৯:২৬ এএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০


চারটি প্রতিষ্ঠানকে টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দিল বিটিআরসি

০২ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৫৯ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম :  দেশে টেলিযোগাযোগ সেবায় যোগ হলো নতুন মাইলফলক।  চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোবাইল ফোন টাওয়ার অবকাঠামো ভাগাভাগি সংক্রান্ত টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। 

বৃহস্পতিবার বিটিআরসির প্রধান সম্মেলন কক্ষে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার প্রধান অতিথি চার প্রতিষ্ঠানের কাছে এই লাইসেন্স হস্তান্তর করেন।  এসময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক উপস্থিত ছিলেন। 

মোবাইল টাওয়ার অবকাঠামো সেবা প্রদানে সরকার অনুমোদিত চার প্রতিষ্ঠান হলো- ইডটকো বাংলাদেশ কো. লিমিটেড, সামিট টাওয়ারস লিমিটেড, কীর্তনখোলা টাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড ও এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড। 

মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষেণ ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি টাওয়ারের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা, ভূমি ও বিদ্যুতের সংকট ছাড়াও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব এর বিভিন্ন দিক বিবেচনায় মান সম্মত টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানে এ লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। 

টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স প্রদানের ফলে মোবাইল টাওয়ার লাইসেন্স রোল আউট এর উপর ভিত্তি করে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো কোনো নতুন টাওয়ার স্থাপন করতে পারবে না।  এছাড়া এক অপারেটর আরেক অপারেটরের নিকট আর টাওয়ার ভাড়া দিতে পারবে না।  কিন্তু লাইসেন্স পাওয়া টাওয়ার কোম্পানির কাছে তাদের টাওয়ার বিক্রি করতে পারবে। 

লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রথম বছরে প্রতিষ্ঠানসমূহকে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে।  দ্বিতীয় বছর জেলা শহর, তৃতীয় বছর ৩০ শতাংশ উপজেলা, চতুর্থ বছর ৬০ শতাংশ উপজেলা ও পঞ্চম বছর দেশের সব উপজেলায় টাওয়ার সেবা প্রদান করতে হবে। 

টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্সের জন্য ২৫ কোটি টাকা দিয়ে এ লাইসেন্স নিতে হবে, বার্ষিক নবায়ন ফি থাকবে ৫ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় বছর থেকে বিটিআরসির সাথে রাজস্ব ভাগাভাগি হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে জমা দিতে হবে ১% হারে।  লাইসেন্সের মেয়াদ কাল ১৫ বছর। 

উল্লেখ্য দেশে টাওয়ার শেয়ারিং সেবা প্রদানের জন্য টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স পেতে জুনে ৮ টি প্রতিষ্ঠান বিটিআরসির কাছে আবেদন করে।  এসব আবেদন মূল্যায়নে গঠিত ১৫ সদস্যের কমিটি মূল্যায়ন শেষে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে নম্বর দেয়। 

আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কমিটির মূল্যায়নে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠানকে টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হয়। 

কমিশনের সুপারিশক্রমে সরকার কর্তৃক গত ১৪ জুলাই ২০১৮ তারিখে চারটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে লাইসেন্স প্রদানের পূর্বানুমোদন পাওয়া যায় এবং ১৬ জুলাই টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে অনুমোদিত চারটি প্রতিষ্ঠানকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।