১২:৩৯ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




ঝিনাইদহে নগ্ন যাত্রা ও জুয়ার আয়োজনে আইন শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল



আরাফাতুজ্জামান, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা শহরের নতুন ব্রীজের নিচে নগ্ন যাত্রা ও জুয়ার আসর বসানোর সব প্রস্তুতি শেষ করেছে মুক্তিযোদ্ধা পেটানো স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হাইয়ের ক্যাডাররা।  এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অবিলম্বে এই জুয়া-যাত্রা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন শৈলকুপাবাসী।  ইতোমধ্যে এলাকার ৩টি মাদ্রাসা, ৪টি মসজিদ কমিটিসহ ৯টি ইসলামী সংগঠন এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনকে।  এদিকে টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে আয়োজকদের মধ্যেও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।  আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। 

আগামী ২৯ ডিসেম্বর কুমার নদীর চরে মেলার নামে নগ্ন নৃত্য ও রমরমা জুয়ার আসরের উদ্বোধন করবেন ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই।  গত অক্টোবের মুক্তিযোদ্ধা মুক্তার আহমেদ মৃধাকে পিটিয়ে দেশজুড়ে সমালোচিত হন এই এমপি।  তার সেই পোষ্য ক্যাডাররা এই আয়োজন করেছে বলে স্থায়ীয়রা জানিয়েছেন। 

শৈলকুপা শহরের নতুন ব্রীজের নিচে যাত্রাপালার মঞ্চ তৈরী করা হয়েছে।  কেটে সাবাড় করা হয়েছে বন বিভাগের বহু গাছপালা।  টিনের ঘর করে সেখানে অবস্থান নিয়েছে ১৫ নারীসহ যাত্রাদলের অন্তত ৩০ জন সদস্য।  এরই মাঝে শুরু হয়েছে রমরমা জুয়ার আসর।  এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।  যাত্রাপালার নারীদের ঘরের আশপাশে উঠতি বয়সী কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী আর গ্রাম্য যুবকের আড্ডা জমে উঠেছে।  সন্ধ্যা হলেই যাত্রাপালার নারীদের ঘরে যেতে দেখা যাচ্ছে তাদের। 

এদিকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের ব্যানারে জুয়া-যাত্রার আয়োজন করায় স্থানীয় প্রশাসনও যেন অসহায়। 

 নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কিছুদিন আগে দেশব্যাপী জঙ্গি তৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিলো।  প্রশাসনের আন্তরিকতায় পরিস্থিতি এখন অনেকটা শান্ত।  গুলশানের হলি অর্টিজানে হামলার মূলহোতা জঙ্গি নিবরাসসহ দেশ কাপানো অনেক জঙ্গির ঘাঁটি ছিল ঝিনাইদহ শহরে।  এমনকি বিগত বিএনপি-জামায়াত আমলে সিরিজ বোমা হামলার হোতা জেএমবি প্রধান আব্দুর রহমানের ভাই আতাউর রহমান সানির ঘাঁটি ছিলো শৈলকুপায়।  এছাড়া সম্প্রতি র‌্যাব ও পুলিশের প্রকাশ করা নিখোঁজ জঙ্গিদের তালিকায়ও শৈলকুপার ৪ জনসহ ঝিনাইদহের বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে। 

প্রশাসনের ধারণা এখনো এ জেলায় জঙ্গিদের সহযোগীরা ঘাপটি মেরে থাকতে পারে।  এই ধারণা থেকেই গোটা ঝিনাইদহে জঙ্গিবিরোধী অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।  এই অবস্থার মধ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসে শৈলকুপার বসন্তপুর বাজরে ও অক্টোবর মাসে রতিডাঙ্গা চরে নগ্নতার অভিযোগে যাত্রাপালা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।  গত মাসে ভাটই বাজারে যাত্রাপালার নামে নগ্নতার বিরুদ্ধে মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করে স্থানীয় লোকজন।  ওই রাতেই র‌্যাব অভিযান চালিয়ে যাত্রামঞ্চ ভেঙে দেয় আটক করে চারজনকে। 

মাগুরা থেকে ভাটই বাজারে আসা ওই যাত্রাদলকে দিয়েই শহরের নতুন ব্রীজের নিচে আবারো জুয়া-যাত্রার আয়োজন করেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডাররা।   আয়োজকদের একটি সূত্র দাবি করেছে, টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ইতোমধ্যে তাদের মধ্যেই বিরোধ দেখা দিয়েছে  যা যেকোন সময় সংঘর্ষে রুপ নিতে পারে। 

তবে আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য ইমরান হোসাইন জানান, কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের উন্নয়নের জন্য তহবিল সংগ্রহের জন্যই স্থানীয় এমপি আব্দুল হাইয়ের পরামর্শে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।  জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় সম্প্রতি শৈলকুপা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উদীচীর সম্মেলনে সাংস্কৃতিক উৎসব বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন।  সেসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল আলম জঙ্গি হামলা আশঙ্কার কথা জানান।  তবে যাত্রাপালার আয়োজন নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি তিনি।  উপজেলা নির্বাহী অফিসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এমপি আব্দুল হাইয়ের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন এই যাত্রাপালার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। 

ইসলামী আন্দোলন শৈলকুপা উপজেলা শাখার সভাপতি রায়হান উদ্দিন জানান, ওই এলাকার মসজিদ মাদ্রাসাসহ মোট ৯টি সংগঠনের পক্ষ থেকে যাত্রাপালার নামে নগ্নতার বিরুদ্ধে তাদের আপত্তির কথা উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে।  এতে কাজ না হলে যাত্রা শুরুর প্রথম দিন থেকেই তারা আন্দোলনে যাবেন। 

কবিরপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বলেন, এলাকাবাসী এই নগ্ন জুয়া-যাত্রার আয়োজন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।  আমরা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। 

শৈলকুপা থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রাপালার আয়োজনের কথা শুনেছি।  তবে এর নামে কোন নগ্নতাকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। 

 

সম্পাদনায় - নিশি / এসএনএন২৪.কম