৯:১৯ পিএম, ২০ জানুয়ারী ২০১৯, রোববার | | ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০




সমাজে এমন কোন মানুষ নেই যে প্রজাপতিকে ভালবাসে না

০৪ জানুয়ারী ২০১৯, ০৭:২৫ পিএম | জাহিদ


মো.রাসেল ইসলাম, বেনাপোল (যশোর) : প্রকৃতিতে অত্যান্ত সুন্দর ও আকর্ষনীয় একটি প্রাণীর নাম প্রজাপতি।  সমাজে এমন কোন মানুষ নেই যে প্রজাপতিকে ভালবাসেনা। 

প্রজাপতির শরীর খুবই উজ্জল ও আকর্ষণীয় বলে এই সুন্দর প্রাণীটি সহজেই সকলের নজর কাড়ে।  গাছের ছোট বড় শাখা থেকে শুরু কের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে এদের দেখা মেলেনা।  নানান রঙ্গের বিভিন্ন সব প্রজাপতি তাদের রঙ্গিন ডানা ঝাপটে এরা উড়ে চলে।  

তাদের সেই দৃষ্টিনন্দন ডানা উড়িয়ে চলার দৃশ্য দেখে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মুখে যেন অজান্তেই হাসি চলে আসে।  দেশ কিংবা বিদেশের সব ধরনের চলচিত্র পাড়ায় নাটক কিংবা সিরিয়ালের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্যে রয়েছে এই সুন্দর মনোরম প্রকৃতির অপরুপ সৃষ্টি দৃষ্টিনন্দন প্রজাপতির ব্যবহার।  রয়েছে প্রজাপতি নিয়ে নাটক সিনেমা এবং শত শত গান কবিতা।  বাস্তব হোক কিংবা বাস্তবের বাইরে রঙবেরঙের প্রজাপতি দেখলেই সব শ্রেণির মানুষের অবুজ অবলা ও কঠিন মনটি ভালো হতে বাধ্য।  

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু দেশেই নই গোটা পৃথিবী জুড়ে রয়েছে প্রজাপতির ব্যবহার।  তবে বাংলার প্রকৃতিতেই রয়েছে ৩শ এর বেশি প্রজাতির প্রজাপতি আর গোটা পৃথিবীতে রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৫শ এর অধিক প্রজাতির প্রজাপতি।  রয়েছে এর নানা ব্যবহার নানা রঙ আর রয়েছে সবার নানা জাত ও নানান নাম। 

প্রতিটি প্রজাপতিই তাদের জন্মের পর থেকে তিন অথবা চার সপ্তাহ বেঁচে থাকে।  প্রজাপতি এমন একটি প্রাণি যার গুন রহস্য ও শাররীক গঠন নিয়ে বর্ণনা করতে গেলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা শেষ হয়ে যাবে পাশাপাশি শেষ হয়ে যাবে কলমের পর কলম।  

সুনন্দ বর্ণিল প্রজাপতি নিয়ে কাব্য সাহিত্যে আছে নানা বর্ণনা।  প্রকৃতির অনুসঙ্গ এ প্রজাপতি যেন মায়াবি মুগ্ধ পতঙ্গ।  আর এই প্রজাপতি নামক প্রতঙ্গটি যেন নিস্বর্গের অলংকার স্বরুপ।  অনাবিল সৌন্দর্যের প্রজাপতি  যেন সৃষ্টিকর্তার নিজ হাতে গড়া এক শিল্পিত প্রাণ। 

তবে প্রজাপতি যে শুধু মাত্র তার সৌন্দর্য দিয়েই মানুষের মন ভরে দেয়না, এর অপরুপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।  তার একটি হলো মৌমাছির মতো প্রজাপতিও ফুলের পরাগায়ন তৈরীতে সাহায্য করে।  অন্যের খাদ্য হিসাবে বাস্থানের খাদ্য শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে প্রজাপতি।  

তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, প্রজাপতি বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকায় প্রকৃতিতে জন্মানো গুল্ম জাতীয় গাছের পরাগায়ন ঘটিয়ে বর্ষাকালে পাহাড়ী ঢল হতে পাহাড়কে ধ্বসের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।  এজন্যই প্রজাপতির সাথে গাছপালার একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে যা সৃষ্টি কর্তার এক অপরুপ মহিমা।  এভাবে জানা অজানা বহু গুণাগুন রয়েছে প্রজাপতিকে নিয়ে।  তাইতো প্রজাপতিকে পরিবেশের বায়ো ইন্ডিকেটর বলা হয়।  

প্রজাপতির জীবন নিয়ে এত অভাবনীয় গুনাবলী থাকার পরও আজ প্রকৃতির আপন খেয়াল থেকে অনেক প্রজাতির প্রজাপতি প্রায় বিলুপ্তির পথে।  আর এর মুল কারণ হলো প্রজাপ্রতির বাসস্থান খাদ্য যোগানকারী নির্দিষ্ট গাছের অভাব।  নির্বিচারে বন উজাড় করে বাসস্থান তৈরী, বনে মানুষের দৌরাত্ম ও ধ্বংসের আগ্রাসন, শিল্পায়ন, জনসংসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অসচেতনতা ও অপরিকল্পিতভাবে কীটনাশক ব্যবহারে প্রকৃতির আপন বন্ধু বিনাশ হচ্ছে।  

পৃথিবীর সব প্রাণীই খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল তাই এই মানুষের জীবন প্রবাহের জন্যই এই অপরুপ সৈন্দর্যে ভারা প্রকৃতির স্বাস্থের প্রতিক প্রজাপতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে আমাকে আপনাকে।