৮:২০ এএম, ২২ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার | | ১৬ শা'বান ১৪৪০




নান্দাইলে থ্যালাসামিয়ায় রোগে আক্রান্ত শিশু কবিতা বাচঁতে চায়

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৫৮ পিএম | জাহিদ


মো. শাহজাহান ফকির, নান্দাইল : বাচঁতে চায় কবিতা।  চটপটে শিশু কবিতা।  প্রতিদিন স্কুলে যায়।  মক্তবে পড়ে।  গ্রামের ধুলাবালুতে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করে।  সবেমাত্র প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।  বয়স ৬ বছর।  কিন্তু এমন দুরন্তপনা শিশুটি নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে।  শরীরে ধরা পড়েছে থ্যালাসামিয়া। 

এ নিয়ে ঢাকার জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও তাকে সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসেনি।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করা হলেও কোন ধরনের চিঠি আসেনি।  সেই কবিতা বাচঁতে চায়।  জানাযায়, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার অরণ্যপাশা গ্রামের আমজদ আলীর পুত্র হেলাল মিয়া ও মোর্শেদা খাতুনের মেয়ে শিশু কবিতা।  কবিতা তাদের ২য় সন্তান। 

পূর্বে মোর্শেদার এক ছেলে সন্তান ৪ বছরের মাথায় একই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।  এরপর বছর পরেই মোর্শেদার কোলে মেয়ে শিশু দোল খায়।  বাবা-মা ফুটফুটে মেয়েটির নাম রাখে কবিতা।  কিন্তু দুই মাস পরেই মা-বাবার কষ্টের জীবন সংসারে নতুন দূর্ভোগের ধ্বনি আসে।  শিশু কবিতা ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। 

পরে ডাক্তারী পরীক্ষায় ধরা পড়ে শিশু কবিতা থ্যালাসামিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে।  কবিতার বাবা দিন মুজুরি করে এবং মা পরের বাড়িতে কাজ করে কোন মতে সংসার চালায়।  তবু দিনরাত পরিশ্রম করে ও বিভিন্ন সহযোগীতায় শিশু কবিতার দেহে রক্ত ভরার টাকা যোগাড় করতে হয়।  এরপূর্বে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার করিয়েও কোন লাভ হয়নি। 

কবিতার মা মোর্শেদা জানান, অর্থের অভাবে মেয়ের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না।  এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে মেয়েকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই।  ডাক্তারী পরীক্ষায় থ্যালসামিয়া ধড়া পড়েছে।  তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মাদ্রাজ নিতে হবে। 

কবিতার বাবা হেলাল মিয়া জানান, প্রতিমাসে মাসে তার শরীরে রক্ত দিতে হয় এবং প্রতিদিন ঔষধের খরচ পড়ে দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।  অরন্যপাশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এমন একটি শিশুর শরীরে ক্যানসার ভাবতে অবাক লাগে। 

কয়েক দিন আগে স্কুলে এসে তার মা বিষয়টি জানালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কিছু টাকা সংগ্রহ করে দিই তার চিকিৎসার খরচের জন্য। ’ শিশু কবিতা আক্তারকে চিকিৎসা বা সাহায্যের জন্য ০১৯২২৬০৭৮২০ এই নম্বরে বা যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানান হেলাল উদ্দিন।