৫:১৯ এএম, ১২ জুলাই ২০২০, রোববার | | ২১ জ্বিলকদ ১৪৪১




ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বিবাহ নিবন্ধন সনদ প্রচলন করতে যাচ্ছে চাকমা সার্কেল

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


এম.কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি : পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পাহাড়ি সমাজে বিবাহ নিবন্ধনসহ সনদ প্রদানের ব্যবস্থা প্রচলন করতে যাচ্ছে রাঙামাটির চাকমা সার্কেল।  এজন্য প্রথাগত রীতিনীতি ও আইন অনুযায়ী বিধান তৈরি হচ্ছে। 

মঙ্গলবার চাকমা রাজ কার্যালয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘প্রথাগত বিচার ব্যবস্থায় ডকুমেন্টেশন’ শীর্ষক এক পরামর্শমূলক কর্মশালায় প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। 

সকাল ১০টায় শুরু হওয়া দুই পর্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন, রাঙামাটির চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়।  স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা গ্রিন হিল-শিখা প্রকল্পের সহযোগিতায় চাকমা সার্কেল কর্মশালাটির আয়োজন করে। 

কর্মশালায় চাকমা সার্কেলের অধীন মৌজা হেডম্যান, কারবারিসহ প্রথাগত নেতৃত্ব, আইনজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধরা অংশ নেন।  এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি ও সাবেক রাঙামাটি জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রফেসর বাঞ্ছিতা চাকমা, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অঞ্জুলিকা খীসা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সভাপতি শক্তিপদ ত্রিপুরা, সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা, বিশিষ্ট আইনজীবী জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, দীননাথ তঞ্চঙ্গ্যা, শিক্ষাবিদ প্রফেসর মংসানু চৌধুরীসহ অন্যরা আলোচনায় অংশ নিয়ে মতামত দেন।  অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, গ্রিণহিলের উপ-নির্বাহী পরিচালক যতন কুমার দেওয়ান। 

কর্মশালায় প্রস্তাবে বলা হয়, প্রচলিত প্রথাগত আইন ও রীতিনীতি অনুযায়ী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিকভাবে বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন করা হয়।  এ জন্য কোনো প্রকার দালিলিক নিবন্ধন বা তথ্য সংরক্ষণের প্রয়োজন হয় না এবং বাংলাদেশ সরকারের স্বীকৃত আইনে বৈধ।  তবে তথ্য সংরক্ষণসহ যে কোনো প্রয়োজনীয় নিবন্ধন হওয়া দরকার।  এছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ জরুরি হয়ে পড়েছে।  তাই যার যার প্রয়োজনে যাতে বিবাহ সনদ সংগ্রহ করতে পারে সেজন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা। 
কর্মশালায় দালিলিক প্রয়োজনীয়তায় রেকর্ডভূক্ত রাখতে সার্কেল চিফসহ সংশ্লিষ্ট মৌজা হেডম্যান ও কারবারিদেরকে নিজেদের উদ্যোগে নিজ নিজ এলাকার বিবাহ নিবন্ধন সংরক্ষণের জন্য প্রস্তাব দেন চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়। 

তিনি বলেন, এখানকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাহ প্রথার রীতিনীতির বাইরে বর্তমানে এমন কিছু হচ্ছে, যা প্রথা সম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।  অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ধর্মীয় গুরুরাও বিয়ে পড়ান।  কিন্তু এটা কখনও বৈধ নয়।  প্রচলিত নিয়মে সামাজিকভাবে সম্পাদিত বিবাহ-ই বৈধ ও আইনসিদ্ধ।       

কর্মশালায় উত্থাপিত প্রস্তাবে চাকমা সার্কেলের অধীন পাহাড়িদের সামাজিকভাবে সম্পাদিত বিবাহের নিবন্ধনসহ সঠিক তথ্য সংরক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত হয়।  সংশ্লিষ্ট মৌজা হেডম্যান ও কারবারিরা নিজেদের উদ্যোগে তার ব্যবস্থাপনা করবেন এবং সেগুলো প্রতিবেদন আকারে পাঠাবেন সার্কেল চিফের কাছে।  সেই তথ্য অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ দেবেন সার্কেল চিফ, সংশ্লিষ্ট মৌজা হেডম্যান ও কারবারি।  তবে বিবাহ সনদ নেয়ার বাধ্যতামূলক কোনো শর্ত থাকবে না।  কেবল যার যার প্রযোজ্য ক্ষেত্রে যে কেউ এ সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন। 


সম্পাদনায় : পিডি/ এসএনএন২৪.কম


keya