৬:২২ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




কুষ্টিয়ায় তিন দিনব্যাপী জাতীয় নজরুল সম্মেলনের উদ্বোধন

০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:৩১ পিএম | জাহিদ


এস.এম.জামাল, কুষ্টিয়া :  কুষ্টিয়ায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় নজরুল সম্মেলন।  কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও কবি নজরুল ইন্সটিটিউটের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 

বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পর শহরের  জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শুরু হয় ।  চলবে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। 

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কালেক্টরেট চত্বর থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।  শোভাযাত্রা শেষে দিশা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।   জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: হারুন-উর-রশিদ আসকারী।  সম্মানিত অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের সাবেক সচিব বেগম আকতারী মমতাজ। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন ডা: মমতাজ আরা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম।  মূখ্য আলোচক ছিলেন নজরুল ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক(অতি: সচিব) মো: আব্দুর রাজ্জাক ভূঞা, আলোচক ছিলেন স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তাক আহমেদ ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাসুদ রহমান।  স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নজরুল ইন্সটিটিউটের সচিব আব্দুর রহিম। 

প্রধান অতিথি তার তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন মানুষের কবি।  তিনি মানুষের মানবতার মুক্তির জন্য কাজ করে গেছে।  নজরুল একদিকে বাংলা গজল, হামদ্, নাত লিখেছেন আবার অন্যদিকে শ্যামা সংগীত কীর্তন লিখেছেন। 

এ রকম দ্বৈত ও সামগ্রিক সত্তার কবি বাংলা সাহিত্য দ্বিতীয়জন নেই।  যিনি সকল ধর্মীয় সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে নিজেকে বিশ্বমানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।  আর তাই আমাদের নজরুল হোক সারাবিশ্বের। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান নজরুলের সংগ্রামী চেতনাকে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের পাথেয় হিসেবে গ্রহন করেছিলেন।  তার সংগ্রামী চেতনার মূল্যায়ন করতে জাতির জনক ভুল করেননি।  তৎকালীন ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়েছিল এবং যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।  নজরুল সাহিত্যকর্ম ইংরেজি ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে আমরা একদিকে নজরুলকে বর্হিবিশ্বে যেমন পরিচিত করে তুলতে পারব তেমনি একটি অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক পৃথিবী গঠনের সহায়ক হবে। 

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, নজরুল নিজেই ছিলেন নিজের শিক্ষক।  নজরুল আমাদের প্রেরণা।  নজরুল আমাদের পথপ্রদর্শক।  নজরুলকে নতুন প্রজন্মের সান্নিধ্যে আনতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরুল চর্চা বাড়াতে হবে।  নজরুলকে আমাদের হৃদয়ে অনুভূতিতে আনতে হবে। 

এজন্য কবি নজরুলের আদর্শকে আমাদের অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।  আলোচনা শেষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।  অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। 



keya