৫:৪৭ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




মালয়েশিয়া ছাত্রলীগ নেতা ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় দেশে ফিরলো প্রবাসীর মরদেহ

০৭ নভেম্বর ২০১৮, ১১:১৩ এএম | জাহিদ


আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া : মালয়েশিয়া ছাত্রলীগ নেতা ও সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের আর্থিক সহযোগিতায় দেশে ফিরলো দূর্ঘটনায় আহত হতভাগ্য এক প্রবাসীর মরদেহ। 

মালয়েশিয়া ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিয়াজ উদ্দীন ফাহাদী এবং সংশ্লিষ্ট প্রবাসীরা সম্মিলিত ভাবে আর্থিক সহযোগিতা করে এ মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। 

দূর্ভাগা ঐ প্রবাসী হলেন, দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বের গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে মোঃ কামাল উদ্দিন।  জানা গেছে, ২৫ শে অক্টোবর সকালে এক মর্মান্তিক মোটরবাইক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   পরে ২ রা নভেম্বর বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে কামাল উদ্দিনের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।                    

অনুসন্ধানে জানা যায়, আর্থিক স্বচ্ছলতার চাকা ঘুরাতে এবং পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে এসে পরিবারের সদস্যদের কে কাঁদিয়ে এ ভাবেই কামাল উদ্দিন পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে।  হয়তো আর মেয়ে কোন দিন ফোন করে বলবে না বাবা আমার জন্যে একটা সোনার মালা, ভাল ডাব সাবান, সাম্পু,পাঠাও আর কোন দিনও ডাকতে পারবে না বাবা ডাক।  হয়তো দুই একমাস পর আমরা ভুলে যাবো এই পরিবারের কথা। 

কিন্তু কেউ কি রাখবে এই রেমিটেন্স যোদ্ধা কুমিল্লা দাউদকান্দী উপজেলার, বিটেশ্বে গ্রামের পিতা আশরাফ উদ্দীনের ছেলে মোঃ কামাল হোসেনকে ? যিনি ২০০৮ সালে কলিং ভিসায় স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন।  যিনি ছিলেন সবার প্রিয় একজন ভালবাসার মানুষ পরিবারের একমাত্র উপর্জনকারী।  তাঁর এই অসহায় পরিবারে রয়েছে দুই কন্যা সন্তান এবং স্ত্রী ও বৃদ্ধ পিতা মাতা। 


এই কথাগুলোই বলতে ছিলেন মালয়েশিয়া ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিয়াজ উদ্দীন ফাহাদী, তিনি  প্রতিবেদককে আরও বলেন ২৫ অক্টোবর সকাল ১১ টায় কামাল হোসেন কাজের উদ্দেশ্যে মোটর সাইকেল যোগে রাস্তায় বের হন পথিমধ্যে ভ্যান লরিতে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়ে যান, পরে হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষনা দেন। 

মালয়েশিয়ায় থাকা কামালের মামা সিদ্দুকুর রহমান ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ উদ্দীন ফাহাদীর মাধ্যমে সহযোগিতার জন্যে ফোন করেন।  এর আগেও পেনাং এ একজন ব্যক্তির লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন এই ফাহাদী।  ফাহাদী বলেন যখন আমি বিষয়টি জানতে পারি জানার সাথে সাথে আমি সর্বিকভাবে সহযোগিতার জন্যে বিভিন্ন মানুষের দারস্তো হয় এবং তাদের এবং আমার সকল প্রচেষ্টার মাধ্যমে ২ নেভেম্বর রাত ২ টায় বাংলাদেশ বিমানে দেশে পাঠাতে সক্ষম হয়।  যারা বরাবরই আমাকে সহযোগিতা করেছিল তাঁর মধ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনার লেবার কাউন্সিলর মোঃ সায়েদূল ইসলাম । 

শ্রম শাঁখার প্রথম সচিব মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল।  মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের সংগ্রামী আহ্বায়ক রেজাউল করিম রেজা।  প্রবাসীদের বন্ধু  নামে খ্যাত মালয়েশিয়া শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মোঃ শাহ আলম হাওলাদের সহ আরো অনেকে।  কুমিল্লা প্রবাসী ঐক্য ফোরামের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল কাফী এবং সাধারন সম্পাদক মির্জা কামরুল হাসান।    

শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মোঃ শাহ আলম হাওলাদের মুটোফোনে জানান আমরা বাংলাদেশ হাইকিমশনের মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কামাল হোসেনের পরিবার যেন প্রবাসীকল্যান সংস্থা থেকে ৩ লাখ টাকা এবং তার কোম্পানী তাঁর জীবন বীমা বাবদ ২৫ হাজার রিঙ্গিত যা প্রায় ৫ লক্ষ্য টাকা আর্থিক অনুদান পায় ।  এবং আশা করি পাবে কারণ আমাদের জননেত্রী বিশ্ব শান্তির অগ্রদুত শেখ হাসিনা সব সময়ই প্রবাসীদের পাশে আছে এবং প্রবাসীদের জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন। 

রিয়াজ উদ্দীন ফাহাদী বলেন আমরা যারা দেশের বাহিরে উচ্চ্য শিক্ষার জন্যে এসেছি এবং যারা প্রবাসে ভাগ্যের চাকা সচল করতে এসেছে আমরা সবাই একেকটা পরিবারের অভিবাবক তাই আমরা যখনই রাস্তায় বাহির হবো অবশ্যই সর্তক ভাবে চলা ফেরা করবো যাতে কামালের মতো কোন রেমিটেন্স যোদ্ধা হারাতে না হয়।  তিনি আরো বলেন মালয়েশিয়া ছাত্রলীগ সব সময় প্রবাসীদের পাশে থাকবে এবং তাদের সাধ্য অনুযায়ী সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবো। 



keya