৯:৪০ পিএম, ২০ জানুয়ারী ২০১৯, রোববার | | ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০




স্বামী আর পরকিয়া প্রেমিকই জবাই করে হত্যা করে জান্নাতকে!

১১ জানুয়ারী ২০১৯, ০৮:৩৯ পিএম | জাহিদ


আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) : পরকীয়া প্রেমের বলি হলেন জান্নাত।  স্বামীর সহযোগিতায় পরকীয়া  প্রেমীকের হাতেই খুন হয় সে।  এমন স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দিয়েছে পুলিশের কাছে গ্রেফতার হওয়া প্রেমীক পলাশ। 

গ্রেপ্তার পলাশ আহমেদ (২২) ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।  সে স্কয়ার গার্মেন্টেসে চাকুরী করে। 

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের যোগিরসিট গ্রামের বেগুন ক্ষেতে গলা, হাত ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয় জান্নাতুল আক্তারকে। 

এ ঘটনায় গৃহবধূর ভাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার ৩দিন পর পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়।  

বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর মডেল থানার চৌকস  উপপরিদর্শক (এসআই) মো.শহিদুল ইসলাম মোল্লার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পলাশকে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকার থানার স্কায়ার মাস্টার বাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। 

এস.আই শহিদুল ইসলাম মোল্লা বলেন,গাজীপুর পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গৃহবধূ জান্নাতের মোবাইল ফোনের রেকর্ড হাতে নিয়ে মামলাটির তদন্ত কাজ শুরু করি।  যেখানে দেখা যায় গ্রেপ্তার পলাশের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার থেকে হত্যার দিন সন্ধ্যায় জান্নাতের সাথে একাধিক বার কথা হয়।  এর আগেও এই নাম্বার থেকে প্রায় সময়ই  কথা হতো জান্নাতের সঙ্গে।  তদন্ত করে প্রাথমিক ভাবে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়।  পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করে। 

তিনি আরো জানান, গত সাত মাস পূর্বে জান্নাতের সাথে পরিচয় হয় পলাশের।  এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের পাশাপাশি শারীরিক সম্পর্কও গড়ে উঠে।  জান্নাত বিয়ের প্রস্তাব দিলেও রাজি হয় নি পলাশ।  তখন জান্নাত ৫০ হাজার  টাকা দাবি করে পলাশের কাছে।  দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পলাশের বাড়িতে উঠে পরার হুমকি দেয় জান্নাত।  সেই ভয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিয়ের কথা বলে জান্নাতকে ডেকে আনে পলাশ।  পরে যোগিরসিট গ্রামের মোস্তাফা কামালের বেগুন ক্ষেতে নিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় সে।  এ ঘটনায় জান্নাতের স্বামীর সহযোগিতা রয়েছে বলেও জানায় সে। 

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদুল ইসলাম বলেন, অপরাধ করে আইনের চোখ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।  মামলার ৩দিনের মধ্যে এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন পুলিশের সফলতা।