গে আইসিও থেকে বলা হয়, ফেসবুক যুক্তরাজ্যের তথ্য আইনের ‘গুরুতর লংঘন’ করেছে।  একই সাথে ব্যবহারকারীদের ‘পরিষ্কার অনুমতি’ ছাড়া তাদের তথ্য অ্যাপ ডেভেলপারদের কাছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় আইসিও।  আর তাই তথ্য নিরাপত্তা আইনে থাকা সর্বোচ্চ আর্থিক জরিমানায় দণ্ডিত করা হয়েছে ফেসবুককে। 

ফেসবুককে জরিমানা করার বিষয়ে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইসিও জানায়, “২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের পরিষ্কার এবং জ্ঞাত অনুমতি ছাড়া তাদের ব্যক্তিগত তথ্যে অন্যায়ভাবে অ্যাপ ডেভেলপারদের প্রবেশাধিকার দিয়েছে ফেসবুক; শুধু যারা সেসব অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন তারাই না বরং ডাউনলোডকারীদের বন্ধু তালিকায় যারা ছিলেন তারাও এতে আক্রান্ত হয়েছেন”। 

একই সাথে এসব অ্যাপস এবং ডেভেলপারদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর মাধ্যমে গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষায় ফেসবুক পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয় বিবৃতিতে।  এছাড়াও ২০১৫ সালে তথ্য ফাঁসের বিষয়টি সামনে আসার পরেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ফেসবুক উদাসীন ছিলো বলে দাবি আইসিও এর। 

যুক্তরাজ্যের প্রধান তথ্য কমিশনার এলিজাবেথ ডেনহ্যাম বলেন, “এমন বৃহৎ আকার ও পারদর্শিতা সম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠানের এসব বিষয়ে আরও ভালো ধারণা থাকা উচিত ছিলো এবং আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিলো”। 

তবে ফেসবুকের তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় আরও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানান এলিজাবেথ।  আগামী ৬ নভেম্বর দেশটির ডিজিটাল, কালচার, মিডিয়া এবং স্পোর্টস অধিদপ্তরে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রমাণ জমা দেবেন এলিজাবেথ। 

এদিকে আইসিও এর সিদ্ধান্ত ‘মূল্যায়ন’ করে দেখা হচ্ছে বলে জানায় ফেসবুক।  জরিমানার আদেশ জারির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “যথাযথ সম্মানের সাথে আমরা জানাচ্ছি যে, তাদের (আইসিও) কিছু বিষয়ের সাথে আমাদের দ্বিমত আছে।  তবে আমরা আগেই বলেছি যে, ক্যামব্রিজ এনালেটিকার ঘটনায় ২০১৫ সালে আমরা অধিকতর তদন্ত করেছি এবং পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছিলাম”। 

প্রসঙ্গত, এক কুইজ এবং জরিপ কার্যক্রমের জন্য গবেষক ড. আলেকজান্ডার কোগান এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান জিএসআর ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বেশকিছু ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে।  এসব তথ্য পরবর্তীতে ক্যামব্রিজ এনালেটিকা নামক আরেক জরিপ প্রতিষ্ঠানের হস্তগত হয়।  অভিযোগ আছে, ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে রাজনৈতিক প্রচারণায় এসব তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।    



keya