৩:৫৫ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০




বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারে তথ্যমন্ত্রীর সতর্কতা

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭:২১ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : সরকারি অনুমোদন ছাড়া কর না দিয়ে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার আইনগতভাবে অপরাধ বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুুদ। 

শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।  সম্প্রচার সাংবাদিকদের নবগঠিত সংগঠন ‘সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্রে’র উদ্বোধন ও ‘সম্প্রচার সম্মেলন’ উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশি চ্যানেল প্রদর্শন কোনো অপরাধ নয়।  কিন্তু কর না দিয়ে সরকারের অনুমতি ছাড়া বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।  যাঁরা এই কাজগুলো করছেন, তাঁরা আইন লঙ্ঘন করছেন।  আমি আশা করবো, সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই তারা এসব থেকে বিরত হবেন।  এ সময় তিনি দেশের গণমাধ্যম অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে স্বাধীন বলেও দাবি করেন।  রেডিও-টেলিভিশনের সাংবাদিকদের বেতন-কাঠামোর জন্য আলাদা নীতিমালার বিষয়েও সম্প্রচার সম্মেলনে আশ্বাস দেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। 

এর আগে ‘সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্রে’ ও ‘সম্প্রচার সম্মেলনে’র উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।  এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কল্যাণমূলক ও ঝুঁকি মোকাবেলা, পেশাগত ও অর্থনৈতিক সমতা বাড়ানো, গবেষণা ও নীতি সহায়তা লক্ষকে সামনে নিয়ে সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র যেন কার্যকরভাবে এগিয়ে যেতে পারে।  তিনি বলেন, সম্প্রচার সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত সব সাংবাদিক যেন এই প্ল্যাটফর্ম থেকে তাদের ল্যগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। 

পরে এটিএন নিউজের বার্তাপ্রধান মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় ‘সম্প্রচার শিল্প: একটি সম্ভাবনার সংকট’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।  ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনায় অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বাবু, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম ও জিটিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন প্রমুখ। 

এতে আসাদুজ্জামান নুর বলেন, আমাদের দেশের কিছু টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের রেটের ক্ষেত্রে আপোষ করে।  ফলে বিজ্ঞাপনের রেট কমে যায়।  এক্ষেত্রে টেলিভিশন মালিকরা একত্র হয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে।  তারা বলতে পারে আমরা এত টাকার নিচে বিজ্ঞাপন নেব না। 

শাহ আলমগীর বলেন, আমাদের সম্প্রচার মাধ্যম শুরু থেকে একটি জালের মধ্যে পড়ে গেছে।  এটা হল বিজ্ঞাপনদাতাদের সাথে টেলিভিশনের সম্পর্ক।  সম্প্রতি সরকার একটি সম্প্রচার কমিশন আইন করতে যাচ্ছে।  এতে সাত জন ব্যক্তি স্বাধীনভাবে কাজে করবেন।  তারা টেলিভিশন ও বিজ্ঞাপনের বিষয়গুলো দেখবেন। 

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা টেলিভিশনকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারে মন্তব্য করে মোজাম্মেল হক বাবু বলেন, আমাদের টেলিভিশনগুলো গণমাধ্যম নয়, বরং এগুলো কর্পোরেট ফান্ডেড।  তাই টেলিভিশনকে বাচাঁতে এর শেয়ার দর্শকের কাছে ছেড়ে দিতে হবে।  যাতে তাদের কাছ থেকে পাওয়া আয়ে টেলিভিশন চলতে পারে।  আমরা সবাই মিলে টেলিভিশনকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারি। 

আলোচনায় অংশ নিয়ে নঈম নিজাম বলেন, গত ১৮/২০ বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ওয়েজ বোর্ড টেলিভিশন করতে পারিনি আমরা।  এটাই বাস্তবতা।  প্রিন্ট মিডিয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি ছাড়া কেউ পূণাঙ্গ ওয়েজ বোর্ড দেয় না।  আমাদের প্রশিক্ষণ, দক্ষকর্মীসহ নানা কিছুর সংকট আছে।  চ্যালেঞ্জের জায়গাগুলো রয়ে গেছে।  এসব সংকট মোকাবেলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। 

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, বিগত দুই দশকে টেলিভিশনের অনেক উন্নতি হয়েছে।  কিন্তু আমরা এখনো সংগঠন পর্যায়ে আছি, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাইনি।  আজকে আমাদের দাবি টেলিভিশনকে বাচাঁতে হবে।  এজন্য টেলিভিশন মালিকদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। 

আশরাফুল আলম খোকন বলেন, সামাজিক মাধ্যমগুলোতে প্রায় ৩০ শতাংশ বিজ্ঞাপন চলে যায়।  আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাছে বিজ্ঞাপন পাঠায়।  এক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।  তবে, এই পেশাকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাংবাদিকদেরই চেষ্টা করতে হবে। 

শুক্রবারের এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করল টেলিভিশন সাংবাদিকদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র’।  মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক রেজোয়ানুল হক সংগঠনের চেয়ারম্যান ও একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ সংগঠনটির সদস্যসচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।