১০:৩০ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার | | ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




আজ মধ্যযুগের কবি হেয়াত মামুদ–এর মৃত্যুবার্ষিকী

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:২০ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : আজ মধ্যযুগের কবি কাজী হেয়াত মামুদের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।  এই কবির জন্ম ও মৃত্যু তারিখ কেউ বলতে না পারলেও সরকারিভাবে জেলা প্রসাশনের উদ্যোগে প্রতি বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। 

১৬৮০ থেকে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে অথ্যাৎ সাড়ে তিনশ বছরের অধিক কাল আগে যে কোনো এক সময়ে মধ্যযুগের কবি কাজী হেয়াত মামুদ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলাধীন চৈত্রকোল ইউনিয়নের ঝাড়বিশলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  তার বাবার নাম কবির খাঁন, দাদা দাউদ খাঁন।  কবিতার মাধ্যমে তিনি অমর হয়ে আছেন।  বাংলা সাহিত্য নিয়ে তিনি বেশ কিছু কাব্য রচনা করেন।  এর মধ্যে জঙ্গনামা বা মহরম পর্ব, সর্বভেদ বানী, হিতজ্ঞান বানী ও আম্বিয়া বানী উল্লেখযোগ্য। 

‘যার বিদ্যা নাই সে জানে না ভাল মন্দ, শিরে দুই চক্ষু আছে তথাপি সে অন্ধ’ এ রকম বেশ কিছু মহান বানী কবির রয়েছে।  

১৭৬০ থেকে ১৭৬৫ খিস্ট্রাব্দের মধ্যে যে কোনো এক সময়ে ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সে কবি ইন্তেকাল করেন।  কবির মৃত্যুর পর ঝাড়বিশলায় মাজার গড়ে উঠে।  সেখানে প্রতিনিয়ত শত শত মানুষ কবির মাজার জিয়ারত করতে আসেন। 

কবির স্মৃতি ধরে এলাকার দানশীল ও ধর্মপ্রাণ মানুষ কবির নামে ঝাড়বিশলায় একটি আলিম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।  উপজেলা সদরেও কবির নামে একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল রয়েছে।  যা উপজেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে পরিচালিত হয়। 

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী ১৭ ফ্রেরুয়ারি ৫ ফাল্গুন পালিত হয়ে আসছে।  এদিন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা হয়ে থাকে। 

এছাড়াও সারারাত ব্যাপী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ওয়াজ মাহফিল, জিকির, দোয়া, ফাতেহাপাঠ ও তবারক বিতরণ করা হয়।  

সরকারি জেলা পরিষদের উদ্যোগে কবির স্মৃতি কেন্দ্র স্থাপিত করা হয়েছে। 

কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে রংপুর জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে মাজার জিয়ারত, কবির জীবনী ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা, হামদ-নাত, ভক্তিমুলক গান, রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।  এতে জেলা প্রশাসক এনামুল হাবিবের সভাপতিত্বে বেগম রোকেয়া কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম মুখ্য আলোচক, এ্যাডভোকেট এমএ বাশার আলোচক থাকবেন।